নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: বৃহস্পতিবার গভীর রাতে খড়্গপুর-টাটানগর শাখার বাঁশতলা ও সরডিহা স্টেশনের মাঝে ট্রেনের ধাক্কায় দু’টি শাবক সহ একটি স্ত্রী হাতির মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। রাত একটা নাগাদ শাবক সহ ওই মা হাতিটি রেললাইন পার করে রামরামা জঙ্গলে যাচ্ছিল। লাইনের অপরপ্রান্তের ফেন্সিংয়ে আটকে যায় তিনটি হাতি। সেই সময় দুরন্তগতিতে ছুটে আসা ডাউন জনশতাব্দী এক্সপ্রেসের ধাক্কায় মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটে।
এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ রাজ্যের বনমন্ত্রী বীরবাহা হাঁসদার বক্তব্য, করিডর এলাকায় হাতি থাকার খবর আগেই রেলকে জানানো হয়েছিল। তা সত্ত্বেও দুর্ঘটনা ঘটল! বনদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, রেলের আধিকারিকদের সঙ্গে যৌথ যে হোয়াটস অ্যাপ গ্রুপ রয়েছে, সেখানে রাত ১০ টা ৫৬ মিনিটে হাতির মুভমেন্টের বিষয়টি আগাম জানানো হয়েছিল। তাতে আমল দিলে, এই ঘটনা এড়ানো যেত। অপরদিকে দক্ষিণ-পূর্ব রেলের তরফে বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়েছে, বনদপ্তরের এই অভিযোগ ঠিক নয়। হোয়াটস অ্যাপ গ্রুপের মেসেজে সব সময় নজর রাখা সম্ভব নয়। বনদপ্তর আগে যেভাবে লিখিতভাবে জানাত, এবারও তা জানানো হলে, আরও সতর্ক থাকা যেত। এড়ানো যেত মর্মান্তিক ঘটনাটি। রেলের ওই সূত্রটি জানিয়েছে, দুর্ঘটনাস্থল যৌথ পরিদর্শনের জন্য বনদপ্তরকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। আজ, শনিবার সেই পরিদর্শন হওয়ার কথা। প্রসঙ্গত, দক্ষিণ-পূর্ব রেলের এই শাখাতেই গত ২০১৮ সালের ৭ আগস্ট গভীর রাতে গিধনি ও ডুমুরিয়ার মাঝে মুম্বইগামী জ্ঞানেশ্বরী এক্সপ্রেসের ধাক্কায় পূর্ণ বয়স্ক পুরুষ হাতি, একটি স্ত্রী হাতি ও এক শাবকের মৃত্যু হয়েছিল। ওই ঘটনার পর থেকেই জঙ্গলমহলের এই অংশে হাতির পালের মুভমেন্টের খবর সামনে এলে, সতর্ক থাকে বন ও রেল কর্তৃপক্ষ। হোয়াটস অ্যাপ গ্রুপে জানানো হয় হাতি মুভমেন্টের খবর।
এদিকে, বনদপ্তরের বিরুদ্ধে রেল আঙুল তোলার ঘটনায় বেজায় ক্ষুব্ধ বিভাগীয় মন্ত্রী। বীরবাহা বলেন, হাতি কখন মুভমেন্ট করবে, তা তো আগাম জানিয়ে করবে না! রাতে খবর পাওয়া মাত্রই হোয়াটস অ্যাপ গ্রুপে তা জানানো হয়। ওরা (রেল) বলছে, কেন লিখিত জানানো হল না! চিঠি লেখার জন্য রাতে কোনও আধিকারিক থাকেন! হোয়াটস অ্যাপ গ্রুপটা তৈরি হয়েছিল, আলোচনা করে দু’পক্ষের সহমতের ভিত্তিতে। দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক যদি হোয়াটস অ্যাপ গ্রুপের মেসেজ এড়িয়ে যান, অত রাতে চিঠি দেখতেন কী করে? মেসেজ পাঠানোর দু’ঘণ্টা পরে ট্রেনটি ওই অংশ পার করেছে। এতটা সময় থাকা সত্ত্বেও রেল কর্তৃপক্ষ কেন কোনও ব্যবস্থা নিল না, সেটাই দুর্ভাগ্যজনক।
বনমন্ত্রীর অভিযোগ, দেশের বিভিন্ন অংশের মতোই ঝাড়গ্রামে রেল লাইন সংলগ্ন এলাকা হাতি চলাচলের করিডর। বৈঠকে বসলে রেল আধিকারিকরা তা মানেন, ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেন। কিন্তু আজও পর্যন্ত খড়্গপুর-টাটানগর শাখার এই অংশকে হাতির করিডর বলে ‘স্বীকৃতি’ দেওয়া হয়নি। স্বীকৃতি মিললে, গতি নিয়ন্ত্রণ করেই চলাচল করত সব ট্রেন।