Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ম্যানহোল পরিষ্কার করতে গিয়ে স্রোতে তলিয়ে গেলেন পুরকর্মী

এলাকার জমা জল বেরোচ্ছিল না। তাই নিজেই উদ্যোগী হয়ে ম্যানহোল পরিষ্কার করতে নেমে পড়েছিলেন। সেই সময় পা পিছলে পড়ে গিয়ে জলের স্রোতে তলিয়ে গিয়ে মৃত্যু হল পুরসভার এক সাফাই কর্মীর।

ম্যানহোল পরিষ্কার করতে গিয়ে  স্রোতে তলিয়ে গেলেন পুরকর্মী
  • ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও সংবাদদাতা, বজবজ: এলাকার জমা জল বেরোচ্ছিল না। তাই নিজেই উদ্যোগী হয়ে ম্যানহোল পরিষ্কার করতে নেমে পড়েছিলেন। সেই সময় পা পিছলে পড়ে গিয়ে জলের স্রোতে তলিয়ে গিয়ে মৃত্যু হল পুরসভার এক সাফাই কর্মীর। বুধবার দুপুরে ঘটনাটি ঘটেছে রাজপুর সোনারপুর পুরসভার ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের মিলনপল্লি এলাকায়। মৃতের নাম জয়ন্ত ঘোষ (৪৩)। জানা গিয়েছে, সোমবার রাতের ভারী বৃষ্টির জেরে পুরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ড জলমগ্ন হয়ে রয়েছে। ওই এলাকাও গোড়ালি সমান জল জমে রয়েছে। জল যাতে দ্রুত নামে, তার জন্য ম্যানহোলের ঢাকনা খুলে তা পরিষ্কারের তোড়জোড় করছিলেন জয়ন্তবাবু। তা করতে গিয়ে পা পিছলে গিয়ে ঘটে যায় দুর্ঘটনা। নিমেষে তলিয়ে যান তিনি। তাঁর সঙ্গে থাকা পুরসভার অন্যান্য কর্মী খোঁজাখুঁজি করেন। অবশেষে ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ১০০ মিটার দূরে আরও একটি ম্যানহোলের কাছে তাঁর দেহ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দা ও পুরসভার কর্মীরা জয়ন্তবাবুকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। পুরসভার দাবি, ম্যানহোলে নামার কোনও নির্দেশ ওই কর্মীকে দেওয়া হয়নি।

Advertisement

তিনি নিজেই সিদ্ধান্ত নিয়ে সেখানে গিয়েছিলেন। ম্যানহোলের ভিতরে অনেক প্লাস্টিক জমে রয়েছে, সেগুলি সাফ করলে জল নেমে যাবে। এই বলেই নীচে নামেন ওই কর্মী। জানা গিয়েছে, ম্যানহোলটি চার ফুট গভীর। তার মধ্যেই পড়ে যান তিনি। অনেকে মনে করছেন, জলে পড়ে গিয়ে স্রোতের টানে ভেসে যান তিনি। পুরসভার চেয়ারম্যান পল্লব দাস বলেন, ‘এটি একটি দুর্ঘটনা। আমরা পরিবারের পাশে আছি। সব খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’
মঙ্গলবার দিনভর পাম্প চালিয়েও রাজপুর সোনারপুর পুরসভার বিস্তীর্ণ এলাকায় জল নামানো যায়নি। সূত্রের খবর ৪, ৫, ৮, ৯, ১৪, ১৫, ৩৩, ৩৪ ও ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডে কমবেশি জল জমে রয়েছে রাত পর্যন্ত। গোটা পুর এলাকায় ৬১টি পাম্প চালানো হয়েছে। বিভিন্ন খাল কানায় কানায় ভর্তি। তাই ওয়ার্ডের জল সেখানে ফেলা যাচ্ছে না। তাই পরিস্থিতি পুরো স্বাভাবিক করতে আরও কিছুটা সময় লাগবে বলে মনে করছে পুরসভা। কর্তৃপক্ষ আশা করছে, আর ভারী বৃষ্টি না হলে আজ, বৃহস্পতিবার সকালের মধ্যে অনেকটাই উন্নতি হবে পরিস্থিতির। এদিকে, মহেশতলা পুর এলাকার একাধিক ওয়ার্ডেও এদিন জল নামেনি। কারণ, গঙ্গার জলস্তর অনেকটা উপরে ছিল। বিশেষ করে ২৪ থেকে ৩০ নম্বর ওয়ার্ডে জল জমে আছে বেশি। লকগেট খুলতে গেলে গঙ্গার জল ‘ব্যাক ফ্লো’ করে ঢুকে আসছে। পুরসভার চেয়ারম্যান দুলাল দাস বলেন, ‘ভয়ঙ্কর সমস্যা হচ্ছে। যতক্ষণ গঙ্গার জলের লেভেল না নামছে, ততক্ষণ ওয়ার্ডগুলির জল নামার আশাও নেই। নাগরিকদের সমস্যা হচ্ছে, বুঝতে পারছি কিন্তু গঙ্গার জলস্তর বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ