জয়পুর: কম্বল বিতরণ কর্মসূচি। আয়োজক প্রাক্তন বিজেপি সাংসদ। আচমকা এক মহিলাকে কম্বল দেওয়ার আগে তাঁর পরিচয় জানতে চান বিজেপি নেতা। ওই মহিলা মুসলিম জানার পরই রীতিমতো ভর্ৎসনা করে তাঁকে তাড়িয়ে দেন। শুধু তাই নয়, উপস্থিত আরও কয়েকজনকে কম্বল ফিরিয়ে দিতে বলেন তিনি। কেন এমন আচরণ? বিজেপি নেতার দাবি, ‘ওরা মোদি সম্পর্কে কুকথা বলে। তাই কম্বল নেওয়ার অধিকার নেই।’ এই ঘটনায় তীব্র বিতর্ক দানা বেঁধেছে। বিজেপি নেতার অমানবিক আচরণের নিন্দা করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘সবকা সাথ-সবকা বিকাশ’ স্লোগানকে তীক্ষ্ণ ভাষায় কটাক্ষ করেছে তৃণমূল কংগ্রেস।
ঘটনা রাজস্থানের টঙ্ক জেলার কারেদা বুজুর্গ গ্রামের। রবিবার সেখানে কম্বল বিতরণ করছিলেন প্রাক্তন বিজেপি সাংসদ সুখবীর সিং জৌনাপুরিয়া। গ্রামবাসীর দাবি, সবার বাড়িতে গিয়ে অনুষ্ঠানে আসতে বলা হয়েছিল। বিনামূল্যে কম্বল পাওয়ার আশায় অনেকেই গিয়েছিলেন। কিন্তু এমনটা হতে পারে কেউ ভাবেননি। ঘটনায় ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন গ্রামবাসীরা। প্রকাশ্যে কারও ধর্ম পরিচয় নিয়ে এভাবে অপমানের নিন্দায় সরব তাঁরা। এক বাসিন্দার কথায়, ‘দীর্ঘদিন হিন্দু-মুসলিম সবাই একইসঙ্গে থাকি আমরা। কোনো ভেদাভেদ নেই। এই ঘটনায় আমরা সবাই অপমানিত বোধ করছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা গরিব হতে পারি। কিন্তু আমাদের এভাবে অপমান করা যায় না।’ তাঁরা সকলেই কম্বল ফেরানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। গ্রামের প্রাক্তন প্রধান শ্রীরাম চৌধুরীর আক্ষেপ, ‘আমাদেরও বিবেক আছে, সম্মান আছে, আমরাও মানুষ — কাউকে কিছু দেওয়ার তারপর তা কেড়ে নেওয়া লজ্জাজনক। সস্তা জনপ্রিয়তার জন্য এমন আচরণ নিন্দনীয়।’
প্রাক্তন বিজেপি সাংসদের এই কীর্তির সমালোচনায় মুখর কংগ্রেস ও তৃণমূল। সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে জোড়াফুল শিবিরের কটাক্ষ, এটাই বিজেপির ‘নিউ ইন্ডিয়া’! নিষ্ঠুর, সাম্প্রদায়িক ও হৃদয়হীন আচরণের জন্য বিজেপিকে ধিক্কার জানিয়েছে তৃণমূল। তাদের চরম বিভেদকামী বলেও আক্রমণ করা হয়েছে তৃণমূলের ওই পোস্টে। সরব কংগ্রেসও। টঙ্ক সওয়াই মাধোপুরের কংগ্রেস সাংসদ হরিশ চন্দ্র মীনা ওই ঘটনার ভিডিও শেয়ার করে লিখেছেন, এধরনের চিন্তাভাবনা সামাজিক ঐক্যের বাতাবরণ ধ্বংস করে দেয়। কম্বল বিলি করে দরিদ্র ও অসহায় মহিলাদের ধর্ম পরিচয় জেনে তা ফিরিয়ে নেওয়া লজ্জাজনক ও অমানবিক।
সমালোচনার মুখেও সুখবীরের সাফাই, কোনো রাজনৈতিক বা সরকারি কর্মসূচি নয়, ব্যক্তিগতভাবে অর্থাৎ নিজের টাকায় কেনা কম্বল বিতরণ করছিলেন। তাই কাকে কম্বল দেবেন, কাকে দেবেন না, সেটা সম্পূর্ণ তাঁর সিদ্ধান্ত।