


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজ্যের অন্যান্য প্রান্তের মতো জঙ্গলমহলের জেলাগুলিতেও উন্নয়নের কাজ চলছে জোরকদমে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার লক্ষ্যে দফায় দফায় পরিদর্শনে যাচ্ছেন দপ্তরের পদস্থ কর্তারা। নজরদারির পাশাপাশি কাজের গুণমান নিয়েও কড়া রাজ্য। তাই কাজে গাফিলতি প্রমাণিত হওয়ায় একাধিক ঠিকাদারকে শোকজ, প্রয়োজনে কালো তালিকাভুক্ত করার পথেও হাঁটছে পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন দপ্তর।
গত ১৪ বছর ধরে জঙ্গলমহলের সাত জেলার (পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পশ্চিম মেদিনীপুর, বীরভূম, ঝাড়গ্রাম, পূর্ব বর্ধমান এবং পশ্চিম বর্ধমান) উন্নয়ন ছিল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘পাখির চোখ’। মাওবাদী আতঙ্কে ইতি টেনে সেই কাজে সফলও হয়েছেন তিনি। শান্তি ফিরে আসায় পুরুলিয়া, পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রামে উপচে পড়ছে পর্যটকদের ভিড়। চলতি অর্থবর্ষে পশ্চিমাঞ্চল উন্নয়ন খাতে প্রায় ৭৫২ কোটি টাকা ধার্য করেছে রাজ্য। এই মুহূর্তে শুধুমাত্র এই দপ্তরের মাধ্যমে ১৩৫ কোটি টাকা অর্থমূল্যের প্রকল্পের কাজ চলছে। তৈরি হচ্ছে নতুন রাস্তা। আরও ১৩০টি জায়গায় ওয়াটার পিউরিফায়ার বসানো, অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র সংস্কার, স্কুলবাড়ি সংস্কার সহ শতাধিক প্রকল্পের কাজ চলছে। কিছু দিন আগে একটি প্রশাসনিক সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছিলেন, গুণমান বজায় রেখে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে হবে। এর জন্য আধিকারিকদের ফিল্ড ভিজিট বা সরেজমিনে পরিদর্শন বাড়ানোর কথা বলেন তিনি। সেই মতো দপ্তরের সচিব রেশমি কমল থেকে শুরু করে সমস্ত স্তরের আধিকারিক সরেজমিনে কাজের অগ্রগতি এবং গুণমান যাচাই করতে পৌঁছে যাচ্ছেন জেলায় জেলায়।
গত কয়েক সপ্তাহে পরিদর্শন চলাকালীন ঝাড়গ্রামের একটি ব্রিজের সংযোগকারী রাস্তার বেহাল দশা আধিকারিকদের সামনে আসে। জানা যায়, ঠিকাদারের গাফিলতির কারণে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ হয়নি। এক ঠিকাদার আবার ঝাড়গ্রাম এবং পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার দু’টি রাস্তার কাজের বরাত পেলেও দীর্ঘদিন ধরে সেই কাজ শেষ করতে পারছেন না। দু’-একজন ঠিকাদার ভুল তথ্য দিয়ে কাজ পেয়েছিলেন বলেও অভিযোগ। এই ধরনের ঘটনাগুলি তালিকাবদ্ধ করে অনুসন্ধান চালায় দপ্তর। গাফিলতি প্রমাণিত হওয়ায় কালো তালিকাভুক্ত করা হয় তিন ঠিকাদার সংস্থাকে। আরও তিন ঠিকাদার সংস্থার কাছে কাজে দেরি হওয়ার কারণ জানতে চাওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর। এসব পদক্ষেপের ফলে কাজের গতি বাড়ছে বলেই দাবি প্রশাসনিক মহলের।