


সুদীপ্ত রায়চৌধুরী, চাকদহ: ভোট আবহে রাজ্যের সর্বত্র প্রার্থীদের পাখির চোখ একটাই—জনসংযোগ। তার জন্য কেউ ভোটারের দাড়ি কামিয়ে দিচ্ছেন, কেউ দাওয়ায় বসে বানিয়ে দিচ্ছেন রুটি, কেউ বা আবার ভোটারের সঙ্গে হাত লাগিয়েছেন রান্নায়। তা নিয়ে হাসির রোল উঠেছে ভোটারদের মধ্যেই। পাশে থাকার এই প্রতিযোগিতার আবহে কিছুটা ব্যতিক্রম চাকদহ। নদীয়া দক্ষিণের এই গুরুত্বপূর্ণ বিধানসভা কেন্দ্রে ভোটারদের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগের জন্য তৃণমূল, বিজেপি ও সিপিএম তিন রাজনৈতিক দলেরই ভরসা ‘পাড়া বৈঠক’।
অতীতে ৩৪ বছরের জমানায় গ্রামে গ্রামে ঘুরে চাটাই পেতে পাড়া বৈঠক করতে দেখা যেত বামেদের। চাকদহের এই কেন্দ্রের বিদায়ী বিধায়ক তথা বিজেপি প্রার্থী বঙ্কিম ঘোষ (অতীতে বাম) ও সিপিএম প্রার্থী নারায়ণ দাশগুপ্তকে রুখতে বাম জমানার সেই টোটকাই প্রয়োগ করেছেন তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী শুভঙ্কর সিংহ (যীশু)। গ্রামাঞ্চলের পাশাপাশি দু’বেলা নিয়ম করে চাকদহ পুরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে পাড়া বৈঠক করছেন তিনি। চলছে চা চক্রও। র্যালি, বা জনসভার বদলে এভাবে জনসংযোগ কেন? শুভঙ্কর বলেন, ‘এই ধরনের বৈঠকে মানুষ স্বচ্ছন্দে নিজেদের সমস্যা, প্রয়োজনীয়তার কথা বলতে পারেন। মিছিল, জনসভাও হবে। কিন্তু পাড়া বৈঠকে পারস্পরিক সম্পর্ক আরো মজবুত হয়। আমরা সাধারণ মানুষের অভিযোগ শুনে সেগুলি দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করছি। এখানকার বিধায়ক ও সাংসদ দু’জনেই বিজেপির। কিন্তু তাঁরা কোনো কাজই করেননি। আমরা পুরসভায় থেকে যতটা সম্ভব কাজ করেছি। এখনও করছি।’
মূলত কী ধরনের আলোচনা হচ্ছে পাড়া বৈঠকে? স্থানীয় সূত্রে খবর, তৃণমূল প্রার্থীকে হাতের কাছে পেয়ে এলাকার ছোটো-বড়ো নানান সমস্যার কথা তুলে ধরছেন বাসিন্দারা। কেউ আবর্জনা নিয়মিত সাফাই হয় না বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। কেউ জানান, গ্রামের রাস্তার একাংশে লাইট না থাকার সমস্যার কথা। শুভঙ্করের কথায়, এই ধরনের সমস্যাগুলি ২৪-৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সমাধান করা হচ্ছে। চাকদহ শহরে আবর্জনার সমস্যা প্রায় নেই বললেই চলে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সহযোগিতায় একাধিক রাস্তার কাজ চলছে। বিজেপি বিধায়ক চাকদহ-বনগাঁ রোডে সাঁতার কাটার অভিনয় করেছিলেন। কাজের কাজ কিছু করেননি। আমাদের অনুরোধে রাজ্য সরকার এই প্রকল্পে ২২ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করেছে। সেই কাজও শুরু হয়েছে।
পাড়া বৈঠকে পিছিয়ে নেই বিজেপিও। ভোটারদের বাড়ি বাড়ি ঘোরার পাশাপাশি পাড়া ও গ্রাম বৈঠক শুরু করেছেন বিজেপি প্রার্থী বঙ্কিম ঘোষ। তিনি বলেন, ভিন রাজ্যের বিজেপি নেতা ও পাঁচটি মণ্ডলের প্রতিনিধিদের নিয়ে এলাকায় এলাকায় ঘুরে ৩০-৪০টি পরিবারকে নিয়ে পাড়া বৈঠক করছি। গ্রাম বৈঠকও হচ্ছে। বিরোধী দলের বিধায়ক হওয়ার কারণে ইচ্ছা থাকলেও অনেক কাজ করতে পারিনি, পাড়া বৈঠকে মূলত সেকথাই মানুষজনকে বলছি। জিতে ক্ষমতায় এলে নিকাশি, রাস্তার মতো সমস্যাগুলি সমাধানে জোর দেব।
একদা বামেদের ‘পেটেন্ট’ নেওয়া পাড়া বৈঠক করছে সিপিএমও। প্রার্থী নারায়ণ দাশগুপ্তের কথায়, ‘আমরা মিছিলের পাশাপাশি পাড়ায় পাড়ায় মানুষের কাছে যাচ্ছি। তাঁদের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বোঝাচ্ছি। রাজ্যে কর্মসংস্থান নেই, নিয়োগ নেই। রাস্তাঘাট ভেঙে গিয়েছে। কিন্তু বিজেপি সাংসদ বা বিজেপি বিধায়কের দেখা মেলে না।’ ভোটের আগে প্রতিশ্রুতি দিলেও শেষ পর্যন্ত তৃণমূল বা বিজেপি মানুষের জন্য কাজ করবেন না বলেও দাবি করেন তিনি। পাড়া বৈঠকে শুভঙ্কর সিংহ।