


শুভ্র চট্টোপাধ্যায়, কলকাতা: কোন কোন এলাকায় ভোটারদের প্রভাবিত করতে টাকা ও মদ বিলি হচ্ছে, তার খোঁজ করুন থানার অফিসাররা। কারা এগুলি বিলি করতে পারে তার একটা তালিকা ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সম্পর্কে তথ্য জোগাড় করুন। থানায় থানায় গিয়ে এমনই নির্দেশ দিচ্ছেন পুলিশ পর্যবেক্ষকরা। তাঁদের কড়া নির্দেশ কোনো এলাকায় এই ধরনের খবর আসার পরেও অফিসাররা নিষ্ক্রিয় থাকলে সেক্ষেত্রে কড়া শাস্তির মুখে পড়তে হবে।
ভোটের আগে ভোটারদের প্রভাবিত করার জন্য বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ করে রাজনৈতিক দলগুলি, যাতে ভোটটা তাদের বাক্সেই পড়ে। গ্রামীণ এলাকায় এই ধরনের প্রবণতা বেশি থাকে। রাজ্যে ভোটের ডিউটিতে আসা ভিন রাজ্যের পুলিশ পর্যবেক্ষকরা এই কারণে আগেভাগেই বেশি সতর্ক। তাঁরা চাইছেন কোথাও যেন টাকা বা মদ বিলি না-হয়। কোন কোন জায়গায় এই ধরনের প্রবণতা রয়েছে তার একটি ম্যাপিং তৈরি করেছেন তাঁরা। সেই অনুযায়ী সেখানে বিশেষ পদক্ষেপ করছেন, যাতে কোনো রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা ভোটারদের বাড়িতে গভীর রাতে হাজির হয়ে টাকাপয়সা, উপহার বা মদ বিলি করতে না পারে। এক্ষেত্রে থানাগুলির দায়িত্ব কী, তা থানার অফিসারদের স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন ভিন রাজ্যের এই আইপিএসরা। অতীতের ভোটে কোন কোন এলাকায় টাকা-পয়সা বা মদ বিলির ইতিহাস রয়েছে, তার তথ্য তুলে ধরা হচ্ছে। কারা এই কাজ করছে সেই সন্দেহভাজনদের তালিকাও ধরানো হচ্ছে থানাগুলিকে। গোলমেলে লোকদের গতিবিধির উপর নজর রাখতে বলা হচ্ছে। পুলিশ পর্যবেক্ষকরা বারবার বলছেন, সাধারণত ভোটের আগের দিন রাতেই টাকা-পয়সা বা মদ বিলি চলে। অন্য রাজ্যের সঙ্গে সীমানা রয়েছে এমন জেলাগুলিতে ভিন রাজ্য থেকেও রাজনৈতিক দলের নেতারা এসে টাকা বিলি করে চলে যায়। তাই থানাগুলিকে তাঁরা নির্দেশ দিয়েছেন, বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ঘুরে এসব বিষয়ে ভালো করে খোঁজখবর চালাতে। বাইরে থেকে কেউ এসে কোনো কিছুর টোপ দিচ্ছেন কি না, তাই নিয়ে ভোটারদের সঙ্গে কথা বলতে বলা হয়েছে। এমনকি, গাড়ি নিয়ে ঘনঘন যাতায়াত করলে সেই গাড়ির তথ্যাদি জোগাড়েও জোর দিয়েছেন পুলিশ পর্যবেক্ষকরা। তাঁরা থানাগুলিকে খতিয়ে দেখতে বলেছেন কোনো রাজনৈতিক নেতা ভোটারদের জন্য হঠাৎ করে খাওয়ানোর ব্যবস্থা করেছেন কি না। কারণ খাওয়ানোর সঙ্গে টাকা ও মদ বিলি হতে পারে বলে আশঙ্কা তাঁদের।