Bartaman Logo
২৮ মে, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

মতুয়া কার্ডেরই চাহিদা, হিন্দু শংসাপত্রে অনীহা অনেকের, ঠাকুরবাড়িতে সিএএ ক্যাম্প

এসআইআর প্রক্রিয়ায় গতি আসতেই ঠাকুরনগর ঠাকুরবাড়িতে বেড়ে গিয়েছে মতুয়া কার্ড গ্রহণের ভিড়। সিএএ মারফত ভারতের নাগরিকত্ব পেতে ওইসঙ্গে হিন্দু শংসাপত্র পেশ করাও নাকি জরুরি।

মতুয়া কার্ডেরই চাহিদা, হিন্দু  শংসাপত্রে অনীহা অনেকের, ঠাকুরবাড়িতে সিএএ ক্যাম্প
  • ৭ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০

নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: এসআইআর প্রক্রিয়ায় গতি আসতেই ঠাকুরনগর ঠাকুরবাড়িতে বেড়ে গিয়েছে মতুয়া কার্ড গ্রহণের ভিড়। সিএএ মারফত ভারতের নাগরিকত্ব পেতে ওইসঙ্গে হিন্দু শংসাপত্র পেশ করাও নাকি জরুরি। এটাই চাউর হয়ে গিয়েছে মতুয়া ভক্তদের মধ্যে। এই দুটি নথিই নিতে হবে টাকার বিনিময়ে। ভক্তদের মধ্যে মতুয়া কার্ড সংগ্রহে আগ্রহ থাকলেও হিন্দু শংসাপত্র গ্রহণে অনীহা ব্যাপক। ক্ষুব্ধ লোকজনের বক্তব্য, আমরা তো হিন্দুই। আমাদের নাম-পদবিতেই তা স্পষ্ট। তাহলে নিজেকে আলাদা করে ‘হিন্দু’ প্রমাণের কী প্রয়োজন? প্রশ্ন মতুয়া সম্প্রদায়ের একাংশের। 

Advertisement

ভারতীয় নাগরিকত্ব লাভের ইশ্যুতে কয়েকমাস ধরে ঠাকুরবাড়ির দুই জায়গায় ভিন্ন ভিন্ন ভাবে সিএএ শিবির খুলেছেন শান্তনু ঠাকুর ও সুব্রত ঠাকুর। কিন্তু এর উলটো স্রোতও বইছে ঠাকুরবাড়ির এই শিবিরে। হিন্দু শংসাপত্র নিয়ে শিবিরে আগত মতুয়া ভক্তদের একাংশকে ক্ষোভ প্রকাশ করতেও দেখা গেল। তাঁদের দাবি, আমরা তো হিন্দুই, মুসলমান নই কোনোভাবে। তাহলে হিন্দুত্বের প্রমাণ দিতে কেন আমাদের ‘হিন্দু’ শংসাপত্র নিতে হবে?
বৃহস্পতিবার ঠাকুরবাড়িতে গিয়ে দেখা গেল, শান্তনু ঠাকুর ও সুব্রত ঠাকুরের দুই শিবিরে সকাল থেকেই মতুয়া ভক্তরা আসছেন। যদিও বুধবারের তুলনায় এদিন ভিড় অনেকটাই কম। চেয়ার, টেবিল পেতে দুই ভাইয়ের ঘনিষ্ঠরা মতুয়া কার্ড ও হিন্দু শংসাপত্র করিয়ে দিচ্ছেন। শান্তনু ঠাকুরের স্ত্রী সোমা ঠাকুর মতুয়াভক্তদের সঙ্গে এসে কথাও বলেছেন। এতদিন তৃণমূল ছাড়া বিজেপি সমর্থিত মতুয়া মহাসংঘেরও একটি শাখা ছিল। সব মিলিয়ে ঠাকুরবাড়ি এখন ‘তেভাগা’। শান্তনু ঠাকুর ও সুব্রত ঠাকুর দুই ভাইয়ের অন্দরের বিবাদ প্রকাশ্যে চলে এসেছে। আর তার প্রভাব পড়েছে মতুয়া-মনে, তা ভক্ত বা দলপতিদের কথাতেই স্পষ্ট। সিএএতে আবেদনের জন্য মাসদুই আগে ঠাকুরবাড়িতে দুটি ভিন্ন ভিন্ন ক্যাম্প করেন সুব্রত এবং তাঁর ভাই শান্তনু। তা নিয়েই দুই ভাইয়ের দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে আসে। 
দক্ষিণ ২৪ পরগনার কাকদ্বীপ থেকে এদিন ঠাকুরবাড়িতে এসেছিলেন কাকলি হালদার। চোখে-মুখে অসন্তোষ নিয়ে বসে আছেন শান্তনু ঠাকুরের কার্যালয়ের বারান্দায়। জিজ্ঞেস করতেই কাকলি বলেন, মতুয়া কার্ড নিতে বুধবার এসেছিলাম। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত অপেক্ষা করেও ফিরতে হয়েছে। এদিন না দিলে কাউন্টারে যিনিই থাকুন না কেন তাঁকে দু-কথা শুনিয়ে যাব। ওঁদের খিদে কবে মিটবে জানি না! হিন্দু শংসাপত্র বিষয়ে জানতে চাইতেই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটল তাঁর গলায়। সুর চড়িয়ে কাকলি বললেন, আমরা যে হিন্দু, সমস্ত কার্ডে লেখা নাম-পদবিতেই তা স্পষ্ট। তা সত্ত্বেও কেন এঁদের কাছ থেকে আলাদা করে হিন্দু শংসাপত্র নিতে হবে? রানাঘাট থেকে সপরিবারে ঠাকুরবাড়িতে আসেন সুদীপ বিশ্বাস এবং তাঁর স্ত্রী দেবী বিশ্বাস। একটি চায়ের দোকানে বসে তাঁরা বলছিলেন, হিন্দু হওয়া সত্ত্বেও ১০০ টাকা খরচ করে হিন্দুর শংসাপত্র নিতে চাই না। এই বিষয়ে গাইঘাটার বিজেপি বিধায়ক তথা অল ইন্ডিয়া মতুয়া মহাসংঘের নয়া সংঘাধিপতি সুব্রত ঠাকুর বললেন, এটা না-থাকলে তো একজনকে হিন্দু নাকি মুসলিম বোঝা যায় না। নাগরিকত্বের আবেদন করার সময় এটা দরকার। সব মিলিয়ে ভোট আর এসআইআরকে সামনে রেখে ফের নাগরিকত্বের ধ্বজা উড়ছে ঠাকুরনগরে।

সম্পর্কিত সংবাদ