Bartaman Logo
২২ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / বিদেশ

২৬/১১ মুম্বই হামলার অন্যতম চক্রী,   রানাকে ভারতে প্রত্যর্পণে সায় মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের  

জন্ম পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের চিচাওয়াতনিতে। চিকিৎসক হিসেবে পাকিস্তান সেনায় কর্মরত ছিলেন। পরে কানাডার নাগরিকত্ব পেয়ে দেশত্যাগ। ইমিগ্রেশন সার্ভিসের ব্যবসা শুরু। সেই ব্যবসাকে ‘ঢাল’ করেই শুরু হয় গোপনে সন্ত্রাসবাদী কাজকর্মে মদত।

২৬/১১ মুম্বই হামলার অন্যতম চক্রী,   রানাকে ভারতে প্রত্যর্পণে সায় মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের
 
  • ২৬ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
ওয়াশিংটন: জন্ম পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের চিচাওয়াতনিতে। চিকিৎসক হিসেবে পাকিস্তান সেনায় কর্মরত ছিলেন। পরে কানাডার নাগরিকত্ব পেয়ে দেশত্যাগ। ইমিগ্রেশন সার্ভিসের ব্যবসা শুরু। সেই ব্যবসাকে ‘ঢাল’ করেই শুরু হয় গোপনে সন্ত্রাসবাদী কাজকর্মে মদত। আর তারপর লস্করের হয়ে জঙ্গি হামলার প্ল্যানে সরাসরি অংশগ্রহণ। ২৬/১১ বা ২০০৮ সালের মুম্বই হামলার অন্যতম চক্রী সেই তাহাউর রানাকে অবশেষে হাতে পেতে চলেছে ভারত। সাধারণতন্ত্র দিবসের প্রাক্কালে এল সুখবর। পাকিস্তান-জাত কুখ্যাত এই জঙ্গিকে প্রত্যর্পণে অনুমতি দিল আমেরিকার সুপ্রিম কোর্ট। রানাকে ফেরাতে পারলে ২৬/১১ হামলায় পাকিস্তানের ভূমিকা নিয়ে আরও অকাট্য প্রমাণ হাতে আসতে পারে।
Advertisement
কুখ্যাত এই জঙ্গিকে প্রত্যর্পণের রাস্তা পরিষ্কার হলেও বিদেশের মাটিতে এখনও বহাল তবিয়তে আরও একঝাঁক ফেরার অপরাধী। বিজয় মালিয়া, নীরব মোদি, মেহুল চোকসির মতো আর্থিক অপরাধী, খালিস্তান টাইগার ফোর্সের প্রধান অর্শদীপন সিং গিল ওরফে অর্শ দাল্লা, গোল্ডি ব্রার, লরেন্স বিষ্ণোইয়ের ভাই আনমোল বিষ্ণোইয়ের মতো গ্যাংস্টার সেই তালিকায় অন্যতম। তাদের দেশে ফেরানো আদৌ সম্ভব হবে কি না, সেই প্রশ্ন উঠছে। 
২৬/১১ মুম্বই হামলায় প্রাণ গিয়েছিল ১৬৬ জনের। সেই ভয়াবহ হামলার পরিকল্পনায় লস্কর-ই-তোইবা কাজে লাগিয়েছিল বিদেশি নাগরিকত্ব থাকা দুই পাকিস্তানিকে। একজন রানা। অপরজন তার বন্ধু দাউদ গিলানি ওরফে ডেভিড কোলম্যান হেডলি। পাকিস্তান সেনার আবাসিক কলেজে পড়ার সূত্রেই তাদের সাক্ষাৎ ও বন্ধুত্ব। পরবর্তীকালে রানার কানাডীয় ও হেডলির মার্কিন নাগরিকত্বকে কাজে লাগিয়েই মুম্বই হামলার ছক কষে লস্কর। রানার ইমিগ্রেশন সার্ভিসের কর্মী পরিচয়েই দফায় দফায় মুম্বই আসে হেডলি। হোটেল তাজ সহ হামলার নিশানায় থাকা স্থানগুলি রেকি করে। সেই মোতাবেকই তৈরি হয় ছক। সমুদ্রপথে ১০ জঙ্গি বাণিজ্যনগরীতে ঢুকে নারকীয় হত্যালীলা চালায়।
প্রাথমিকভাবে ডেনমার্কে হামলার একটি ছকে জড়িত থাকার অভিযোগে ২০০৯ সালে গ্রেপ্তার হয় এই লস্কর জঙ্গি। পরে মুম্বই হামলাতেও তার যুক্ত থাকার বিষয়টি সামনে চলে আসে। বর্তমানে লস এঞ্জেলেসের মেট্রোপলিটন ডিটেনশন সেন্টারে বন্দি ৬৪ বছরের রানা। ভারতে প্রত্যর্পণ ঠেকাতে সে মার্কিন আদালতে আবেদন করেছিল। কিন্তু নিম্ন আদালতগুলি তা খারিজ করে দেয়। শেষ পর্যন্ত গত ১৩ নভেম্বর মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় এই জঙ্গি। ১৬ ডিসেম্বর সেদেশের সলিসিটর জেনারেল এলিজাবেথ বি প্রিলোগার রানার আবেদন খারিজের দাবি জানান। মার্কিন সুপ্রিম কোর্টও তাতে সায় দিয়ে দিল। এই আইনি সিদ্ধান্তে সিলমোহর পড়েছে ২১ জানুয়ারি। অর্থাৎ, ডোনাল্ড ট্রাম্প শপথ নেওয়ার পরদিনই।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ