নিজস্ব প্রতিনিধি ও সংবাদদাতা: শহরতলির বিভিন্ন প্রান্তে সাড়ম্বরে পালিত হল বিশ্ব পরিবেশ দিবস। কোথাও বৃক্ষরোপণ, কোথাও প্লাস্টিক ব্যবহারের বিরুদ্ধে সচেতন করা হল নাগরিকদের।
নিজস্ব প্রতিনিধি ও সংবাদদাতা: শহরতলির বিভিন্ন প্রান্তে সাড়ম্বরে পালিত হল বিশ্ব পরিবেশ দিবস। কোথাও বৃক্ষরোপণ, কোথাও প্লাস্টিক ব্যবহারের বিরুদ্ধে সচেতন করা হল নাগরিকদের।
হাওড়া শহরের বিভিন্ন এলাকা সহ আড়ুপাড়া, কদমতলা, ইছাপুর, শৈলেন মান্না সরণিতে এদিন এক হাজার গাছ রোপণ করে হাওড়া পুরসভা। পুরসভার মুখ্য প্রশাসক ডাঃ সুজয় চক্রবর্তী বিভিন্ন স্বনির্ভর গোষ্ঠী ও স্কুল পড়ুয়াদের হাতে চারাগাছ তুলে দেন। এজেসি বোস বোটানিক্যাল গার্ডেন কর্তৃপক্ষ সচেতনতামূলক র্যালির আয়োজন করে। জেলা মৎস্য দপ্তরের তরফে বালি-জগাছা ব্লক অফিসে বৃক্ষরোপণের পাশাপাশি একটি স্বাস্থ্য পরীক্ষা শিবিরের আয়োজন করা হয়। জগৎবল্লভপুর সহ গ্রামীণ হাওড়ার বিভিন্ন এলাকায় পুলিসের তরফে বৃক্ষরোপণের কর্মসূচি নেওয়া হয়। প্লাস্টিক বর্জনে অভিনব উদ্যোগ নিল হাওড়ার শ্যামপুর ১ নম্বর ব্লক প্রশাসন। সূত্রের খবর, প্লাস্টিকের পুনর্ব্যবহারে জোর দিতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে প্রশাসন। প্রতিদিন বিভিন্ন জায়গা থেকে প্লাস্টিক সংগ্রহ করে হোটেলে জমা দিলে একজন বিনামূল্যে খাবার পাবেন। হাওড়া গ্রামীণ জেলা পুলিসের উদ্যোগে জেলা জুড়ে গাছ বসানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। হাওড়া গ্রামীণ জেলা পুলিসের উদ্যোগে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের পূর্ত ও জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তরের মন্ত্রী পুলক রায়। গ্রামীণ জেলার পুলিস সুপার সুবিমল পাল জানান, হাওড়া গ্রামীণ এলাকায় প্রাথমিকভাবে পঁচ হাজার গাছ লাগানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। শ্যামপুর ১ নম্বর ব্লকের কমলপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় কঠিন বর্জ্য নিষ্কাশন ব্যবস্থাপনায় আরণ্যক নির্মল উদ্যানের উদ্বোধন করেন বিধায়ক কালীপদ মণ্ডল। হুগলি জেলাজুড়ে বিভিন্ন পুরসভা ও পঞ্চায়েতের পক্ষ থেকে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছিল। হুগলির ভাঙন কবলিত বলাগড়ের চর এলাকায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি নিয়েছিল জিরাট গ্রাম পঞ্চায়েত। চর খয়রামারিতে নারকেল, সুপারির মতো শক্ত শিকড়যুক্ত গাছ রোপণ করা হয়। কোন্নগর ও চুঁচুড়া পুরসভার তরফেও যথাযথ মর্যাদায় দিনটি পালিত হয়েছে। পাণ্ডুয়ায় প্লাস্টিক বর্জনের বার্তার মাধ্যমে দিনটি পালিত হয়। হুগলি জেলা পরিষদের মৎস্য স্থায়ী সমিতি জেলার তিনটি জায়গায় মৎস্যজীবীদের নিয়ে বৃক্ষরোপণ করেছে।
উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁ পুরসভার চেয়ারম্যান গোপাল শেঠের নেতৃত্বে শহরের বিভিন্ন স্থানে কয়েকশো গাছ লাগানো হয়। বনগাঁ পুলিস জেলার পক্ষ থেকে এবং কয়েকটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের পক্ষ থেকে গাছ লাগানো হয়। সুন্দরবনের ২ নম্বর সাহেবখালিতে আয়োজিত হল পরিবেশ সচেতনতামূলক প্রদর্শনী। দক্ষিণ দমদমে এনইউএলএম ও আম্রুত মিত্র প্রকল্পের মাধ্যমে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শহরের প্রতিটি ওয়ার্ডে পুরসভা নিয়ন্ত্রিত পুকুর পাড়ে স্বনির্ভর মহিলাদের মাধ্যমে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সুন্দরবনের মৈপীঠের গুড়গুড়িয়া ভুবনেশ্বরী এলাকায় কেক কেটে গাছের জন্মদিন পালন হয়। দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা বিজ্ঞান মঞ্চের উদ্যোগে কুলতলির জামতলা ভগবানচন্দ্র হাইস্কুলে বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালন করা হয়। ডায়মন্ডহারবার পুরসভা এদিন ২২ হাজারের বেশি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি নিয়েছে।
অন্যদিকে, বারাকপুরে সমস্ত জলাশয় বা পুকুর বাঁচানোর জন্য বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি এদিন থেকে শুরু হল। সব মিলিয়ে পুকুর পাড়ে ১৬০০ গাছ লাগানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এছাড়াও কাঁচরাপাড়া, হালিশহর, নৈহাটি পুরসভা বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করে। কাঁচরাপাড়ায় বিভিন্ন স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা এদিন শোভাযাত্রা করে। মধ্যমগ্রামের গঙ্গানগরে ভারত স্কাউট অ্যান্ড গাইডের সদস্যরা এবং ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলারা বৃক্ষরোপণ করেন।