


সৌম্যজিত সাহা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: বাংলার বাড়ি প্রকল্পের কাজ নিয়ে জেলায় জেলায় ব্যস্ততা চলছে। কিন্তু এই প্রকল্পের আগে আবাস প্লাসের মাধ্যমে যাঁরা বাড়ি পেয়েছিলেন, তাঁদের মধ্যে সবাই গৃহ নির্মাণ করেছেন কিনা তা নিয়ে এতদিন কোনরকম খোঁজখবর নেওয়া হয়নি। পঞ্চায়েত দপ্তর নতুন করে এই ব্যাপারটি নিয়ে জেলাগুলিকে তথ্য সংগ্রহ করে রিপোর্ট দিতে বলে। আর সেটা করতে গিয়েই দেখা গেল, দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলায় ৬ হাজার উপভোক্তা বাড়ি তৈরি করতে পারবেন না। সে কথা দপ্তরকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে আরও ৬০০ জন তাঁদের বাড়ি তৈরি করার মত পরিস্থিতি রয়েছে বলে জানিয়েছেন। এই উপভোক্তাদের দু মাসের মধ্যে বাড়ি তৈরি করার নির্দেশ দিয়েছে বিভিন্ন ব্লক প্রশাসন।
সূত্রের খবর, জেলায় এই প্রকল্পে প্রায় পাঁচ লক্ষ বাড়ি বরাদ্দ করেছিল কেন্দ্রীয় সরকার। বড় জেলা হওয়ার সুবাদে সংখ্যাটা অনেকটাই বেশি। উপভোক্তারা টাকা পেয়ে কাজ এগতে থাকলেও একটা সময়ের পর তা থমকে যায়। একশ্রেণীর মানুষ প্রথম কিস্তির টাকা পেয়ে কাজ শুরু করেননি আবার একটি অংশ অর্ধেক করেই ছেড়ে দিয়েছিলেন। যে সময়কালে এই প্রকল্পটি চলছিল তখন করোনা থাবা বসিয়েছিল বিশ্বজুড়েই। ফলে অনেকেই বাড়ির টাকা দিয়ে অন্যান্য খাতে খরচ করেছিলেন। তারপরও ক্রমশ দপ্তর থেকে এই উপভোক্তাদের বাড়ি শেষ করার চাপ দেওয়া হচ্ছিল। তাতে কিছুটা কাজ হয়ও। কিন্তু তারপর আবাস সফট প্রকল্প চালু হয়। রাজ্যের জন্য বরাদ্দ হয়েছিল বিপুল সংখ্যক বাড়ি। কিন্তু শেষমেশ কেন্দ্রীয় সরকার বাড়ির টাকা বন্ধ করে দিলে তখন রাজ্য সরকার নিজের উদ্যোগে উপভোক্তাদের টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। এই প্রক্রিয়ার মধ্যে আবাস প্লাসের অগ্রগতি একপ্রকার ঠাণ্ডা ঘরে চলে যায়। সেটা নিয়েই এখন আবার নতুন করে খোঁজখবর নিতে শুরু করেছেন দপ্তরের আধিকারিকরা। দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা প্রশাসন ইতিমধ্যে বিভিন্ন ব্লকের সঙ্গে কথা বলে রিপোর্ট তৈরি করেছে। যাঁরা এখনও বাড়ি তৈরি করেননি তাঁরা আর সেটা করবেন না বলে জানিয়েছেন।। এদিকে যে ৬০০ জন বাড়ি করার কথা ঘোষণা করেছেন তাদের দ্বিতীয় কিস্তির টাকা ছাড়া হবে বলে খবর।