


কাঠমাণ্ডু: ধীরে ধীরে স্বাভাবিক ছন্দে ফিরছে নেপাল। সোশ্যাল মিডিয়ার উপর নিষেধাজ্ঞার জেরে ৮ সেপ্টেম্বর যে অশান্তির সূচনা হয়েছিল, তা এখন অতীত। বরং অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সুশীলা কারকির উপর ভরসা রেখেছে ‘জেন জি’। শুক্রবারই সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি কারকির হাতে দেশের দায়িত্বভার তুলে দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট রামচন্দ্র পৌডেল। সেইসঙ্গে ২৭৫ সদস্যের নেপালি সংসদ ভেঙে দেওয়ার ঘোষণাও করেছেন তিনি। জানিয়ে দিয়েছেন, আগামী ৫ মার্চ দেশের সাধারণ নির্বাচন হবে। অর্থাৎ, বাংলাদেশ হল না নেপাল। অর্থাৎ, হাতে সময় মাত্র ছ’মাস। এর মধ্যেই যাবতীয় সংস্কারের কাজ সেরে ফেলতে চাইছেন কারকি। রবিবার তিনি নিজেই জানিয়েছেন, ‘ক্ষমতার প্রতি আমি ও আমার সহকর্মীরা লালায়িত নই। ছ’মাসের বেশি আমরা ক্ষমতায় থাকব না। নতুন সংসদের হাতে সেই ক্ষমতা আমরা তুলে দেব।’
নেপালের ‘জেন জি’র আস্থার প্রতীক তিনি। তাঁর মুখের দিকে তাকিয়ে আশ্বস্ত হয়ে ঘরে ফিরে গিয়েছেন নেপালের উত্তেজিত ছাত্র-যুব সমাজ। শান্ত হয়েছে দেশ। তাই অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁর গুরুদায়িত্ব সম্পর্কে ওয়াকিবহাল সুশীলা। তাঁর বার্তা, ‘আপনাদের সমর্থন ছাড়া আমরা সফল হতে পারব না। আমি কখনও ২৭ ঘণ্টার বিক্ষোভের জেরে এতবড় পরিবর্তন দেখিনি। আমাদের দৃঢ়তার সঙ্গে কাজ করতে হবে।’ তবে ভাঙচুরের রাজনীতি যে তিনি পছন্দ করেন না, তা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধানমন্ত্রী। তাঁর কথায়, ‘প্রতিবাদের নামে কী ঘটল দেখুন। মনে হচ্ছে, পরিকল্পনা করে এমনটি ঘটানো হয়েছে।’ এরপরেই তাঁর ঘোষণা, ‘ব্যক্তিগত সম্পত্তিতে আগুন লাগানো হয়েছে। আমরা কাউকে রেয়াত করব না। ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দেবে সরকার। সহজ শর্তে ঋণ বা অন্য কোনও উপায়ে সহায়তা করা হবে। ভাঙচুর বা অগ্নি সংযোগ নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার তদন্ত করবে।’
এই অবস্থায় কারকির উত্থান নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে সর্বত্র। সেই আলোচনার সূত্রেই উঠে আসছে ডিসকর্ড মেসেজিং অ্যাপ। নেপালি গেমারদের কাছে এই অ্যাপ বহুল পরিচিত। সেই অ্যাপেই ভোটাভুটিতে কারকিকে পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বেছে নেয় ‘জেন জি’। জানা গিয়েছে, ডিসকর্ড অ্যাপেই খোলা হয় আলাদা আলাদা গ্রুপ। এগুলির পোশাকি নাম সার্ভার। এক একটি সার্ভারে কয়েক লক্ষ পর্যন্ত সদস্য থাকতে পারেন। নেপালের প্রধানমন্ত্রী পদে কে পি ওলির পদত্যাগের পরেই ‘ইয়ুথ এগেইনস্ট করাপশন’ নামের সার্ভারে এই নিয়ে ভোটাভুটি হয়। সার্ভারের ১ লক্ষ ৩০ হাজারের বেশি সদস্য ভোট দেন। প্রাথমিকভাবে কারকির পাশাপাশি নেপালের ক্রিকেটার সাগর দহল, বিদ্যুৎ দপ্তরে প্রাক্তন ম্যানেজিং ডিরেক্টর কুল মান ঘিসিংয়ের নাম নিয়ে আলোচনা হয়। ১০ সেপ্টেম্বর সার্ভারের সদস্যরা কারকির নামে সহমত হন। সেনাপ্রধান অশোক রাজ সিগদেলের সঙ্গে বৈঠকের সময় কারকির নাম প্রস্তাব করেন আন্দোলনকারীদের প্রতিনিধিরা। এরপর ৭৩ বছর বয়সি কারকির নামে সিলমোহর দেন প্রেসিডেন্ট রামচন্দ্র পৌডেল।