


নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাকপুর: শুক্রবার জগদ্দল মেঘনা মোড়ের কাছে ১৮ নম্বর গলিতে চোর সন্দেহে মানসিক ভারসাম্যহীন এক যুবককে পিটিয়ে খুনের ঘটনা ঘটেছিল। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভাটপাড়া-জগদ্দলের রাজনৈতিক বাতাবরণ সরগরম হয়ে উঠেছে। এই খুনের অভিযোগ উঠেছে তৃণমূল কাউন্সিলার সুনীতা সিংয়ের ছেলে নমিত সিং ও তাঁর শাগরদেদের বিরুদ্ধে। তদন্তে নেমে পুলিশ ইতিমধ্যেই তিন শাগরেদকে গ্রেপ্তার করেছে। ধৃতরা হল আজাদ আলি, রাজু হরি এবং জিৎ ঘোষাল। তিনজনই ১৮ নম্বর গলির বাসিন্দা। যেখানে মহম্মদ ইশতেহাক নামে ওই যুবককে পিটিয়ে খুন করা হয়। ওই যুবক মানসিক ভারসাম্যহীন বলে তাঁর প্রতিবেশিরা জানিয়েছেন। খুনের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত নমিত সিংয়ের সন্ধানে তাঁর এক আত্মীয় তথা গারুলিয়া পুরসভার কাউন্সিলার নান্নে সিংয়ের বাড়িতে শনিবার সন্ধ্যায় হানা দেয় পুলিশ। সেখানে স্থানীয় মানুষের বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয় পুলিশকে। নাগাল মেলেনি নমিতের।
এই মর্মান্তিক ঘটনায় ইতিমধ্যেই লেগেছে রাজনীতির রঙ। প্রাক্তন সাংসদ অর্জুন সিং শনিবার সাংবাদিক বৈঠক করে অভিযোগ করেন, নমিত সিং দলবল নিয়ে মহম্মদ ইশতেহাক নামে ওই যুবককে লোহা চোর সন্দেহে মারধর করেছেন এবং তাতেই মৃত্যু হয়েছে গারুলিয়ার ওই যুবকের। নমিত সিংয়ের একটি ‘টর্চার চেম্বার’ আছে। সেখানে অনেককে নিয়ে মারধর করে। এর আগে রাজু সাউ নামে একজনকে খুনের অভিযোগ রয়েছে। যদিও জগদ্দলের তৃণমূল বিধায়ক সোমনাথ শ্যাম সাংবাদিক বৈঠক করে পাল্টা বলেন, নমিত যেহেতু আমার সঙ্গে থাকে এবং ভালো সংগঠক, তাই ওঁর নাম বলা হচ্ছে। এমন ভাব দেখাচ্ছেন, যেন ভাজা মাছটা উল্টে খেতে জানেন না। নমিতের বাবা বিষ্ণু সিংকে খুনের অভিযোগ রয়েছে অর্জুনের বিরুদ্ধে। উনি এখন সাধু সাজছেন।
উল্লেখ্য, শুক্রবার সকাল থেকেই অসংলগ্নভাবে নমিত সিংয়ের বাড়ি সংলগ্ন এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছিল মহম্মদ ইশতেহাক নামে ওই যুবক। এরপরই চোর সন্দেহে কয়েকজন যুবক তাকে এলোপাথাড়ি মারধর করে। পরে হাসপাতালে চিকিৎসকরা তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। বারাকপুর পুলিস কমিশনারেটের ডিসি নর্থ গণেশ বিশ্বাস বলেন, এলাকার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখে আর কারা ঘটনার সাথে যুক্ত, তা দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ধৃত তিনজনকে এদিন বারাকপুর মহকুমা আদালতে তোলা হলে বিচারক তাদের ১০ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।