Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পূর্ব মেদিনীপুরে তৃণমূলে ব্যাপক রদবদল, ক্ষোভ! পদ খুইয়ে বিস্ফোরক বিধায়ক পত্নী

আগামী বিধানসভা ভোটের আগে পূর্ব মেদিনীপুরে ব্লক ও শহর সভাপতি পদে ব্যাপক রদবদল করল তৃণমূল। জেলার ২৫টি ব্লকের মধ্যে ১৯টিতেই পুরনোদের বাদ দেওয়া হয়েছে।

পূর্ব মেদিনীপুরে তৃণমূলে ব্যাপক রদবদল, ক্ষোভ! পদ খুইয়ে বিস্ফোরক বিধায়ক পত্নী
  • ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: আগামী বিধানসভা ভোটের আগে পূর্ব মেদিনীপুরে ব্লক ও শহর সভাপতি পদে ব্যাপক রদবদল করল তৃণমূল। জেলার ২৫টি ব্লকের মধ্যে ১৯টিতেই পুরনোদের বাদ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, পাঁচটি শহরের সবকটিতেই সভাপতি পদে নতুন মুখ আনা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে ওই তালিকা দলের ফেসবুক পেজে পোস্ট হওয়ার পর শুক্রবার সকাল থেকেই বিভিন্ন জায়গায় এনিয়ে ক্ষোভ দেখা দেয়। শহিদ মাতঙ্গিনী ব্লকে সভাপতি হিসেবে বিভাস করকে মানতে না পেরে দু’জন অঞ্চল সভাপতি পদত্যাগপত্র জেলা সভাপতির কাছে পাঠিয়ে দিয়েছেন। পাঁশকুড়া শহর সভাপতি পদে বদলের পর বিস্ফোরক বিধায়ক সৌমেন মহাপাত্রের পত্নী সুমনা পাত্র। সৌমেন মহাপাত্রের পর তাঁর স্ত্রী সুমনা মহাপাত্রও সাংগঠনিক পদ থেকে বাদ পড়েছেন। বিধায়ক পত্নী বলেন, আমাদের ফ্যামিলি বর্তমান রাজনীতির ঘরানায় বেমানান হয়ে পড়ছে। আমরা বিরোধী দলকে নোংরা ভাষায় আক্রমণ করতে পারি না। পার্টিতে তোলাবাজির বিরুদ্ধেও ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বের কাছে সরব হয়েছি। কোথাও আমাদের পরিবার বর্তমান ঘরানার সঙ্গে মিসম্যাচ হয়ে পড়ছিল। 

Advertisement

তৃণমূল কংগ্রেসের তমলুক সাংগঠনিক জেলার অধীনে মোট ১১টি ব্লক ও তিনটি পুরসভা রয়েছে। একমাত্র মহিষাদল ব্লক ছাড়া বাকি সর্বত্র বদল হয়েছে। তবে, নন্দীগ্রাম-১ ও ২ব্লকে নতুন সভাপতি ঘোষণা করা হয়নি। ওই দুই ব্লকে দল পরিচালনার জন্য কোর কমিটি গঠন হতে পারে। হলদিয়া, সূতাহাটা এবং কোলাঘাট ব্লকের বর্তমান সভাপতিদের সরিয়ে ২০২১-’২২সালে দলের সভাপতি থাকা নেতাদের পুনরায় ফিরিয়ে আনা হয়েছে। হলদিয়ায় অশোক মাইতি, সূতাহাটায় তুষার মাইতি এবং কোলাঘাটে অসীম মাজি সভাপতি হয়েছেন। তমলুক ব্লকের ১২টি গ্রাম পঞ্চায়েত তমলুক, নন্দকুমার ও ময়না বিধানসভার মধ্যে পড়ে। সাংগঠনিক কাজের সুবিধার জন্য ওই ব্লককে তিনটি ভাগে ভাগ করে তিনজন সভাপতি নিয়োগ করা হয়েছে। বর্তমান সভাপতি অর্ণব চক্রবর্তীকে সরিয়ে আগের সভাপতি প্রদ্যোৎ বর্মণকে সভাপতি করা হয়েছে। তবে, শহিদ মাতঙ্গিনী ব্লকে সভাপতি নিয়ে সবচেয়ে বেশি বিতর্ক বেধেছে। কারণ, ওই ব্লকের নেতা বিভাস কর বিজেপি করার জন্য ২০২১সালে বহিষ্কৃত হন। গত লোকসভা ভোটের এক মাস আগে ফের দলের পতাকা তুলে নেন। সেই বিভাস দলে ফেরার এক বছরের মধ্যে সভাপতি হয়ে যাওয়ায় ক্ষুব্ধ দলের অনেকেই। এর প্রতিবাদে রঘুনাথপুর-১অঞ্চল সভাপতি রাজেন্দ্রপ্রসাদ জানা, শান্তিপুর-২অঞ্চল সভাপতি বিশ্বজিৎ মাইতি প্রমুখ নেতারা জেলা সভাপতিকে ইস্তফার চিঠি পাঠিয়েছেন। তাঁরা ব্লক সভাপতি হিসেবে বিভাস করকে মানতে পারছেন না বলে সাফ জানিয়েছেন। নন্দকুমারে অনুপকুমার ঘোড়াই, ময়নায় মৃণালকান্তি সামন্ত, পাঁশকুড়া শহরে শেখ সমীরুদ্দিন, তমলুক শহরে চন্দন প্রধান সভাপতি হয়েছেন।
কাঁথি সাংগঠনিক জেলার অধীনে মোট ১৪টি ব্লক রয়েছে। ভগবানপুর-১, পটাশপুর-১ ও ২, রামনগর-১ এবং কাঁথি-৩ব্লকে সভাপতি বদল হয়নি। বাকি ন’টি ব্লকেই তৃণমূলের ব্লক সভাপতি বদল হয়েছে। 
কাঁথি এবং এগরা শহরেও সভাপতি পদে নতুন মুখ আনা হয়েছে। তবে, বেশকিছু জায়গায় দলের অফিসিয়াল শিবিরের বিরোধী মুখ ব্লক সভাপতি হিসেবে নিয়োগপত্র পাওয়ায় দলের ভিতর চাপা ক্ষোভ দেখা যাচ্ছে। যেমন, চণ্ডীপুরে সভাপতি হয়েছেন স্নেহাংশুশেখর পণ্ডিত। তিনি প্রাক্তন বিধায়ক অমিয়কান্তি ভট্টাচার্যের বিরোধী শিবিরের। কয়েকদিন আগেও বিধায়ক সোহম চক্রবর্তী তাঁকে নিশানা করে বলেছিলেন, চণ্ডীপুরে কোনও পণ্ডিতের পাণ্ডিত্য চলবে না। আবার, দেশপ্রাণ ব্লকে তৃণমূলের দাপুটে নেতা তথা গতবারের বিধানসভার প্রার্থী তরুণ জানার বিরোধী হিসেবে পরিচিত দেবাশিস ভুঁইয়া ব্লক সভাপতি হয়েছেন। খেজুরি, এগরার ব্লক সভাপতি বদলে ফেলা হয়েছে।
তমলুক সাংগঠনিক জেলা তৃণমূল সভাপতি সুজিত রায় বলেন, দু’-একটি জায়গায় ক্ষোভ আছে। আশাকরি, সব ঠিকঠাক হয়ে যাবে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ