


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ওবিসি জটিলতায় এমবিবিএস, বিডিএস এবং এমডিএস-এর কাউন্সেলিং এবং ভর্তি স্থগিত হয়ে যাওয়ায় ১৫ হাজারেরও বেশি ছাত্রছাত্রীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়ল। এদিকে কত তারিখের মধ্যে বিভিন্ন রাউন্ডের কাউন্সেলিং এবং ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে, সেই ব্যাপারে আদালতের সুস্পষ্ট নির্দেশ রয়েছে। ফলে ডাক্তারির স্নাতক এবং দন্ত চিকিৎসার স্নাতকোত্তর স্তরে ভর্তি প্রক্রিয়া শুরু হতে যত দেরি হবে, ততই সমস্যা শুধুমাত্র পঠনপাঠনে দেরির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। আইনি জটিলতাও বাড়তে পারে, এমনকী আদালত নির্ধারিত দিনক্ষণের মধ্যে ভর্তি না-হলে, গোটা ভর্তি প্রক্রিয়াই বাতিল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
এদিকে এভাবে নিট পাশ মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের কাউন্সেলিং স্থগিত হয়ে যাওয়ার প্রতিবাদে মঙ্গলবার স্বাস্থ্যভবনে ডেপুটেশন দেন এবং বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন এআইডিএসও সমর্থিত ছাত্রছাত্রী এবং তরুণ চিকিৎসকরা। সংগঠনের নেতা ডাঃ সৌরভ রায় সংবাদমাধ্যমের সামনে জানান, এভাবে ভর্তি প্রক্রিয়া স্থগিত হলে ছাত্রছাত্রীদের পঠনপাঠনের সময় কমবে। ক্ষতিগ্রস্ত হবে ডাক্তারি ছাত্রছাত্রীদের পড়াশোনা। ক্ষতিগ্রস্ত হবে স্বাস্থ্য পরিষেবাও। শুধু তাই নয়, এর সুযোগ নিয়ে বিভিন্ন প্রাইভেট মেডিক্যাল কলেজের ভর্তির অসাধু চক্র আরও সক্রিয় হয়ে উঠবে। মধ্যবিত্ত-নিম্নবিত্ত, মেধাবী ঘরের অভিভাবকদের প্রলুব্ধ করবার চেষ্টা চালাবে। তাই আমাদের দাবি, অবিলম্বে সমস্ত সমস্যার দ্রুত সমাধান করে ভর্তি প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করতে হবে এবং ক্লাস চালু করতে হবে। না-হলে রাজ্যজুড়ে ছাত্রসমাজ বৃহত্তর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবে।
প্রসঙ্গত, রাজ্যে মেডিক্যাল-ডেন্টাল মিলিয়ে ৪৮টি সরকারি-প্রাইভেট কলেজ রয়েছে। মোট আসন সংখ্যা ৬ হাজারেরও বেশি। তার মধ্যে ১৫ শতাংশ আসন সর্বভারতীয় কোটার জন্য সংরক্ষিত। বাকি ৮৫ শতাংশ রাজ্য কোটার আসনে কাউন্সেলিং প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল। প্রথম রাউন্ডে মেডিক্যাল-ডেন্টাল মিলিয়ে প্রায় সাড়ে চার হাজার আসনে কাউন্সেলিং শুরু হয়। অংশ নেন ১২ হাজারের বেশি ছাত্রছাত্রী। কাউন্সেলিং পর্ব শেষে ‘চয়েস লকিং’ পর্বও সমাপ্ত হয়েছে। কে কোন মেডিক্যাল বা ডেন্টাল কলেজে আসন পাচ্ছেন, সেই অ্যালটমেন্টের তালিকা আজ প্রকাশিত হওয়ার কথা ছিল। তাও স্থগিত হয়ে গিয়েছে। স্থগিত হয়ে গেল পরবর্তী সবক’টি কাউন্সেলিংও।
স্বাস্থ্যশিক্ষা মহল সূত্রের খবর, নিয়ম অনুযায়ী নিটের প্রথম রাউন্ডের রাজ্য কাউন্সেলিং শেষে ভর্তি প্রক্রিয়া ২৪ আগস্ট, দ্বিতীয় রাউন্ডের ভর্তি ১১ সেপ্টেম্বর, তৃতীয় রাউন্ডের ভর্তি ৩০ সেপ্টেম্বর এবং সবক’টি রাউন্ডের ভর্তি ১০ অক্টোবরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা। ক্লাস শুরু হয়ে যাওয়ার কথা ৫ সেপ্টেম্বর থেকে। স্বাস্থ্যদপ্তরের ওয়েস্ট বেঙ্গল মেডিক্যাল কাউন্সেলিং কমিটি তা নিশ্চিত করতে না পারলে বড়সড় আইনি জটিলতার মধ্যে ছাত্রছাত্রীদের পড়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করছে তথ্যাভিজ্ঞ মহল।