Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মাধ্যম এনজিও! বাংলায় ভোটের আগে বিপুল টাকা ঢোকানোর ছক

ভোটের আগে বাংলাকে অশান্ত করতে ‘টাকার জোগান’! নির্বাচনের ঢাকে কাঠি পড়ে গেলে ভিন রাজ্য থেকে কালো টাকা ঢোকানোর মধ্যে কিছু নতুনত্ব নেই।

মাধ্যম এনজিও! বাংলায় ভোটের আগে বিপুল টাকা ঢোকানোর ছক
  • ২০ অক্টোবর, ২০২৫ ১৩:১০
Prefer us on Google

সুখেন্দু পাল, বর্ধমান: ভোটের আগে বাংলাকে অশান্ত করতে ‘টাকার জোগান’! নির্বাচনের ঢাকে কাঠি পড়ে গেলে ভিন রাজ্য থেকে কালো টাকা ঢোকানোর মধ্যে কিছু নতুনত্ব নেই। কিন্তু এবার বিধানসভা নির্বাচনের পাঁচ-ছ’মাস আগেই এই চক্রান্তের জাল বোনা শুরু হয়ে গিয়েছে বলে গোয়েন্দা সূত্রে খবর। আর এক্ষেত্রে এবার টার্গেট করা হয়েছে এনজিও বা স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলিকে। তাদের মাধ্যমেই ‘হাওলায়’ টাকা ঢোকানোর নেটওয়ার্ক সক্রিয় হয়ে উঠেছে ‘ডাবল ইঞ্জিন’ রাজ্য থেকে। এমন বেশ কিছু সংস্থাকে কোটি কোটি টাকা দেওয়ার প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে ইতিমধ্যেই। এমনকি, অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করতে দিলে সংস্থার কর্ণধারদের মোটা অঙ্কের কমিশন দেওয়ার প্রলোভনও দেওয়া হচ্ছে। তবে অনেকেই এই ‘অপারেটর’দের অফার ফিরিয়ে দিয়েছে বলে খবর। তবে ‘ভোট কেনার’ জন্য এভাবে ফান্ডিংয়ের প্রবণতায় চিন্তার ভাঁজ পড়েছে পুলিশ-প্রশাসনের কপালে।

Advertisement

প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্যে প্রায় ২৯ হাজার ৯৩২টি এনজিও রয়েছে। বহু সংস্থা মানবকল্যাণে কাজ করে। কিন্তু, কিছু সংস্থার কাজ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। ২০২৪ সালে এরাজ্যের দু’টি এনজিওকে কালো তালিকাভুক্ত করা হয়। ওই দু’টিই পূর্ব মেদিনীপুর থেকে পরিচালিত হত। আরও কয়েকটি এনজিও’র উপর প্রশাসন নজরদারি রেখেছে। বর্ধমানের এক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার অন্যতম কর্ণধার বলেন, ‘কয়েক দিন আগে বর্ধমানের পুলিশ লাইনের এক যুবকের সঙ্গে পরিচয় হয়। সে টাকার প্রস্তাব দেয়। কয়েক দিন পর ওই যুবক সহ চারজন আমাদের সংস্থার অফিসে হাজির। বেশ কিছুক্ষণ কথা বলার পর তারা জানায়, আমেদাবাদের একটি সংস্থা ৪১ কোটি টাকা পাঠাবে। অ্যাকাউন্ট ট্রান্সফার। সেই টাকা থেকে ৪০ কোটি টাকা তাদের দিয়ে দিতে হবে। বাকি এক কোটি টাকা তারা সংস্থাকে দেবে। তাদের প্রস্তাব শুনে অবাক হই। তবে এই প্রথম নয়, এর আগেও উত্তরপ্রদেশ থেকে মোটা টাকা পাওয়ার অফার পেয়েছিলাম। তারাও কয়েক কোটি টাকা দিতে চেয়েছিল। সন্দেহ হওয়ায় তাদের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছিলাম। তাছাড়া আমাদের অ্যাকাউন্টে এত টাকা নেওয়ার আইনি অধিকারও নেই।’ 
নগদ পাচার করলে নাকা তল্লাশির বেষ্টনীতে ধরা পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল থাকে। প্রতিবারই ভোটের আগে এমন নগদ ও মাদক বিপুলভাবে ধরা পড়ে। কিন্তু কোনও সংস্থার অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করলে সেই ঝুঁকি কম। সংস্থাকে মোটা অঙ্কের কমিশন দিয়ে বাকি টাকাটা যেমন খুশি বের করে নেওয়া যায়। পূর্ব বর্ধমান জেলাপরিষদের শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষ শান্তনু কোনার বলেন, ‘কয়েক দিন আগে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা বিষয়টি আমাকে জানিয়েছে। আমরা নিশ্চিত বিজেপি শাসিত রাজ্য থেকে এভাবে বাংলায় টাকা পাঠানো হচ্ছে। ভোটের কাজে এই টাকা খরচ করা হবে। বিষয়টি দল ও পুলিশকে জানিয়েছি।’ 
ওই স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার এক সদস্য বলেন, বিষয়টি সন্দেহজনক হওয়ায় পুলিশকে মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে। এক আধিকারিক বলেন, বিষয়টি দেখার জন্য আলাদা দপ্তর রয়েছে। তাদের বিষয়টি অবগত করা হবে। অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। বিজেপি নেতা মৃত্যুঞ্জয় চন্দ্র বলেন, ‘হাওলার মাধ্যমে টাকা এলে প্রশাসনের দেখা উচিত। আমরাও চাই, অবৈধ কারবার বন্ধ হোক। তবে, তৃণমূলের নেতারাই বিভিন্নভাবে কালো টাকা সাদা করতে চাইছে। আমাদের দল কখনওই এসব সমর্থন করে না।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ