Bartaman Logo
৩১ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

মুম্বইতে স্পা সেন্টারে কাজের আড়ালে নাবালিকা পাচার চক্র, রেল পুলিশের জালে যুগল

মুম্বইয়ে স্পা সেন্টারে কাজ করতে গিয়ে মিজোরামের বাসিন্দা এক তরুণীর সঙ্গে পরিচয় হয়েছিল এক তরুণের। স্পা সেন্টারের আড়ালে চলা দেহব্যবসার জন্য তরুণীদের চাহিদা কী পরিমাণ, বুঝেছিল সে সেখান থেকেই।

মুম্বইতে স্পা সেন্টারে  কাজের আড়ালে নাবালিকা পাচার চক্র, রেল পুলিশের জালে যুগল
  • ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা:  মুম্বইয়ে স্পা সেন্টারে কাজ করতে গিয়ে মিজোরামের বাসিন্দা এক তরুণীর সঙ্গে পরিচয় হয়েছিল এক তরুণের। স্পা সেন্টারের আড়ালে চলা দেহব্যবসার জন্য তরুণীদের চাহিদা কী পরিমাণ, বুঝেছিল সে সেখান থেকেই। এই সিন্ডিকেটে জড়িতদের সঙ্গে কথা বলে সে আরো জেনেছিল, পাচার ব্যবসায় রোজগার খুব ভালো। তারপরই নাবালিকা বা তরুণীদের স্পাতে কাজ দেওয়ার অছিলায় নিজের রাজ্য থেকেই নারী পাচার ব্যবসা শুরু করেছিল সে। মিজোরামের নাবালিকাদের মুম্বইতে পাচার করতে গিয়ে চলন্ত ট্রেনে জিআরপির হাতে ধরা পড়ে গেল নিয়ানজেনিজেম নামে এক তরুণী ও তার বয়ফ্রেন্ড লালসানগ্লিয়ানা। ওই ঘটনায় উদ্ধার হয়েছে এক নাবালিকাও। এই দুষ্টচক্রের শিকড় খুঁজতে মুম্বই যাচ্ছে রেল পুলিশের একটি টিম। রেল পুলিশ সূত্রের খবর, তাদের কাছে খবর আসে মিজোরাম থেকে সাইরাং এক্সপ্রেসে এক নাবালিকাকে কলকাতায় আনা হচ্ছে। এখান থেকে গীতঞ্জলি এক্সপ্রেসে করে মেয়েটিকে নিয়ে যাওয়া হবে মুম্বইয়ের কাছে থানেতে। ১৪ ফেব্রুয়ারি চলন্ত সাইরাং এক্সপ্রেসের কামরা থেকে এক নাবালিকা উদ্ধার করে কৃষ্ণনগর জিআরপি। তার সঙ্গে থাকা তরুণ-তরুণীকে জেরা করে জানা যায়, ওই মেয়েটিকে মুম্বইতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। তাকে স্পা সেন্টারে চাকরি দেওয়া হবে বলে দাবি করেছিল অভিযুক্তরা। তার মাস মাইনে হত ১৫ হাজার টাকা। কিন্তু মেয়েটিকে নিয়ে যাওয়ার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র চাওয়া হলে যুবকটি তা দেখাতে পারেনি। তখন গ্রেপ্তার করা হয় ওই দুজনকেই। নাবালিকাকে উদ্ধার করে রেল পুলিশ। ধৃতরা জেরায় জানায়, মুম্বইতে একটি স্পা সেন্টারে তারা কাজ করত। তারপর তারা বয়ফ্রেন্ড-গার্লফ্রেন্ড হয়ে পড়ে। তদন্তকারীরা তাদের কাছ থেকে জেনেছেন, মুম্বইতে স্পা সেন্টারগুলিতে তরুণীদের চাহিদা বিপুল। কাজের টোপ দিয়ে  দুই ২৪ পরগনা এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের তরুণী ও নাবালিকাদের আনা হয়। আসলে তাদের নামানো হয় দেহব্যবসায়।  এমনকি বাংলাদেশি মহিলাও আসে সেখানে। ধৃতদের দাবি, সংশ্লিষ্ট স্পা সেন্টারের মালিক নাবালিকা জোগাড়ের উপর জোর দিত, দিত মোটা টাকার টোপ। উদ্ধার হওয়া মেয়েটিকে কাজের টোপ দিয়েই আনা হচ্ছিল। তিনজনের টিকিটের ব্যবস্থা করে দিয়েছিল ওই স্পা সেন্টারের মালিক। ওই নাবালিকাকে দিয়ে দেহব্যবসা করানো হত বলেই অনুমান। সঙ্গী দুজনের মোটা টাকা পাওয়ার কথা ছিল। ধৃতরা আগেও মেয়েদের আনত বলে অভিযোগ রয়েছে। যে স্পা সেন্টারে এই মেয়েটিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল রেল পুলিশের টিম সেখানেই যাচ্ছে। স্পা মালিক মেয়েগুলিকে কাদের কাছ থেকে আনছে এবং কত টাকা পাচারকারীদের দেওয়া হচ্ছে, তাকে জেরা করে জানতে চায় পুলিশ।

Advertisement
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ