নিজস্ব প্রতিনিধ, বারাকপুর: ভোট প্রচারের শুরুতেই জমজমাট শিল্পাঞ্চল। ময়দানে নেমে ঘুঁটি সাজাচ্ছে সব পক্ষ। শুক্রবার জগদ্দলে পা রেখে বিজেপি প্রার্থী ডক্টর রাজেশ কুমার সাফ জানিয়ে দিলেন, দুষ্কৃতীদের কীভাবে দমন করতে হয় জানি। এদিন তিনি মেঘনা মোড়ে অর্জুন সিংয়ের বাসভবন মজদুর ভবনে যান। সেখানে বিজেপি কর্মীরা তাঁকে স্বাগত জানান, বাজি ফাটান। বিজেপি কর্মীদের সঙ্গে বৈঠক করে তিনি বলেন, ৩৫ বছর ধরে পুলিশের মাধ্যমে সেবা করেছি। এবার নরেন্দ্র মোদির উন্নয়নকে সামনে রেখে কাজ করে যাব। এবার অন্য প্ল্যাটফর্ম। মানুষের সেবা করতে চাই। আমি আশা করছি জগদ্দলের মানুষের সমর্থন পাব।
এদিন অর্জুন সিংয়ের হাত ধরে নৈহাটি বিধানসভা কেন্দ্রে ৪০ জন তৃণমূল কর্মী বিজেপিতে যোগদান করেন। উত্তর বারাকপুর পুরসভার কাউন্সিলার শ্রাবণী কাশ্যপি এবং তাঁর স্বামী মৃন্ময় কাশ্যপি বিজেপিতে যোগ দেন। বীজপুরের বিজেপি প্রার্থী সুদীপ্ত দাস হালিশহরের রামপ্রসাদের ভিটেতে পুজো দেন। সেখান থেকে সুদীপ্ত দাসকে তাঁর হালিশহরের বাড়িতে নিয়ে যান অর্জুন। সাতবছর বাদে হালিশহরে নিজের বাড়িতে পা রাখলেন সুদীপ্ত। তার মা-বাবা পুত্রকে দেখে চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি। প্রসঙ্গত, খুনের মামলায় ‘এলাকা ছাড়া’ ছিলেন সুদীপ্ত।
সন্ধ্যায় হালিশহরে বিশাল কর্মিসভা করেন বীজপুরের তৃণমূল প্রার্থী সুবোধ অধিকারী। সেখানে বক্তব্য রাখেন সাংসদ পার্থ ভৌমিক, মুকুল পুত্র শুভ্রাংশু রায় এবং সুবোধ অধিকারী। তিনি বলেন, বিজেপিকে গুরুত্ব না দিয়ে গত পাঁচ বছরে আমরা যে কাজ করেছি, তা মানুষের কাছে তুলে ধরতে হবে। আমাদের প্রধান প্রতিপক্ষ সিপিএম। তবে অর্জুন সিং প্রার্থী হওয়ায় ‘ব্যাটল ফিল্ড’ হয়ে দাঁড়িয়েছে নোয়াপাড়া। এদিন মণিরামপুরে একটি কালীমন্দিরে পুজো দিয়ে প্রচার শুরু করেন অর্জুন সিং। তিনি নবাবগঞ্জে দলীয় কার্যালয় উদ্বোধন করেন। পার্থ ভৌমিককে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বলেন, উনি তো সরকারি গুন্ডা। এই সরকার চলে গেলে পালিয়ে যাবেন। আমি তো ‘শের’, কোনো নির্দিষ্ট এলাকা থাকে না।
অর্জুন সিংয়ের বক্তব্যকে ফুৎকারে উড়িয়ে দিয়ে পার্থ ভৌমিক বলেন, গত লোকসভা ভোটে ওকে আমি হারিয়েছি। এবার আমার ছাত্র তৃণাঙ্কুর ওকে হারাবে। এদিন নোয়াপাড়ায় দফায় দফায় বৈঠক করেন পার্থ ভৌমিক। লোকসভা ভোটের মতো এই বিধানসভা কেন্দ্রে যেন পার্থ-অর্জুনের দ্বৈরথ হয়ে দাঁড়িয়েছে।