প্রীতেশ বসু, কলকাতা: সীমান্ত সুরক্ষার ইস্যুতে পশ্চিমবঙ্গে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতার দেওয়ার জন্য রাজ্য জমি দিচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। মঙ্গলবার বাঁকুড়ার জনসভা থেকে এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলেই জানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ওইসঙ্গে বিস্তারিত তথ্যসমেত তিনি জানিয়ে দেন, কেন্দ্রের দাবি মেনে বাংলার কোন কোন জায়গায় রাজ্যের তরফে জমি দেওয়া হয়েছে। এমন অভিযোগ-পালটা অভিযোগের আবহে প্রকাশ্যে এসেছে বিএসএফ’কে সীমান্তে কাঁটাতার দেওয়ার জন্য জমি প্রদানের প্রশাসনিক রিপোর্ট। এতেই পরিষ্কার হয়েছে বাস্তব চিত্রটা। ওই রিপোর্ট অনুযায়ী, এরাজ্যে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের জন্য প্রয়োজনীয় ২০২ একর জমি কেনার টাকাই এখনও কেন্দ্র বরাদ্দ করেনি। এই জমির বিষয়টি রাজ্য মন্ত্রিসভার তরফে অনুমোদিত। এখানেই শেষ নয়, ১৭৯ কিমি অসুরক্ষিত সীমান্ত বরাবর কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার জন্য রাজ্যকে জমি কেনার ফর্মাল প্রোপোজাল বা সরকারিভাবে প্রস্তাব পাঠায়নি কেন্দ্র। এটা না পেলে রাজ্যের পক্ষে বিএসএফের হাতে জমি তুলে দেওয়া সম্ভব নয়। দাবি প্রশাসনিক মহলের।
মঙ্গলবার রাজ্যে এসে অমিত শাহ দাবি করেছেন, রাজ্য জমি দিচ্ছে না বলেই সীমান্তে কাঁটাতার দেওয়ার কাজ শেষ করা যাচ্ছে না। আর এই কাজ না-হলে বিএসএফের পক্ষে অনুপ্রবেশ ঠেকানোর কাজও যথাযথভাবে করা সম্ভব নয়। এই দাবি সঠিক নয় বলে গর্জে উঠেছেন বাংলার জননেত্রী। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলার নামে অপপ্রচার করছেন। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশের সঙ্গে অসুরক্ষিত ৫৬৩ কিমি সীমান্তের মধ্যে ৪৫০.৫ কিমি এলাকায় কাঁটাতার দেওয়া সম্ভব। এখনও পর্যন্ত রাজ্যকে মাত্র ২৭১ কিমি সীমান্ত বরাবর ফেনসিংয়ের জন্য ২,৭৯৫.৬৯ একর জমি চেয়েছে কেন্দ্র। সূত্রের খবর, বাকি ১৭৯ কিমির জন্য আরও কত একর জমি প্রয়োজন, তার হিসেবই এখনও করেনি কেন্দ্র।
সীমান্তে কাঁটাতারের জমি কিনতেও জরুরি রাজ্য মন্ত্রিসভার অনুমোদন। দেখা যাচ্ছে, ২৭১ কিমি কাঁটাতার দিতে কেন্দ্রের চাওয়া ২৭৯৫.৬৯ একরের মধ্যে ১৪৬৩.০৯ একর কেনার অনুমোদন ইতিমধ্যেই রাজ্য মন্ত্রিসভা দিয়েছে। ওই জমিতে ২৫৭.৪ কিমি সীমান্ত বরাবর কাঁটাতার দেওয়া সম্ভব। সীমান্তবর্তী জেলায় ৩৮৩.৬৮ একর জমি ইতিমধ্যে বিএসএফ’কে হস্তান্তরও করা হয়েছে। তবে মন্ত্রিসভা অনুমোদিত ২০২ একর জমির জন্য এখনও কেন্দ্রের তরফে কোনও অর্থ বরাদ্দ করা হয়নি। বিশেষ সূত্রের খবর, এখনও পর্যন্ত কেন্দ্রের তরফে মাত্র ২২৭ কিমি বরাবর বেড়া দিতে প্রয়োজনীয় জমি কিনতে মাত্র ৪৯৪ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে কেন্দ্র। তার মধ্যে ১৭৭.২ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে গত এপ্রিল থেকে নভেম্বরের মধ্যে। সদ্য সদ্য টাকা দিয়েই জমি না-পাওয়ার দাবি কতটা যুক্তিযুক্ত, তার বিচার কে করবে? এই প্রশ্ন তুলছেন ওয়াকিবহাল মহল।