Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / সম্পাদকীয়

আরও আস্থা বিভাজনের ট্র্যাডিশনে

আমরা জানি, একতাই শক্তি। কাউকে ‘প্রতিপক্ষ’ এবং ‘দোর্দণ্ডপ্রতাপ’ মনে হলে তাকে বিভক্ত বা টুকরো করো, তার ভিতরে বাইরে ভাঙন ধরিয়ে দাও।

আরও আস্থা বিভাজনের ট্র্যাডিশনে
  • ১২ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

হারাধন চৌধুরী: আমরা জানি, একতাই শক্তি। কাউকে ‘প্রতিপক্ষ’ এবং ‘দোর্দণ্ডপ্রতাপ’ মনে হলে তাকে বিভক্ত বা টুকরো করো, তার ভিতরে বাইরে ভাঙন ধরিয়ে দাও। তাহলে প্রতিপক্ষকে নিয়ে যাবতীয় ভয় দূর হয়ে যাবে। ব্রিটিশ ভারতে সাম্রাজ্যবাদী ইংরেজ রাজশক্তির ‘ডিভাইড অ্যান্ড রুল’ তত্ত্বের নিহিত ভাবনা ছিল এটাই। ভারতভূমি থেকে ইংরেজকে উৎখাত করার লক্ষ্য নিয়ে উনিশ-বিশ শতকে যে মরণপণ সংগ্রাম চলেছিল তার মূল চালিকাশক্তি ছিল বাঙালি। স্বাধীনতা সংগ্রামে অকুতোভয় বঙ্গসন্তানগণই অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছিলেন। ময়দানে প্রত্যক্ষ লড়াইয়ে ছিলেন ক্ষুদিরাম, প্রফুল্ল চাকি, বিনয়-বাদল-দীনেশ, মাতঙ্গিনী, মাস্টারদা, প্রীতিলতা, বাঘাযতীন, যতীন দাস, নেতাজিসহ অসংখ্য বীরসন্তান। এছাড়া আর একদল বঙ্গসন্তান প্রেরণা জুগিয়েছিলেন সমাজসংস্কার, শিক্ষাবিস্তার, ধর্মসংস্কার, সাহিত্যসৃষ্টি এবং সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে। এঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য রামমোহন, বিদ্যাসাগর, বিবেকানন্দ, অরবিন্দ, বঙ্কিমচন্দ্র, রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায়, রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, ডিএল রায়, অতুলপ্রসাদ, রজনীকান্ত, মকুন্দ দাস, বেগম রোকেয়া, সৈয়দ বদরুদ্দোজা, এস ওয়াজেদ আলি, আলিমুদ্দিন আহমদ (মাস্টার সাহেব), মোহিনী চৌধুরী প্রমুখ। বাংলা ও বাঙালির ঐক্যবদ্ধ শক্তিকে ধ্বংস করে দিতেই কার্জন বঙ্গভঙ্গের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠেন। বাঙালির আন্দোলনে পর্যুদস্ত রাজশক্তি প্ল্যান বি হিসেবে কলকাতার কৌলীন্য—দেশের রাজধানীর তকমা কেড়ে নিল। এরপর স্বাধীনতা ফিরিয়ে দেওয়ার নামে চাপিয়ে দেওয়া হল দেশভাগ। বিভাজন ঘটানো হল পাঞ্জাব ও বাংলার উপর দিয়ে। সর্বাধিক ক্ষতিগ্রস্ত হল বাংলা ও বাঙালি। ধর্মের ভিত্তিতে ভাগ হলেও একাধিক হিন্দুপ্রধান অঞ্চল জুড়ে দেওয়া হল পূর্ব পাকিস্তানের মানচিত্রে এবং একইভাবে একাধিক মুসলমানপ্রধান অঞ্চল যুক্ত করা হল পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে। অর্থাৎ ১৯৪৭-এ মানচিত্র পালটে দিয়েই ইংরেজের চক্রান্তে পূর্ণযতি পড়েনি, সুপ্ত রেখে দেওয়া হয়েছিল ভবিষ্যতে অধিক বিভাজনেরও বীজ। 

Advertisement

ধর্মীয় হানাহানির বিভীষিকা ভুলতে চেয়েছিল খণ্ডিত ভারত, আহত বাংলা। স্বাধীনতা-উত্তর পশ্চিমবঙ্গ বিভক্ত হয়েছিল মূলত কংগ্রেস আর কমিউনিস্টে। সেই বিভাজনচেতনা এখন বহুধাবিস্তৃত। আটদশকের পুরোনো বিভাজনের বীজকেই পর্যাপ্ত আলো হাওয়া জল দেওয়া হচ্ছে। তার ফলে বিভাজন, রাজনৈতিক চেতনা ফেলে সংকীর্ণ ধর্মীয় কোটরগত হয়ে পড়েছে। বাঙালির উপর নতুন করে চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে ‘আমার সোনার বাংলা’, ‘জনগণমন’ এবং ‘বন্দেমাতরম’ বিতর্ক। তার ফলে বহির্বঙ্গে রবীন্দ্রসংগীত গাওয়া ‘অপরাধ’, এমনকি ‘দেশদ্রোহিতা’ বলে গণ্য হচ্ছে! বাংলাদেশে ইউনুসপন্থী বুদ্ধিজীবীরা রবীন্দ্রনাথকে তো আগেই ‘শত্রু’ চিহ্নিত করেছে। রবীন্দ্রনাথের যাবতীয় চিহ্ন মুছে ফেলে ‘পবিত্র’ হতে চায় আজকের ওপার বাংলা। ওই মূর্খদেরই সঙ্গে পংক্তিভোজনে বসার তোড়জোড় করছে ভারতের নব্য গেরুয়া শক্তি। তারা জোর দিচ্ছে রবীন্দ্রনাথ বনাম বঙ্কিমচন্দ্র বিতর্কে। তারা প্রতিষ্ঠিত করতে চাইছে—প্রথম জন নাকি ইংরেজের দালাল এবং শুধু দ্বিতীয় জন প্রকৃত দেশভক্ত ছিলেন। স্বাধীনতা আন্দোলনের মন্ত্র ‘বন্দেমাতরম’ রচয়িতাকে মুসলমান এবং কংগ্রেসি বুদ্ধিবজীবীদের একাংশ আগেই ‘সাম্প্রদায়িক’ দেগে দিয়েছিলেন। এই প্রসঙ্গে মনে রাখা দরকার যে, ভারতের সংবিধানে জাতীয়সংগীত (ন্যাশনাল অ্যানথেম), রাষ্ট্রীয়সংগীতের (ন্যাশনাল সঙ) কোনও উল্লেখ নেই। সংবিধান রচনার দুমাস পর গণপরিষদের সভাপতি রাজেন্দ্র প্রসাদের মনে পড়ে যায়, ‘জাতীয়সংগীত’ সম্পর্কে প্রস্তাবগ্রহণ যে বাকি! তখন এক বিবৃতি দিয়ে তিনি জানান, ‘জনগণমন’ হবে রাষ্ট্রীয়সংগীত এবং সমমর্যাদায় গাওয়া হবে ‘বন্দেমাতরম’। ‘বন্দেমাতরম’ সম্পর্কে ১৯১৬ সালে রবীন্দ্রনাথের বক্তব্যটি প্রণিধানযোগ্য, ‘আমাদের বন্দেমাতরম্ মন্ত্র বাংলাদেশের বন্দনার মন্ত্র নয়—এ হচ্ছে বিশ্বমাতার বন্দনা—সেই বন্দনার গান আজ যদি আমরা প্রথম উচ্চারণ করি তবে আগামী ভাবী যুগে একে একে সমস্ত দেশে এই মন্ত্র ধ্বনিত হয়ে উঠবে।’ ১৯২৭-এ মহাত্মা গান্ধী মন্তব্য করেন, “When we sing that ode to motherland, ‘Bande Mataram’, we sing it to the whole of India.” তৎসত্ত্বেও ১৯৩৭ সালে কংগ্রেস ‘বন্দেমাতরম’-এর অঙ্গচ্ছেদের দুর্ভাগ্যজনক ইতিহাস রচনা করেছিল। ইতিহাসবিদদের ধারণা, মুসলিম লিগকে খুশি করতেই এই অবাঞ্ছিত পদক্ষেপ করেন নেহরু অ্যান্ড কোং। ভারত তার পরেও ভাগ হয়েছিল। নতুন মুসলিম রাষ্ট্র পাকিস্তান গঠনও সিকিশতক স্থায়ী হয়নি, তার আগেই দ্বিখণ্ডিত হয়েছে। ‘পূর্ব পাকিস্তান’ নাম নিয়েছে ‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ’। বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশকে ফের পাকিস্তান বানাবার ফন্দিফিকির শুরু হয়েছে। একদিকে, বাংলাদেশে কায়েম হয়েছে মুজিব ও চরম ভারত-বিরোধী শক্তি এবং পাকিস্তানে ক্রমে হাত শক্ত হচ্ছে আসিম মুনিরের। অন্যদিকে, পাকিস্তানেরও দিকে দিকে জোরদার হচ্ছে বিচ্ছিন্নতাবাদ। রাষ্ট্রবিজ্ঞানীদের একাংশের মতে, দ্বিখণ্ডিত পাকিস্তান আরও একাধিক টুকরো হওয়ার প্রহর গুনছে। 
এই পরিস্থিতিতে ভারতের অভ্যন্তরীণ ঐক্যবৃদ্ধি জরুরি। তার পরিবর্তে, মোদিযুগ বিভাজনের অস্ত্রেই গুছিয়ে শান দিচ্ছে। শুরুতে উড়িয়েছিল উগ্র হিন্দুত্বের ধ্বজা। এখন তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে প্রাদেশিকতা, ভাষা, উপভাষা এবং জাতপাতের দ্বন্দ্ব। এই প্রসঙ্গেই মনে পড়ে যাচ্ছে তীব্র ভারতবিরোধী একদা ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী চার্চিলের ভবিষ্যদ্বাণী, ‘ভয়ংকর মূর্খ লোভী ভারতীয়রা এই স্বাধীনতা রক্ষা করতে পারবে না।’ বস্তুত গোটা উপমহাদেশ চার্চিলের মুখের কথা ফলিয়ে দিতেই মরিয়া নয় কি? 
নরেন্দ্র মোদি চমক আর ম্যাজিকে আস্থাশীল। বিশেষ করে যখনই তাঁর গদি টলমল মনে হয়, তিনি বাজার খুঁজে খুঁজে হুজুগ আমদানি করেন এবং ধামাকা বাজিয়ে দেন। ন-বছর আগের নোট বাতিলের কথা তো ভুলবার নয়। নোটবন্দির দাম ভারতবাসী চুকিয়ে চলেছে আজও। মোদিজি আশ্বস্ত করেছিলেন, নোটজব্দের সঙ্গে সঙ্গে ম্যাজিকের মতোই জব্দ হয়ে যাবে কালো টাকার কারবারিরা। নোট জালের কারবারে পার্মানেন্ট তালা ঝুলবেই। কিন্তু কী পেল দেশ? নতুন ২০০০ টাকার নোট চটজলদি নকল করেই কি অর্থনীতির বুকে ভয় ধরায়নি জালিয়াতরা? সেই পিংক নোট বাজার থেকে চুপিসারে উধাওই হয়ে গেল! কী প্রমাণ হয়? ওইসঙ্গে ভেবে দেখতে হবে, দু-হাজারি নোট বাজারে আনতে কত হাজার কোটি টাকা জলাঞ্জলি গিয়েছে।
এবার তো শোনা যাচ্ছে দেশজুড়ে সক্রিয় জাল নথির কারবারিরা। তাদের টার্গেট এখন বার্থ সার্টিফিকেট। সৌজন্যে এসআইআর ধুয়ো। এর পাশাপাশি ভেবে দেখতে হবে: কোটি কোটি এ-৪ শিট ধ্বংস করা হচ্ছে এসআইআর গণনা ফর্মের জন্য। পরিবেশের উপর এর কী প্রভাব পড়ছে, তার হিসেব নিশ্চয় রাখছেন পরিবেশকর্মীরা। এই টাকায় কত উন্নয়ন হতে পারত? শিক্ষায় বাজেট বরাদ্দ এনইপি-২০২০ লক্ষ্যমাত্রাকে ছুঁতে পারেনি এবং উন্নত বিশ্বে শিক্ষাব্যয়ের থেকে বহু যোজন পিছিয়ে ভারত। দারিদ্র্য এবং মা ও শিশুর অপুষ্টিতে মোদির ভারত রেকর্ড গড়েই চলেছে। তারপরও গণতন্ত্রের গুণমান এবং জাতীয় সুরক্ষা বৃদ্ধির দোহাই পেড়ে চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে এসআইআর। তাহলে এসআইআর সম্পন্ন হওয়ার পর আমাদের আর ‘ইলেক্টোরাল অটোক্রেসি’র গালি শুনতে হবে না তো? দেশের নিরাপত্তা সুরক্ষা নিয়েও যাবতীয় দুশ্চিন্তা প্রশ্ন রাতারাতি উবে যাবে নিশ্চয়? তবে কি পহেলগাঁও, পুলওয়ামা, মুম্বই বিস্ফোরণ, মুম্বই হামলা, সংসদে জঙ্গি হামলা প্রভৃতিকেও মিউজিয়ামে পাঠিয়ে দিতে সফল হলাম আমরা? কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিলের সময় কিন্তু অনেক বাতেলা শোনা গিয়েছিল। পহেলগাঁওয়ে ২৬ জন নিরীহ পর্যটকের নির্মম পরিণতি কিন্তু তার বেশ পরের ঘটনা।
এসআইআর গণনার হুকুম দেওয়ার আগে মাথায় রাখা হয়েছে কি সর্বার্থে বঞ্চিত মানুষগুলির কথা? তাঁদের মধ্যে আছেন বানজারা, বৃদ্ধাশ্রমের বাসিন্দা, যেসব পরিবার প্রকৃত ভারতবাসী হয়েও যুগ যুগ ধরে ভূমিহীন কিংবা ফি বছর বন্যায় যথাসর্বস্ব ভেসে যায় যাদের। কিছু মুসলমান পরিবার জব্দ হবে—কতিপয় লোক এতে উল্লসিত। নথি আটকে রেখে অপছন্দের ব্যক্তিদের জব্দ করার কুচ্ছিত ছবিও সামনে আসছে। এসআইআর আতঙ্কে কিছু লোকের আত্মহত্যার বাস্তবকে মশকরার সাবজেক্ট করেছে কেউ কেউ। জাস্ট পৈশাচিক দেখাচ্ছে এসব। 
এই আবহে আরও একটি ছবি ধরা পড়েছে। নামধাম ঊহ্য রেখে একটি বাস্তব নমুনা দিয়েই শেষ করব এই লেখা:  এক বধূর জন্ম এদেশে। তাঁর বার্থ সার্টিফিকেট, স্কুল সার্টিফিকেট, পাসপোর্ট প্রভৃতি নেই। তাঁর বাবা ছয় দশক আগে পূর্ববঙ্গ থেকে আগত এবং তাঁর নিজের জমি-বাড়ি কিছু হয়নি আজও। কিন্তু ওই বধূর মা ঘটি। অজ্ঞাত কারণে ওই বধূর বাবা-মা দুজনের কারও ২০০২ এসআইআরে নাম নেই। তবে তাঁর মায়ের বাবা ও মা উভয়েরই নাম আছে ওই ম্যাজিক লিস্টে। আর নাম আছে তাঁর জেঠু জেঠিমার। ফর্মে ‘আত্মীয়’ বলা আছে। কেউ কেউ ব্যাখ্যা দিচ্ছেন, আত্মীয় মানে ‘রক্তের সম্পর্ক’। বধূ ভেবেছিলেন উপর্যুক্ত দুটির যেকোনও একটি লিংক ব্যবহার করেই উতরে যাবেন। যদিও পারিবারিক ঝামেলার কারণে তাঁর জেঠিমা লিংক দেবেন না, জানিয়ে দিয়েছেন সাফ সাফ। বাকি রইল দাদু ও দিদিমার (মাতামহ ও মাতামহী) লিংক। কিন্তু বিএলও জানিয়ে গিয়েছেন, ওই নথি গ্রাহ্য হবে না। একমাত্র ঠাকুর্দা, ঠাকুমার (পিতামহ ও পিতামহী) নথিই এসআইআরে গ্রহণ করা হবে। পরে ফর্ম ফিলাপ করার সময় বধূটির স্বামী বলেন, ‘তুমি ঠিক শোনোনি। বাড়ি থেকে দাদু দিদার নথি আনো।’ বধূ তখন ব্যাপারটা আরও পরিষ্কার হওয়ার জন্য স্বামীর সামনেই মহিলা বিএলও-কে ফোনে ধরেন এবং স্পিকারে দেন। বিএলও ফের জানিয়ে দেন, মাতামহ ও মাতামহীর নথি এসআইআরে গ্রাহ্য নয়! বস্তুত চিন্তায় পড়ে গেলেন স্বামী। ঘটি শাশুড়ির ব্যাজার মুখ দেখে বোঝাই যাচ্ছে, ভাবছেন যে, বাঙাল বউ এনে কী ভুলটাই না করেছি! অথচ তিনি নিজেই পছন্দ করে এনেছিলেন ওই সুন্দরী তরুণীকে। 
হুজুগের পর হুজুগ। কারও কারও রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য সব মিলিয়ে অর্থনীতির যে অনাবশ্যক অবাঞ্ছিত ক্ষয়ক্ষতি হয়ে চলেছে, তার অডিট হওয়া উচিত। নোটবন্দি থেকে জিএসটি থেকে এসআইআর—সব মিলিয়ে ভারতীয় অর্থনীতির থমকে যাওয়া এবং ক্ষয়ক্ষতির শ্বেতপত্র প্রকাশ করুক সরকার। পড়শি তিন দেশের বর্তমান অভিভাবকরা যেন শলা করেই নাগরিকদের অস্থির করে মারবার অপচেষ্টায় লিপ্ত।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ