Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬

‘ফর্টিফায়েড রাইস’ বিতরণ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত মোদি সরকারের, আইআইটি খড়্গপুরের সর্তকবার্তা

পর্যাপ্ত পরীক্ষা ছাড়াই গণবণ্টন ব্যবস্থায় শুরু হয়ে গিয়েছিল ফর্টিফায়েড রাইস বিতরণ। সহজ কথায় ‘পুষ্টিকর চাল’। সেই চাল বিতরণ আপাতত বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্র।

‘ফর্টিফায়েড রাইস’ বিতরণ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত মোদি সরকারের, আইআইটি খড়্গপুরের সর্তকবার্তা
  • ৯ মার্চ, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: পর্যাপ্ত পরীক্ষা ছাড়াই গণবণ্টন ব্যবস্থায় শুরু হয়ে গিয়েছিল ফর্টিফায়েড রাইস বিতরণ। সহজ কথায় ‘পুষ্টিকর চাল’। সেই চাল বিতরণ আপাতত বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্র। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, ঢোঁক গিলতে হল মোদি সরকারকে। কারণ, ২০২১ সালে স্বাধীনতা দিবসের বক্তৃতায় লালকেল্লা থেকে বড়ো মুখ করে মোদি ঘোষণা করেছিলেন, ২০২৪ সালের মধ্যে সরকারি যাবতীয় খাদ্য বিতরণে ফর্টিফায়েড রাইস দেওয়া হবে। সেই মতো ২০২২ সালে ২ হাজার ৭০০ কোটি টাকা বরাদ্দও হয়। সাধারণ চালের সঙ্গে আয়রন, ফলিক অ্যাসিড এবং ভিটামিন-বি১২ মিশিয়ে তৈরি হচ্ছিল ফর্টিফায়েড রাইস। কিন্তু আদতে এখন আইআইটি খড়্গপুরের বিজ্ঞানীদের গবেষণালদ্ধ পরামর্শে খাদ্যমন্ত্রক তা বন্ধ করছে। রেশনে দেওয়া হবে না এই চাল। 

Advertisement

গণবণ্টন ব্যবস্থায় সাধারণ চালের পরিবর্তে এ ধরনের ফর্টিফায়েড রাইস দেওয়ার বিষয়টিতে গোড়া থেকে আপত্তি তুলেছিল ‘অল ইন্ডিয়া ফেয়ার প্রাইস শপ ডিলার্স ফেডারেশন।’ এখন তা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বিশ্বম্ভর বসু বলেন, ‘ভারতীয় খাদ্যাভ্যাস অতি সাধারণ। আর সাধারণ চালে যে পুষ্টিগুণ রয়েছে, আমরা তাতেই অভ্যস্ত। ফর্টিফায়েড রাইসে চালের স্বাদ বদলে যায়। তাই অনেক সময়ই গ্রাহক প্রত্যাখ্যান করে। যা আমরা খাদ্যমন্ত্রককে জানিয়েছি। এতদিনে কেন্দ্র তা বুঝেছে, সেটাই ভালো।’  ‘প্রধানমন্ত্রী গরিব কল্যাণ অন্ন যোজনা’র পাশাপাশি স্কুলে মিড ডে মিলেও দেওয়া শুরু হয়েছিল ফর্টিফায়েড রাইস। লক্ষ্য ছিল, অ্যানিমিয়া রোখার পাশাপাশি পুষ্টির যোগান। বিশেষত, মহিলা এবং শিশুদের। তবে এ ধরনের চালের কার্যকারিতা নিয়ে পরীক্ষার জন্য সম্প্রতি আইআইটি খড়্গপুরকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। তারা কেন্দ্রকে জানিয়েছে, দীর্ঘদিন এ ধরনের চাল গুদামে বা রেশন দোকানে পড়ে থাকলে গুণ নষ্ট হয়ে যায়। বিভিন্ন রাজ্যের আবহাওয়া, আর্দ্রতা, সংরক্ষণ পদ্ধতি, প্যাকেজিংও তাতে প্রভাব ফেলছে। দীর্ঘদিন পড়ে থাকায় ওই চালের মধ্যে মাইক্রোনিউট্রিয়েন্টের পরিমাণ হ্রাস পায় এবং সংরক্ষণের সময়ও কমে যায়। ফলে প্রত্যাশিত পুষ্টিগত সুফল মিলছে না। এই রিপোর্ট পাওয়ার পরেই খাদ্যমন্ত্রক জানিয়েছে, আপাতত ফর্টিফায়েড রাইস  বণ্টন করা হবে না। তবে তার জন্য গণবণ্টন ব্যবস্থা, আইসিডিএস বা মিড ডে মিলে চালের কোনো অভাব হবে না। সরকারি প্রকল্পে লাগে ৩৭২ মিলিয়ন টন চাল। খরিফ মরসুমে (২০২৫-২৬) সরকার সংগ্রহ করেছে ৬৭৪ মিলিয়ন টন। ফলে অভাবের কোনো সম্ভাবনা নেই।

সম্পর্কিত সংবাদ