


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বিজেপি বিরোধী লড়াইয়ে বাংলাকেই বেছে নিলেন আপ নেতা অরবিন্দ কেজরিওয়াল। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে বাংলার উপর যে আক্রমণ বিজেপি করছে, তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে দিল্লি থেকে কলকাতায় ছুটে এলেন তিনি। পরপর তিনটি জনসভা করলেন অরবিন্দ। খোলা মঞ্চ থেকে কেজরিওয়াল জানিয়ে দিলেন, বাংলার বিরুদ্ধে মোদি-শাহের ভয়ংকর হামলার বিরুদ্ধে বাঘিনীর মতো লড়াই করছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
আম আদমি পার্টির নিজের ঘরের সৈনিকরা দলবদল করছেন। তারপরেও বিজেপি বিরোধী লড়াইয়ে এক ইঞ্চি টলেননি অরবিন্দ কেজরিওয়াল। ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ছুটে এলেন বাংলায়। আঙুল তুলে হুংকার দিলেন মোদি-শাহের বিরুদ্ধে। রবিবার কলকাতায় তিনটি জনসভা করেন তিনি। বালিগঞ্জের তৃণমূল প্রার্থী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, বেলেঘাটার তৃণমূল প্রার্থী কুণাল ঘোষের সমর্থনে জনসভা করেন দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। তারপর টালিগঞ্জের তৃণমূল প্রার্থী অরূপ বিশ্বাস ও রাসবিহারী কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী দেবাশিস কুমারের সমর্থনে যৌথ সভা করেন কেজরিওয়াল। সব জায়গায় তিনি বক্তব্য শুরু করেন বাংলা ভাষায়। ‘আপনারা সবাই কেমন আছেন?’— জানতে চান আপ সুপ্রিমো। বাংলা অল্প অল্প বলতে পারেন, বাংলায় কেউ কথা বললে, সেটা বুঝতেও পারেন, সেটাও জানান তিনি। কেন বাংলায় ভোট প্রচারে ছুটে এসেছেন, সেটা জানান কেজরিওয়াল। বলেন, এটা দেশ বাঁচানো, গণতন্ত্রকে রক্ষা করার নির্বাচন। বিজেপির মোকাবিলায় বাংলার লড়াই দেখছে গোটা দেশ। তাই এই লড়াইয়ে বাংলার মানুষের পাশে থাকতে কলকাতায় এসেছি। এসআইআর প্রক্রিয়ার শুরু থেকে এপর্যন্ত বাংলায় কী কী ঘটেছে, তার পুঙ্খানুপুঙ্খ খবর রয়েছে দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর কাছে। তাঁর অভিযোগ, নরেন্দ্র মোদি, অমিত শাহরা চক্রান্ত করেছেন ভোটার তালিকা বদলে দেওয়ার। যে কাজে জ্ঞানেশ কুমার প্রত্যক্ষ মদত দিচ্ছেন। আর আগে আমাকে মিথ্যা মামলায় জেলে ভরে দিল্লি কবজা করেছে বিজেপি। কিন্তু পরে আদালত আমাকে সম্পূর্ণ নির্দোষ প্রমাণিত করেছে। তাঁর দাবি, নরেন্দ্র মোদি সব দিক থেকে ব্যর্থ প্রধানমন্ত্রী। ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতের বিরদ্ধে এত কথা বলছেন, অথচ নরেন্দ্র মোদির মুখে একটি শব্দও নেই। বিজেপি কিভাবে মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দেয়, সেই তথ্যও হাজির করেছেন কেজরিওয়াল। তাঁর বক্তব্য, দিল্লির ভোটের সময় মহিলাদের মাসে আড়াই হাজার টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি নরেন্দ্র মোদি দিয়েছিলেন। কিন্তু আজ পর্যন্ত কেউ সেই টাকা পাননি। এবার বাংলায় এসে মহিলাদের তিন হাজার টাকা করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন মোদি। সেটাও জুমলা। তাই বাংলার মহিলাদের বলব, ইভিএমে পদ্মফুলের ব্যাটন হল খতরনাক।
নির্বাচন কমিশন, আর্মি, সাঁজোয়া গাড়ি, কেন্দ্রীয় বাহিনী, ইডি, সিবিআই, ইনকাম ট্যাক্স সহ সব এজেন্সিকে কাজে লাগিয়ে বিজেপি বাংলা দখলের ছক কষেছে বলে অভিযোগ। এতসবের পরেও মমতাই জিতবেন বলে প্রত্যয়ী কেজরিওয়াল। তাঁর ব্যাখ্যা, দিদির সঙ্গে আছেন বাংলার মানুষ। আর মমতার উপর আশীর্বাদ আছে মা দুর্গা, মা কালীর।