নয়াদিল্লি: পহেলগাঁও জঙ্গি হামলার তদন্তে নেমে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর হাতড়াচ্ছে এনআইএ। যেমন— পুলিস ও নিরাপত্তা বাহিনীর নজর এড়িয়ে পহেলগাঁওয়ের বৈসরণ ভ্যালি পর্যন্ত কী করে পৌঁছল সশস্ত্র জঙ্গিরা? হামলার পর কীভাবেই বা কার্যত হাওয়ায় মিলিয়ে গেল তারা? প্রথম থেকেই তদন্তকারীদের অনুমান ছিল, এই গোটা ‘অপারেশন’-এর নেপথ্যে নিশ্চই কোনও পাকা মাথা কাজ করেছে। উপত্যকা সম্পর্কে যার সম্যক ধারণা রয়েছে। পাকিস্তানে বসেই সে হামলার ছক সাজিয়েছে। সেই অনুমান যে একেবারেই অমূলক ছিল না, তার প্রমাণ মিলল অবশেষে। পহেলগাঁও কাণ্ডের পর উপত্যকার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ধৃত সন্দেহভাজন ওভারগ্রাউন্ড ওয়ার্কারদের (জঙ্গিদের সাহায্যকারী) জেরা করে তদন্তকারীরা জেনেছেন, এই হামলার ব্লুপ্রিন্ট তৈরির নেপথ্যে রয়েছে মুস্তাক আহমেদ জারগার ওরফে মুস্তাক লাটরাম। সে জঙ্গি সংগঠন আল উমর মুজাহিদিনের প্রধান। ১৯৯৯ সালে কান্দাহার কাণ্ডে পণবন্দি বিমানযাত্রীদের জীবনের বিনিময়ে জয়েশ প্রধান মাসুদ আজহার, ব্রিটিশ-পাকিস্তানি জঙ্গি আহমেদ ওমর শেখের সঙ্গে এই মুস্তাককেও মুক্তি দিয়েছিল দিল্লি।
পহেলগাঁও হামলায় এই আল উমর মুজাহিদিনের প্রত্যক্ষ মদত ছিল বলেই জেনেছে এনআইএ। শুধু তাই নয়, পাকিস্তানের মাটিতেই যে পহেলগাঁও হামলায় জড়িত জঙ্গিদের প্রশিক্ষণ হয়েছিল, সে বিষয়েও একপ্রকার নিশ্চিত কেন্দ্রীয় এজেন্সি। তদন্তকারীরা জেনেছেন, মুস্তাকের নিদের্শেই জঙ্গিদের বিভিন্ন রসদ সরবরাহের পাশাপাশি প্রশিক্ষণেও সাহায্য করেছিল আল উমর মুজাহিদিন। জানা গিয়েছে, চিরকালই প্রচারের আড়ালে থাকতে পছন্দ করে মুস্তাক। কান্দাহার বিমান অপহরণ কাণ্ডের আগে বিভিন্ন কেন্দ্রীয় এজেন্সি ও নিরাপত্তা বাহিনীর বাইরে তার নাম খুব একটা কেউ জানত না। কিন্তু, সেবার মাসুদ আজহার, আহমেদ ওমর শেখের মতো হাইপ্রোফাইল জঙ্গিদের সঙ্গে পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই মুস্তাকেরও মুক্তি দাবি করার পরই শিরোনামে চলে আসে এই জঙ্গি। এনআইএ জেনেছে, বর্তমানে পাকিস্তানে রয়েছে মুস্তাক। কিন্তু, একদা শ্রীনগরের বাসিন্দা হওয়ার সুবাদে উপত্যকায় জঙ্গিদের ওভার গ্রাউন্ড ওয়ার্কারদের সঙ্গে তার নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে।
এদিকে, হামলাকারী জঙ্গিদের অন্যতম প্রাক্তন পাক প্যারা কমান্ডো হাশিম মুসা ও তার সঙ্গীদের জঙ্গি প্রশিক্ষণ পাকিস্তানেই হয়েছিল বলে জেনেছে এনআইএ। যেখানে মদত ছিল জয়েশ, লস্কর এবং হিজবুলের। আধুনিক অস্ত্রশস্ত্রের প্রশিক্ষণ ছাড়াও দুর্গম পার্বত্য এলাকায় দীর্ঘদিন বেঁচে থাকা এবং হাইডআউট (লুকনোর ডেরা) তৈরি করাও শিখেছিল ওই জঙ্গিরা। কাশ্মীরের বিভিন্ন জেলে বন্দি লস্কর জঙ্গিদের জেরা করেই এই তথ্য জেনেছেন তদন্তকারীরা। মনে করা হচ্ছে, বর্তমানে দক্ষিণ কাশ্মীরের ঘন জঙ্গলে লুকিয়ে রয়েছে মুসা। তার সন্ধান দিতে পারলে ২০ লক্ষ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছে পুলিস।