Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

রাষ্ট্রপতিকে অপমান করেছেন নরেন্দ্র মোদিই, ছবি তুলে ধরে জবাব মমতার

‘বাংলার দিকে আঙুল তোলার আগে নরেন্দ্র মোদি নিজে কী করেছেন, সেটা আগে দেখুন। উনি রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুকে অপমান করেছেন।’

রাষ্ট্রপতিকে অপমান করেছেন নরেন্দ্র মোদিই, ছবি তুলে ধরে জবাব মমতার
  • ৯ মার্চ, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ‘বাংলার দিকে আঙুল তোলার আগে নরেন্দ্র মোদি নিজে কী করেছেন, সেটা আগে দেখুন। উনি রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুকে অপমান করেছেন।’ সরাসরি এই অভিযোগ আনলেন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নিজের বক্তব্যের সমর্থনে ধর্মতলার ধরনা মঞ্চে তাঁর নির্দেশে একটি ছবি তুলে ধরেন মন্ত্রী বিরবাহা হাঁসদা ও সাংসদ জুন মালিয়া। সেটি দেখিয়ে মমতা বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি দাঁড়িয়ে আছেন। আর নরেন্দ্র মোদি বসে আছেন। এটা রাষ্ট্রপতিকে অপমান। আমরা কখনও এমন কাজ করি না।’

Advertisement

রাষ্ট্রপতির শনিবারের বঙ্গ সফর ভোটমুখী রাজ্যের রাজনৈতিক আবহে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির অভিযোগ, ‘তৃণমূল কংগ্রেস সরকার সত্যিই সমস্ত সীমা লঙ্ঘন করেছে। এর জন্য তাদের প্রশাসন দায়ী। রাষ্ট্রপতির পদ রাজনীতির ঊর্ধ্বে। এই পদের গরিমা সর্বদা রক্ষা করা উচিত। আশা করা যায়, পশ্চিমবঙ্গ সরকার ও তৃণমূল কংগ্রেসের শুভবুদ্ধির উদয় হবে।’ এদিন ধরনা মঞ্চ থেকে মমতা প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্যের কড়া জবাব দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, আপনাকে একটা ছবি দেখাই। নারী এবং আদিবাসী নেত্রী হিসেবে রাষ্ট্রপতি মুর্মুকে আপনি কি আদৌ সম্মান করেন? রাষ্ট্রপতি যখন দাঁড়িয়ে আছেন, আপনি তখন বসে কেন? কে সম্মান করে আর কে করে না, এই ছবিটাই তার জ্বলন্ত প্রমাণ।’ গোটা পর্বটি বিজেপির পূর্বপরিকল্পিত বলেও দাবি করেন তিনি। 
উত্তরবঙ্গে রাষ্ট্রপতির অনুষ্ঠানে আসলে কী ঘটেছে, তাও উল্লেখ করেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, ‘ওই অনুষ্ঠান আমাদের ছিল না। একটি বেসরকারি সংস্থা আয়োজক ছিল। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে চিঠি দিয়ে স্পষ্ট জানানো হয়েছিল যে রাষ্ট্রপতিকে নিয়ে অনুষ্ঠান করার মতো সামর্থ্য ওই সংস্থার নেই। তারা আমাদের এই অনুষ্ঠানে যুক্তও করেনি। আমরা বারবার সতর্ক করেছিলাম, এই বেসরকারি সংস্থা হয়তো ঠিকমতো অনুষ্ঠান পরিচালনা করতে পারবে না। তা সত্ত্বেও রাষ্ট্রপতি আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছিলেন। তাই এর দায়ভার আমাদের নয়। তাছাড়া, অনুষ্ঠানে কেন লোক হয়নি, সেই জবাব আয়োজকদেরই দেওয়া উচিত। তারা তো আমাদের লোক পাঠাতে বলেনি।’ শৌচাগার নিয়ে যে অভিযোগ উঠেছে, সেই প্রসঙ্গে মমতা জানান, সেটি এয়ারপোর্ট অথরিটি অফ ইন্ডিয়ার অধীনে। আর গ্রিন রুম আয়োজকরাই তৈরি করেছিলেন। কোনো ত্রুটি হয়ে থাকলে, সেটা তাদেরই ব্যর্থতা। এই ঘটনা নিয়ে রাজ্যের কাছে রিপোর্ট তলব করেছিল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। রবিবার বিকেলেই তা পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে মুখ্যসচিবের তরফে। 
এদিন মঞ্চে বক্তব্য রাখার সময় বিরবাহা হাঁসদা দিল্লি গিয়ে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করার অনুমতি চান। মমতা বলেন, ‘অনুমতি দিলাম। সাংসদ ও বিধায়ক মিলিয়ে ১০ জন দিল্লিতে গিয়ে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করে উন্নয়নের রিপোর্ট কার্ড তুলে দিন।’ বিরবাহা বলেন, ‘সারি ধর্ম ও সারনা ধর্মের স্বীকৃতি কেন মিলছে না, কেন অপরাজিতা বিলের ছাড়পত্র দেওয়া হচ্ছে না, রাষ্ট্রপতির কাছে জানতে চাইব।’  এদিকে, দক্ষিণ ২৪ পরগনার মথুরাপুরে এদিন সভা করেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রপতির চেয়ার সব কিছুর ঊর্ধ্বে। অথচ বিজেপি রাষ্ট্রপতিকে দিয়ে রাজনৈতিক আক্রমণ করাল। মণিপুরে তিন বছর ধরে আগুন জ্বললেও একটি কথাও বলেননি রাষ্ট্রপতি। রামমন্দির উদ্বোধনের দিন রাষ্ট্রপতিকে আমন্ত্রণই জানানো হয়নি। নতুন সংসদ ভবন চালুর সময়ও ডাকা হয়নি। আমাদের রাষ্ট্রপতি সেনাবাহিনীর সুপ্রিম কমান্ডার। যুদ্ধ শুরু কখন, শেষ কবে, সেই সিদ্ধান্ত নেন রাষ্ট্রপতি। অথচ পাকিস্তানের সঙ্গে যুদ্ধ শেষের কথা ঘোষণা করছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট। আমাদের রাষ্ট্রপতি চুপ।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ