শিশির ঘোষ: মন ভরিয়ে দিল আপুইয়া। সোমবার যুবভারতীতে জামশেদপুর এফসি’র বিরুদ্ধে মিজো ফুটবলারের দুরন্ত গোল চলতি আইএসএলের অন্যতম সেরা। নিজের দিনে আপুইয়া দেশের সেরা ডিফেন্সিভ মিডিও। অফুরন্ত স্ট্যামিনা। চারটে ফুসফুস নিয়ে চষে বেড়ায় গোটা মাঠ। আপুইয়া মোহন বাগানের মিনি হারকিউলিস। প্রায় ২০ গজের গোলার মতো শটে লক্ষ্যভেদ সত্যিই তারিফযোগ্য। কোনও ভারতীয় ফুটবলারের পা থেকে এমন গোল দেখা নিঃসন্দেহে আলাদা তৃপ্তি দেয়। মুম্বই সিটি থেকে ছোঁ মেরে আপুইয়াকে ছিনিয়ে নেওয়া টিম ম্যানেজমেন্টের মাস্টার স্ট্রোক। আসলে মাঠের বাইরেও কয়েক কদম এগিয়ে সঞ্জীব গোয়েঙ্কার থিঙ্কট্যাঙ্ক। এই একটা গোলেই পয়সা উশুল। একইসঙ্গে টানা দ্বিতীয়বার আইএসএল ফাইনালে মোহন বাগান। মোলিনা ব্রিগেড ইতিমধ্যেই ভারত সেরা। শনিবার বেঙ্গালুরুকে বশ মানিয়ে ডাবল করার সোনার সুযোগ। জিতবে কে? ঘরের মাঠে মোহন বাগানই ফেভারিট। যে কোনও মুহূর্তে গোল করার ক্ষমতা ধরে এই দল। ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের কারণেই অ্যাডভান্টেজ মোহন বাগান। তবে ফোকাস হারানো চলবে না। কথায় আছে, প্রদীপ নিভে যাওয়ার আগে জ্বলে ওঠে। কেরিয়ারের গোধূলিতে ঢলে পড়া সুনীল ছেত্রীও ট্রফি জিততে মরিয়া। পাশাপাশি নোগুয়েরা, পেরেরা ডিয়াজের মতো ফুটবলার রয়েছে গার্ডেন সিটির দলে। মোহন বাগানের স্প্যানিশ কোচ নিশ্চয়ই স্ট্র্যাটেজি তৈরি শুরু করে দিয়েছেন।
মোহন বাগান বনাম জামশেদপুর ম্যাচের কথায় আসা যাক। অ্যাওয়ে যুদ্ধে এগিয়ে ছিল খালিদ ব্রিগেড। ঘরের মাঠে অল-আউট আক্রমণ ছাড়া রাস্তা নেই। আর তা বোঝার জন্য ফুটবল বিশেষজ্ঞ হবার দরকার নেই। তবে অবাক করল খালিদ জামিল। ম্যাচের প্রথম মিনিট থেকে ৭ জন নিয়ে ডিফেন্স করার স্ট্র্যাটেজি বোঝা দায়! মোহন বাগানের মতো হেভিওয়েট দলকে এভাবে রোখা অসম্ভব। কার্ড সমস্যায় স্টিফেন এজে আর আশুতোষ মেহতাকে পাননি খালিদ। একইসঙ্গে বড় ভুল করল প্রণয়। চাপের মুখে রক্ষণে পাস খেলা বোকামি। বল উড়িয়ে দিয়ে বাংলা ফুটবল খেলাই নিয়ম। ওর মতো সিনিয়রের কাছে এমন ভুল অপ্রত্যাশিত। যাই হোক, ম্যাচের শুরু থেকে বিনা বাধায় আলবার্তোরা উঠে এলেন মাঝমাঠে। জেসন কামিংস অন্যদিনের মতো ছন্দে থাকলে আগেই গোল পেয়ে যেত মোহন বাগান। অজি ফুটবলারকে তুলে স্টুয়ার্টকে নামানোই যেত। পাশাপাশি, জেমি ম্যাকলারেনও প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ। অজি বিশ্বকাপার সর্বোচ্চ পর্যায়ে খেলে এসেছেন। কিন্তু সেই স্পার্ক কোথায়? মাঝেমধ্যেই বেশ ক্লান্ত দেখাচ্ছে ওকে। খেতাবি লড়াইয়ের আগে তা নিশ্চয়ই মোলিনার নজর এড়ায়নি। রক্ষণেও আরও বাঁধুনি দরকার। বেঙ্গালুরু স্কোয়াডে রেয়ান উইলিয়ামসের মতো উইং-হাফ রয়েছে। চোরা গতি ব্যবহার করে বিপক্ষ রক্ষণকে চাপে ফেলে দেয় উইলিয়ামস। ফলে ওভারল্যাপে উঠলে দ্রুত ট্র্যাক ব্যাক করতে হবে শুভাশিসকে।



