Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বালিটিকুরিতে ট্রেনের ভেস্টিবিউলের ফাঁক গলে পড়ে গিয়ে মৃত্যু পরিযায়ী শ্রমিকের

বালিটিকুরিতে ট্রেনের ভেস্টিবিউলের ফাঁক গলে পড়ে গিয়ে মৃত্যু পরিযায়ী শ্রমিকের
  • ২৯ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: বেঙ্গালুরুতে কাজ থেকে ছুটি পেয়ে বিহারের গ্রামের বাড়িতে ফিরছিলেন পরিযায়ী শ্রমিক। বেঙ্গালুরু-ভাগলপুর ১২২৫৩ অঙ্গ এক্সপ্রেসের জেনারেল কামরায় সওয়ার হয়েছিলেন বছর পঁচিশের যুবক পিন্টু কুমার। সোমবার ভোররাতে ডানকুনির আগে বালিটিকুরি কেবিনের কাছে ট্রেন থেকে পড়ে মৃত্যু হয়েছে তাঁর। এরপর ভোররাত থেকে এদিন সকাল ৯টা পর্যন্ত ওই শ্রমিকের দেহ রেললাইনেই পড়ে ছিল। কারণ দেহ কে নেবে, তা নিয়ে শালিমার জিআরপি ও দাশনগর থানার মধ্যে দীর্ঘ টানাপোড়ন চলে। শেষে দাশনগর থানার পুলিস দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।

Advertisement

পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, বিহারের বেগুসরাইয়ের বালিয়ার বাসিন্দা পিন্টু কুমার বেঙ্গালুরুতে নির্মাণ শ্রমিকের কাজ করতেন। মাস চারেক আগে বেঙ্গালুরুতে গিয়েছিলেন কাজে। সম্প্রতি দু’সপ্তাহের ছুটি পেয়ে গ্রামেরই দুই যুবকের সঙ্গে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। ওই যুবকদের কথা অনুযায়ী, বেঙ্গালুরু-ভাগলপুর অঙ্গ এক্সপ্রেসের ভিড়ে ঠাসা জেনারেল কামরায় বসার জায়গা পাননি তাঁরা। তাই বাথরুমের সামনে দুই কামরার মাঝে ভেস্টিবিউলের উপর বসেছিলেন পিন্টু। দুই সহকর্মী বসেছিলেন কিছুটা দূরে। বেশি রাতে ঘুম জড়িয়ে আসে চোখে। আচমকা টাল সামলাতে না পেরে ভেস্টিবিউলের ফাঁক দিয়ে চলন্ত ট্রেন থেকে রেললাইনে পড়ে যান পিন্টু। মুহূর্তেই ধর ও মাথা আলাদা হয়ে যায় তাঁর। আশপাশের যাত্রীদের চিৎকারে তাঁর দুই বন্ধু ছুটে আসেন। রাত পৌনে তিনটে নাগাদ ঘটনাটি ঘটেছে। সেই সময় ট্রেনটি বালিটিকুরি কেবিন পার হচ্ছিল। ডানকুনি স্টেশনে নেমে মৃত শ্রমিকের বন্ধুরা রেল পুলিসকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে যান।
এরপরেই শুরু হয় বিপত্তি। দেহ উদ্ধার কে করবে, তা নিয়ে টালবাহানা শুরু হয় শালিমার জিআরপি ও দাশনগর থানার মধ্যে। ফলে অকুস্থলে পুলিস এলেও সকাল ৯টা পর্যন্ত ওই দেহ রেললাইনেই পড়ে থাকে। ভিড় জমে যায় স্থানীয় বাসিন্দাদের। অবশেষে দাশনগর থানার পুলিস দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। রেল পুলিসের দাবি, ভট্টনগর ও বালিটিকুরি কেবিনের আগে রেললাইনে যে জায়গায় দেহটি পড়েছিল, সেই জায়গাটি এখনও জিআরপিকে হস্তান্তর করা হয়নি। অতএব জায়গাটি স্থানীয় থানার আওতায় পড়ে। হাওড়া সিটি পুলিসের এক আধিকারিক বলেন, ‘দেহ দীর্ঘক্ষণ পড়ে থাকলেও রেল পুলিস সেটি তোলেনি। সেকারণেই স্থানীয় থানাকে দায়িত্ব নিতে হয়েছে। মৃতের পরিবারকে খবর দেওয়া হয়েছে।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ