


সোহম কর, কলকাতা: ঝাড়গ্রামে প্রচারে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আচমকা ঢুকে পড়েছিলেন ঝালমুড়ির দোকানে। কায়দা করে সে ছবি তোলা হয়েছিল। ভোটের বাজারে সে ছবি সকলকে নতুন খোরাক দিয়েছে। তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পর্যন্ত এর সমালোচনা করেছেন। মোদি হঠাৎ ঢুকেছিলেন দোকানে নাকি সবটাই সাজানো। তৈরি স্ক্রিপ্ট? পূর্ব মেদিনীপুরের পটাশপুর কেন্দ্রের সিপিআই প্রার্থী সৈকত গিরি বলছেন, ‘মুড়িতে জিএসটি বসিয়ে এখন দেখনদারির রাজনীতি করছেন প্রধানমন্ত্রী।’
প্রচার পর্বে সৈকতরা চেয়েচিন্তে মুড়ি নিয়েছেন গৃহস্থের কাছ থেকে। তা লঙ্কা দিয়ে খেয়ে পেট ভরিয়েছেন। মুড়ি তাঁদের কাছে বিলাসিতার বা প্রচারের বিষয় নয়। তাই গরিবের মুড়ি নিয়ে হাই প্রোফাইলদের রাজনীতি সৈকতরা মোটেই ভালোভাবে নিতে পারছে না। ‘দরিদ্রের খাবার নিয়ে ছেলেখেলা করছেন মোদি। জিএসটি বাড়িয়ে প্রথমে গরিবের পেটে লাথি মেরেছেন। এবার ভোটে ঝালমুড়ি খেয়ে দেখনদারির রাজনীতি করতে এসেছেন,’ বক্তব্য বামকর্মীদের।
তরুণ প্রার্থী সৈকত প্রচারের মধ্যে ভোটে লড়ার জন্য অর্থসংগ্রহে বেরিয়েছিলেন লাল শালু হাতে। কেউ টাকা দিয়েছেন। কারও কাছ থেকে টাকা না পেলে ‘মুড়ি-চাল ভিক্ষা’ করেছেন সৈকতরা। তিনি বলেন, ‘আমরা তো সারাবছরই মানুষের কাছ থেকে সাহায্য নিয়ে থাকি। আসলে মুড়ি আমাদের কাছে দেখনদারির নয়। ওটা আমাদের মেদিনীপুরের মানুষের কাছে খেটে খাওয়া, মেহনতিদের প্রয়োজনীয় খাদ্য। পেট ভরানোর অন্যতম প্রধান খাবার।’ প্রচারে বেরিয়ে সাধারণ মানুষদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা মুড়ি-তরকারি কিংবা চাল দিয়ে কার্যত দিন কাটাচ্ছেন সৈকত। বাড়ি বাড়ি গিয়ে বলেছেন, ‘পতাকা বা ফেস্টুনের জন্য সাহায্য করুন। এক মুঠো চাল-মুড়ি দিলেও হবে।’ প্রচারের ফাঁকে দলের কর্মীদের সঙ্গে ভাগ করে সেই মুড়ি-তরকারি লঙ্কা দিয়ে কামড়ে খাচ্ছেন। তাঁরা মনেপ্রাণে বিশ্বাস করেন, মানুষের দেওয়া খাবার সবার সঙ্গে ভাগ করে খেলে জনভিত্তি দৃঢ় হয়। মানুষ ঘরের ছেলে বলে কাছে টেনে নেন। সৈকত বলেন, ‘বিরোধী দু’দলের প্রার্থীরা কেউ রুটি বানাচ্ছেন। কেউ নাপিতের কাজ করছেন। এসবই দেখনদারি রাজনীতি। আমাদের নতুন করে এসব করতে হয় না। বরং এই নরেন্দ্র মোদিই মুড়ির উপর জিএসটি বসিয়ে গরিব মানুষের পেটে লাথি মেরেছেন। আর এখন সেই মুড়ি নিয়েই রাজনীতি করছেন। আসলে উনি ছবি তোলার জন্য মুড়ি খেয়েছেন। আমরা পেট ভরানোর প্রয়োজনে খাই। এটাই পার্থক্য।’