Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বিড়ি খাওয়ায় মার! রহস্যমৃত্যু, অভিযুক্ত স্ত্রী, শ্বশুর-শাশুড়ি পলাতক

বিড়ি খাওয়ায় মার! রহস্যমৃত্যু, অভিযুক্ত স্ত্রী, শ্বশুর-শাশুড়ি পলাতক
  • ৬ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাকপুর: প্রায়ই শোনা যায় বধূ নির্যাতনের কথা। এবার কাঁচরাপাড়া শরৎপল্লিতে স্বামীকে নির্যাতনের অভিযোগ উঠল স্ত্রীর বিরুদ্ধে। শুধু নির্যাতন নয়, তার জেরে সুমিত মুখোপাধ্যায় নামে এক যুবকের রহস্যমৃত্যু ঘিরেও উঠেছে নানা প্রশ্ন। সেই নির্যাতনে যুক্ত থাকার অভিযোগ উঠেছে শ্বশুর, শাশুড়ির বিরুদ্ধেও। বুধবার রাতে নিজের বাড়ি থেকেই সুমিতের মৃতদেহ উদ্ধার হয়। সুমিতের রহস্যমৃত্যু নিয়ে তাঁর মায়ের অভিযোগ, এই মৃত্যুর জন্য দায়ী তাঁর ছেলের স্ত্রী, শ্বশুর ও শাশুড়ি। তিনজনেই অবশ্য পলাতক। তাদের খুঁজছে পুলিস। তবে সুমিতের শ্বশুরবাড়ির পক্ষ থেকে মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। তারা পাল্টা অভিযোগ করেছে, সুমিত তাঁর স্ত্রী স্নেহাকে মারধর করতেন। কিন্তু শ্বশুরবাড়ির কথা মানতে রাজি নন সুমিতের পাড়ার লোকেরা। মৃত্যুর খবর জানাজানি হতেই এলাকায় উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। সুমিতের প্রতিবেশীরা দল বেঁধে স্নেহার বাড়িতে যান। কিন্তু কাউকে না পেয়ে তাঁরা ফিরে আসেন। গোটা এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১০৮ ধারায় আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।

Advertisement

সুমিতের প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, ওই পরিবারে স্বামী, স্ত্রীর মধ্যে মাঝেমধ্যেই গোলমাল লেগে থাকত। এর আগেও থানাকে জানানো হয়েছিল। মঙ্গলবার দুপুরে সামান্য একটি বিড়ি খাওয়াকে কেন্দ্র করে গোলমাল শুরু হয়। গোলমালের সময় স্নেহা তাঁর বাবা, মাকে ডেকে পাঠান। তাঁরা চলে আসেন। এরপর সুমিত তাঁর স্ত্রী, শ্বশুর, শাশুড়ির হাতে বেদম মার খান বলে অভিযোগ। ঘরে রক্তের দাগ দেখা যায়। স্নেহা উল্টে স্বামীর বিরুদ্ধে বীজপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন এবং বাপের বাড়ি চলে যান। বুধবার দুপুরে শ্বশুরবাড়িতে আসেন স্নেহা। আবার অশান্তি হয়। কাছেই তাঁর বাপের বাড়িতে তিনি ফের চলে যান। সন্ধ্যেবেলায় ফিরে এসে দেখেন ঘরে ঝুলন্ত অবস্থায় সুমিতের দেহ। তাঁর চিৎকারে প্রতিবেশী এবং আত্মীয়-স্বজনরা ছুটে আসেন। তাঁরা দেখেন দেহের সামনে রক্ত পড়ে আছে।
সুমিতের আত্মীয় অরুণাভ চৌধুরী অভিযোগ করেন, সুমিত একটা হোটেলে কাজ করত। তার দেরি হতো ফিরতে। সে কারণে রোজই অশান্তি লেগে থাকত স্বামী, স্ত্রীর মধ্যে। ওর স্ত্রী এবং শ্বশুর, শাশুড়ি তাকে প্রায়ই মারধর করত। ওরাই ওকে মেরে ঝুলিয়ে দিয়েছে। ঘটনার পর স্ত্রী, শ্বশুর ও শাশুড়ি পলাতক। মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। বীজপুর থানার পুলিস তদন্ত শুরু করেছে। 
পুলিস জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, এটি আত্মহত্যার ঘটনা বলেই মনে হচ্ছে। তবু মৃত সুমিত মুখোপাধ্যায়ের মায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে স্ত্রী ও শ্বশুর, শাশুড়ির বিরুদ্ধে। তিনজনই পালিয়ে গিয়েছেন।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ