নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: ন্যাশনাল হেরাল্ড মামলায় ইডি’র চার্জশিটে সোনিয়া-রাহুল গান্ধীর নাম যুক্ত হওয়ার ঘটনায় নাম না করে নরেন্দ্র মোদি-অমিত শাহর বিরুদ্ধে বুধবার তোপ দাগল কংগ্রেস। এআইসিসিসির প্রধান মুখপাত্র জয়রাম রমেশ দলের সদর দপ্তর ২৪ আকবর রোডে এদিন এক সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন, যেখানে কোনও অর্থের লেনদেনই হয়নি, আর্থিক তছরুপের কোনও ঘটনাই ঘটেনি, সেখানে ফৌজদারি মামলা করা হয়েছে গান্ধী পরিবারের দুই সদস্যর নামে। এখানে ক্রিমিনালিটির কোনও বিষয়ই নেই। জয়রাম বলেন, আসলে সরকারের দুই ব্যক্তি ভুয়ো তথ্য সামনে রেখে মানুষকে বিভ্রান্ত করছেন। তাঁদের মানসিকতাই অপরাধীর। ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ ফেল। তাই ‘ফেক ইন ইন্ডিয়া’ চালাচ্ছেন ওই দুজনে। এরইমধ্যে হরিয়ানার গুরুগ্রামে জমি চুক্তিতে অনিয়মের অভিযোগে বুধবার ফের দিল্লির ইডি দপ্তরে হাজিরা দিলেন প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর স্বামী রবার্ট ওয়াধেরা। স্ত্রী প্রিয়াঙ্কার সঙ্গে আলিঙ্গনের পর ইডি দপ্তরে প্রবেশ করেন তিনি। তার আগে রবার্ট বলেন, আমরা কাউকে ভয় পাই না।
ন্যাশনাল হেরাল্ড ইস্যুতে এদিন সকালে গান্ধী পরিবারকে আক্রমণ করেন বিজেপির প্রবীণ নেতা রবিশঙ্কর প্রসাদ। তাঁর তোপ, গান্ধী পরিবারের হাতে সম্পত্তি তুলে দিতে ‘কর্পোরেট ষড়যন্ত্র’ করেছিল কংগ্রেস। তাঁর খোঁচা, এটাই হল গান্ধী পরিবারের উন্নয়নের মডেল। এর পাল্টা কংগ্রেসের অভিযোগ, পুরনো মামলা ফের নতুন করে সামনে এনে প্রতিহিংসার রাজনীতি করছে বিজেপি। বুধবার এ ব্যাপারে দেশজুড়ে ইডি অফিসের সামনে বিক্ষোভও দেখিয়েছে কংগ্রেস। দিল্লিতে যা নিয়ে পুলিসের সঙ্গে ধস্তাধস্তিও হয় কংগ্রেস কর্মীদের। দলের মতে, গত ৮-৯ এপ্রিল গুজরাতের আমেদাবাদে এআইসিসির অধিবেশন হয়েছে। ৩০ বছর গুজরাতে কংগ্রেস ক্ষমতার বাইরে রয়েছে। ফের রাহুল গান্ধী গুজরাত নিয়ে ঝাঁপিয়েছেন। তাই কংগ্রেসকে চাপে রাখতেই আচমকা ন্যাশনাল হেরাল্ডের পুরনো মামলাকে সক্রিয় করছে মোদি সরকার।
যদিও এভাবে আমাদের ভয় দেখানো বা চুপ করানো যাবে না বলেই স্পষ্টভাষায় জানিয়ে দিলেন রমেশ। দলের আর এক মুখপাত্র আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি বলেন, ন্যাশনাল হেরাল্ড কংগ্রেসের একটি কাগজ। ১৯৩৮ সালে শুরু হয় প্রকাশনা। চালায় দ্য অ্যাসোসিয়েটেড জার্নালস লিমিটেড (এজেএল)। কিন্তু একসময় এজেএলের আর্থিক দশা খারাপ হয়। ৯০ কোটি টাকা ঋণ হয়ে যায়। তখন ইয়াং ইন্ডিয়ান প্রাইভেট লিমিটেড নামে একটি অলাভজনক সংস্থাকে খোলা হয়। যার ডিরেক্টর সোনিয়া-রাহুল গান্ধী। এজেএলের ঋণের ভার নেয় ওই কোম্পানি। কোনও সম্পত্তি নেয়নি। তাহলে বেআইনি কোথায় হল? বরং আইন মোতাবেকই কাজ হয়েছে।