


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব কলকাতায় পরিস্রুত পানীয় জল সরবরাহ নিশ্চিত করতে ধাপা ও গড়িয়া ঢালাই ব্রিজের কাছে নতুন দু’টি জল উৎপাদন প্রকল্প চালুর তোড়জোড় চলছে। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় চলছে ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট তৈরির কাজ। এই প্রকল্প দু’টি চালু হলে টালিগঞ্জ, যাদবপুর সহ ই এম বাইপাসের বিস্তীর্ণ এলাকার কয়েক লক্ষ বাসিন্দা উপকৃত হবেন। কিন্তু শুধু জলপ্রকল্প গড়লেই হবে না। সেই জল সরবরাহের জন্য পাততে হবে পর্যাপ্ত পাইপলাইন। পুরসভা সূত্রে খবর, তার জন্য প্রায় ৩৫০ কোটি টাকা খরচে প্রায় ১৩৫ কিলোমিটার নতুন পাইপলাইন পাতার কাজ শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে ৪৬ কিলোমিটারের বেশি অংশে পাইপ পাতার কাজ হয়ে গিয়েছে। তার জন্য রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি করতে হয়েছে সেই মতো। এবার সেসব রাস্তা নতুন করে তৈরির কাজে হাত লাগাল পুর-কর্তৃপক্ষ। বিধানসভা নির্বাচনের আগে যতটা সম্ভব কাজ সেরে ফেলতে চাইছে তারা। এমনই ২৫টি রাস্তার কাজ চলছে জোরকদমে।
দৈনিক ২০ মিলিয়ন গ্যালন জল উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন নতুন একটি ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট গড়ে উঠছে ধাপায়। গড়িয়া ঢালাই ব্রিজেও নতুন প্লান্ট তৈরি করা হচ্ছে, যেখানে প্রতিদিন ১০ মিলিয়ন গ্যালন পরিস্রুত পানীয় জল উৎপাদন হবে। পুরসভা আগামী মার্চ-এপ্রিলের মধ্যেই এই দু’টি প্রকল্প থেকে জল সরবরাহ শুরু করে দিতে চাইছে। টালিগঞ্জ এবং যাদবপুরের পাশাপাশি এর সুফল পাবেন দক্ষিণ-পূর্ব কলকাতার ই এম বাইপাস লাগোয়া বিভিন্ন ওয়ার্ডের বাসিন্দারা। কর্তৃপক্ষ জানাচ্ছে, এই দু’টি নির্মীয়মাণ জল প্রকল্প থেকে বিভিন্ন বুস্টার পাম্পিং স্টেশন এবং অন্যত্র পানীয় জল সরবরাহ করতে ৯১টি ‘স্ট্রেচ’ মিলিয়ে প্রায় ১৩৫ কিলোমিটার পাইপলাইন পাততে হবে। সেই কাজও এগিয়ে চলেছে সমান তালে।
সম্প্রতি কলকাতা পুরসভার মেয়র পরিষদের বৈঠকে মোট ২৮টি রাস্তা মেরামতির কাজে সিলমোহর পড়েছে। পুরসভার সড়ক বিভাগের এক কর্তা বলেন, ‘বড় বড় পাইপলাইন পাতা হয়েছে বলে রাস্তার বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে কার্যত গোটা রাস্তাই নতুন করে বানাতে হচ্ছে। ৭, ১০, ১১ ও ১৩ নম্বর বরোর আওতাভুক্ত ২৫টি রাস্তা জলপ্রকল্পের পাইপলাইন পাতার জন্যই নতুন করে করতে হচ্ছে। বাকি তিনটি রাস্তা পথশ্রী সহ অন্যান্য প্রকল্পের। যাদবপুর এবং টালিগঞ্জ বিধানসভার অন্তর্গত বাঘাযতীন, পাটুলি, কসবা, ই এম বাইপাস, হালতু, রামলাল বাজার, গড়ফা, বেহালা, ঠাকুরপুকুরের বিভিন্ন অংশে রাস্তার কাজ হচ্ছে।’ তিনি আরও জানান, ১৩৫ কিমি অংশে পাইপলাইন পাতার কাজ হয়ে গেলে মোট ৭০টি রাস্তা এভাবে নতুন করে তৈরি করতে হবে। তার মধ্যে ২৫টির কাজ চলছে।