


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: উত্তর কলকাতার নামী স্কুলের ভিতর চার বছরের শিশুর যৌন নিগ্রহের অভিযোগকে ঘিরে ধুন্ধুমার কাণ্ড ঘটল। অভিযোগ, বৃহস্পতিবার ওই ছাত্রীকে অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি ও নিপীড়ন করে এক রাজমিস্ত্রি। এর আগেও ওই শিশুকে লজেন্সের টোপ দিয়ে তাকে যৌন নিগ্রহের চেষ্টা করে সেখানকার রাজমিস্ত্রিরা। বিষয়টি স্কুল কর্তৃপক্ষকে জানিয়েও কোনও ফল না হওয়ায়, এদিন ঘটনা ঘটার পরই ক্ষোভে ফেটে পড়েন অভিভাবকরা। শিক্ষিকাদের সঙ্গে রীতিমতো হাতাহাতি শুরু হয়ে যায়। যা রাস্তা পর্যন্ত চলে আসে। বিশাল পুলিস বাহিনী এসে শিক্ষিকাদের উদ্ধার করে। আটক করা হয়েছে চার রাজমিস্ত্রিকে।
স্কুলের এক অভিভাবিকার কথায়, ডাফ স্কুলে দিন দশেক হল মেরামতির কাজ চলছে। অভিযোগ, মেয়েদের স্কুল হওয়া সত্ত্বেও সকাল থেকেই সেখানে কাজ করছে মিস্ত্রিরা। স্কুল চলাকালীন তারা ভিতরে ঘুরে বেড়াচ্ছে। মেয়েদের শৌচালয়ের সামনেও চলে যাচ্ছে। এক অভিভাবিকা জানিয়েছেন,সোমবার চার বছরের এক শিশুকে টার্গেট করে এক রাজমিস্ত্রি। বাচ্চাটি যখন খেলছিল, তখন তার কাছ গিয়ে লজেন্স নিতে বলে। সে রাজমিস্ত্রিকে বলে এই লজেন্স খেলে গা চুলকাবে। মা নিষেধ করেছে এই ধরনের লজেন্স খেতে। বাড়ি ফিরে সে বিষয়টি মাকে জানায়। তার মা স্কুলে এসে শিক্ষিকাদের জানালেও, বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে স্কুল কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার ফের ছাত্রীর কাছে চলে আসে এক রাজমিস্ত্রি। তাকে ক্যাডবেরি দেখিয়ে নিতে বলে। কিন্তু এবারও শিশুটি জানায়, মা বলে দিয়েছে ক্যাডবেরি খেলে দাঁত পড়ে যাবে, গা চুলকাবে। তাই খাব না। আর বাইরের লোকের কাছ থেকে কোনও কিছু নিষেধ করেছেন মা। বুধবারও বাড়ি ফিরে গোটা বিষয়টি সে মাকে জানায়। এরপর বৃহস্পতিবার নিয়মমাফিক স্কুলে আসে। দুপুরে টয়লেটে যায়। অভিভাবিকাদের অভিযোগ, টয়লেট থেকে বেরোতেই এক রাজমিস্ত্রি অশ্লীল আচরণ করে। এমনকী যৌন নিগ্রহ করেছে। ছুটির পর বাচ্চাটি মাকে ঘটনার কথা জানালে স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফেটে পড়েন ওই অভিভাবিকা। এই সময় অন্য অভিভাবিকারাও ছিলেন। ঘটনা শুনে তাঁরা স্কুল ঘেরাও করেন। তাঁদের দাবি, ঘটনার কথা স্কুল কর্তৃপক্ষকে জানানোর পরেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। আর বাচ্চাদের জন্য মাত্র একজন মহিলা অ্যাটেনডেন্ট রয়েছেন। যে কারণে সমস্ত বাচ্চার উপর নজরদারি চালানো সম্ভব নয়। বিক্ষোভপর্বে শিক্ষিকারা বাইরে বের হলে, তাঁদের বাধা দেওয়া হয়। মারধরও করা হয়েছে বলে অভিযোগ। খবর পেয়ে আসে শ্যামপুকুর থানার পুলিস। অভিভাবিকাদের শান্ত করে সেখান থেকে সরিয়ে দেয় পুলিস। শিক্ষিকাদের বাইরে বের করে নিয়ে যাওয়া হয়। পুলিসের দাবি যৌন নিগ্রহের ঘটনা ঘটেনি। লজেন্স দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিতর্কের সূত্রপাত। নিজস্ব চিত্র