সংবাদদাতা, তেহট্ট: কৃষ্ণনগর থেকে আসার সময় বেশ কয়েকটি বাস থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে। কোনওরকমে আসতে পারলেও তাঁদের বসার জায়গা দেওয়া হয়নি। এই অভিযোগে তেহট্টের হরিপুরে রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখালেন মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষজন। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত করিমপুর-কৃষ্ণনগর রাজ্য সড়ক অবরোধ থাকে। পরে পুলিসি আশ্বাসে অবরোধ ওঠে। অফিস টাইমে এই অবরোধে বহু মানুষ দুর্ভোগে পড়ে।
অবরোধকারীদের সূত্রে জানা গিয়েছে, হরিপুর থেকে প্রায় ২০০জন ঠাকুরনগরে বারুণি মেলায় গিয়েছিলেন। তাঁদের কাছে ঠাকুর নগর তীর্থস্থান। সেই জায়গা থেকে শুক্রবার সকালে তাঁরা বাড়ি ফেরার জন্য কৃষ্ণনগরে নামেন। তাঁদের অভিযোগ, কৃষ্ণনগর বাসস্ট্যান্ডে পরপর বেশ কয়েকটি বাসে তাঁরা উঠলে তাঁদের নামিয়ে দেওয়া হয়। তাঁদের বাসে বসার জায়গা পর্যন্ত দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। তাঁরা বিভিন্ন দলে ভাগ হয়ে বাসে দাঁড়িয়ে হরিপুরে নামেন। সবাই যখন হরিপুরে এসে পৌঁছন তারপরে রাজ্য সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখানো হয়। অফিস টাইমে এই অবরোধে দুর্ভোগে পড়েন যাত্রীরা। মতুয়া সম্প্রদায়ের এই অবরোধে স্থানীয় মতুয়ারাও যোগ দেন।
বিক্ষোভকারী মণিগোপাল বিশ্বাস বলেন, মতুয়া সম্প্রদায়ের তীর্থস্থান ঠাকুরনগর থেকে ফেরার সময় এই ঘটনা ঘটে। কৃষ্ণনগর থেকে হরিপুরের দূরত্ব প্রায় ৬২কিলোমিটার। বাসে আসন ফাঁকা থাকা সত্ত্বেও দাঁড়িয়ে আসতে বাধ্য করা হয়। এই অন্যায়ের প্রতিবাদে রাস্তা অবরোধ করা হয়। যদি এর সমাধান না হয় আমরা আরও বড় আন্দোলনে নামব।
কৃষ্ণনগর-করিমপুর রুটের এক বাসকর্মী বলেন, বাস থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়নি। তাঁরা বাসের ছাদে উঠেছিলেন। তাই তাঁদের নামিয়ে দেওয়া হয়েছে। আর সবাইকে তো বসার জায়গা দেওয়া যায় না। কৃষ্ণনগর বাস ইউনিয়নের সম্পাদক কুণাল ঘোষ বলেন, ছাদে উঠে তাঁরা ডঙ্কা বাজাতে বাজাতে আসতে চাইছিলেন। তাই তাঁদের ছাদ থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়। এতজনের একটি বাসে জায়গা না হওয়ায় তাঁরা ধাপে ধাপে এসেছেন। অফিস টাইমে বাসের সিট খালি ছিল না। প্রায় এক ঘণ্টা অবরোধের পর তেহট্ট থানার আইসি অভিজিৎ বিশ্বাস ঘটনাস্থলে পৌঁছে আশ্বাস দিলে অবরোধ ওঠে। পুলিস জানিয়েছে, আজ, শনিবার সব পক্ষ নিয়ে বসে একটা সুস্থ সমাধান করা হবে।