নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ছাব্বিশের ভোটযুদ্ধের ঠিক এক বছর আগে থেকেই তপ্ত বাংলার রাজনীতি। যার সূত্রপাত ঘটতে চলেছে আজ, বৃহস্পতিবার। বাংলায় আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সভা করবেন আলিপুরদুয়ারে। আর পশ্চিমবঙ্গে পা রাখার ২৪ ঘণ্টা আগে নরেন্দ্র মোদি এক্স-হ্যান্ডেলে তৃণমূলের বিরুদ্ধে ‘অপশাসনের’ অভিযোগ তোলায় বাংলার রাজনৈতিক আবহাওয়া যেন আরও তেতে উঠেছে। যেখানে মোদির বক্তব্যের বিরোধিতা করতে দেরি করেনি তৃণমূল। মোদিকে নির্বাচনী পরিযায়ী ভোট পাখি হিসেবে কটাক্ষ করেছে রাজ্যের শাসক দল। প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে তৃণমূল শিবির থেকে প্রশ্ন ছুড়ে দেওয়া হয়েছে, বাংলার প্রাপ্য টাকা কোথায় গেল? সমাজমাধ্যমে জোড়াফুল শিবিরের প্রচার #আয়ে হো তো বাতাকে যাও!
২০২৬ সালে বাংলায় বিধানসভা নির্বাচনের আর বছর খানেকও বাকি নেই। তৃণমূল, বিজেপি সহ অন্য রাজনৈতিক দলগুলি সাংগঠনিক প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে। এই আবহে আজ, বৃহস্পতিবার নরেন্দ্র মোদির বঙ্গ সফর রাজনৈতিক দিক থেকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। একইদিনে সিকিম ও আলিপুরদুয়ারে কর্মসূচি রয়েছে মোদির। অপারেশন সিন্দুরের পর এটাই প্রথম বঙ্গ সফর প্রধানমন্ত্রীর। বাংলায় আসার আগে বুধবার সামাজিক মাধ্যমে নরেন্দ্র মোদি উল্লেখ করেছেন, পশ্চিমবঙ্গের মানুষের মধ্যে থাকা সবসময়ই আনন্দের। ২৯ মে আলিপুরদুয়ারের একটি অনুষ্ঠানে আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহার জেলায় নগর গ্যাস সরবরাহ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হবে। এর ফলে বহু মানুষ উপকৃত হবেন, পরিবেশের উন্নতি হবে এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।
এরপরই মোদি তাঁর বঙ্গ সফর নিয়ে আরও যে সমস্ত বার্তা দিয়েছেন, তাতেই রাজনৈতিক উত্তাপ কয়েক গুণ বেড়ে গিয়েছে। যেখানে মোদি লিখেছেন, বৃহস্পতিবার দুপুরে আলিপুরদুয়ারে বিজেপির একটি জনসভায় আমি বক্তব্য রাখব। গত এক দশক ধরে এনডিএ সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের ব্যাপক ভাবে প্রশংসা করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মানুষ। একইসঙ্গে বাংলার মানুষ তৃণমূলের দুর্নীতি ও অপশাসনে ক্লান্ত।
বাংলায় আসার আগেই দুর্নীতি ও অপশাসন নিয়ে মোদি যেভাবে সুর চড়িয়ে দিয়েছেন, তাতে আজকে তাঁর সভার ভাষণ আরও আক্রমণাত্মক হবে বলেই মনে করা হচ্ছে। পাল্টা জবাব দিয়েছে তৃণমূল। একটি পরিযায়ী পাখির গলায় পদ্মফুল আঁকা উত্তরীয় পড়ানো ছবি প্রকাশ করে তৃণমূল বলেছে, এসেছেন যখন বলে যান, বাংলার প্রাপ্য টাকা কোথায়? ১০০ দিনের কাজ, আবাস, গ্রাম সড়ক সহ বিভিন্ন প্রকল্পে কেন্দ্রের কাছে বাংলার প্রাপ্য ১ লক্ষ ৭০ হাজার কোটি টাকার উপরে। সেই প্রাপ্য টাকা কোথায়? বাংলাকে কেন বঞ্চনা করা হচ্ছে?
মোদির বক্তব্যকে উদ্দেশপ্রণোদিত ও অবাঞ্ছিত বলে সমালোচনা করেছেন তৃণমূল নেতৃত্ব। রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ বলেন, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে আমরা কেন্দ্রের পাশে আছি। কিন্তু বাংলায় আসার আগে নরেন্দ্র মোদি কেন কাশ্মীরে জঙ্গি হানার ঘটনাস্থলে গেলেন না? কেন গেলেন না মণিপুরে? বাংলার বিরুদ্ধে নরেন্দ্র মোদির কুৎসা দুর্ভাগ্যজনক। তৃণমূলের রাজ্য সহ সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার বলেন, নরেন্দ্র মোদিবাংলায় ডেইলি প্যাসেঞ্জার হয়ে এলেও, বিজেপি ২০২৬ সালে জিততে পারবে না।