Bartaman Logo
২ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

প্রয়াত নরোত্তম রায়, অভিভাবক হারাল লোকনাট্য ‘কালিকাপাতাড়ি’

লোকশিল্প ‘কালিকাপাতাড়ি’র পুরোধাপুরুষ নরোত্তম রায় (৬৩) প্রয়াত। রবিবার গভীর রাতে তাঁর মৃত্যু হয়। এই কিংবদন্তি শিল্পীর প্রয়াণে শোকস্তব্ধ শিল্পীমহল।

প্রয়াত নরোত্তম রায়, অভিভাবক হারাল লোকনাট্য ‘কালিকাপাতাড়ি’
  • ৩০ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০

সংবাদদাতা, উলুবেড়িয়া: লোকশিল্প ‘কালিকাপাতাড়ি’র পুরোধাপুরুষ নরোত্তম রায় (৬৩) প্রয়াত। রবিবার গভীর রাতে তাঁর মৃত্যু হয়। এই কিংবদন্তি শিল্পীর প্রয়াণে শোকস্তব্ধ শিল্পীমহল।

Advertisement

ঐতিহ্যগতভাবে কালিকাপাতাড়ি নৃত্য শুধুমাত্র গাজন ও নীলরাত্রি উপলক্ষ্যে বছরের কয়েকটি নির্দিষ্ট দিন অনুষ্ঠিত হতো। পরবর্তী সময় ধীরে ধীরে নাট্যরূপ লাভ করে। এবং একক সাংস্কৃতিক উপস্থাপনা হিসেবে অভিনয় করার সূযোগ তৈরি হয়। এই পরিবর্তনে সে সময় উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নিয়েছিলেন নরোত্তম রায়। কালিকাপাতাড়ি লোকনৃত্য থেকে বির্বতিত হয়ে লোকনাট্যে উপনীত হওয়ার সন্ধিক্ষণ সেটি। এতে থাকা শুম্ভ নিশুম্ভ বধ, মহিষাসুর বধ, চণ্ডমুণ্ড বধ, চিক্কুর বধ ইত্যাদি কাহিনী তিনিই পরিমার্জন করে কালিকাপাতাড়ি আঙ্গিকে অভিনয়ের উপযুক্ত করে তোলেন। ফলে তাঁকে পুরোধাপুরুষ হিসেবে বিবেচনা করে শিল্পমহল। কালিকাপাতাড়ির সঙ্গে নরোত্তম রায়ের সংযোগ গত শতকের সত্তরের দশকে। স্কুলজীবনে পালিয়ে দিল্লি চলে গিয়েছিলেন। সেখানে ভারতীয় কলাকেন্দ্রে রাম ও বলরামের চরিত্রে অভিনয় করতেন। সামনে থেকে প্রত্যক্ষ করতেন রামযাত্রা নাট্যাভিনয়। লোকনাট্যের প্রতি প্রেম এবং তাগিদ নিয়ে পরবর্তী সময় নিজের গ্রাম শ্যামপুরের রতনপুরে ফেরেন। কালিকাপাতাড়ির সঙ্গে যুক্ত হন। তখন থেকেই এই শিল্প তাঁর ধ্যানজ্ঞান হয়ে ওঠে। মৃত্যুর কয়েকদিন আগে তাঁর সঙ্গে দেখা করেছিলেন লোক গবেষক সঙ্গীতা দত্ত। সঙ্গীতাদেবী বলেন, ‘নরোত্তমবাবুর মতে জেলার এই লোকশিল্প উজ্জীবিত রাখতে কাহিনি নির্ভর পালার প্রচলন ঘটানো ছিল সময়ের দাবি। এর ফলে শিল্পীদের কিছুটা হলেও আর্থিক সুরাহা মেলে।’ তিনি জানান, ১৯৭৭ সালে কালিকাপাতাড়ি সরকারি স্বীকৃতি লাভ করে। রাজ্য সরকারের তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরে শিল্পীরা নথিভুক্ত হন। ধীরে সরকারি সাহায্য আসতেও শুরু করে। নরোত্তমবাবু বেঁচে থাকলে আরও ভালো কাজ আমরা দেখতে পেতাম। পশ্চিমবঙ্গ আদিবাসী ও লোকশিল্পী সঙ্ঘের সদস্য তপনকুমার সেন বলেন, ‘নতুন প্রজন্ম এই শিল্পের প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছে না। এই সময় নরোত্তমবাবুর মৃত্যুতে ক্ষতি আরও অপূরনীয় হয়ে উঠল।’

সম্পর্কিত সংবাদ