Bartaman Logo
১ জুন, ২০২৬

বারাণসীতে মাসান হোলি, পরস্পরের গায়ে লাগানো হয় শ্মশানের ছাই

দোল বা হোলি হল রঙের উত্সব। তবে সব জায়গাতে রং দিয়ে হোলি খেলা হয় না। এমন জায়গাও আছে যেখানে পরস্পরের গায়ে শ্মশানের ছাই মাখিয়ে হোলি খেলায় মেতে ওঠেন মানুষ।

বারাণসীতে মাসান হোলি, পরস্পরের গায়ে লাগানো হয় শ্মশানের ছাই
  • ৪ মার্চ, ২০২৬ ১১:০৩

দোল বা হোলি হল রঙের উত্সব। তবে সব জায়গাতে রং দিয়ে হোলি খেলা হয় না। এমন জায়গাও আছে যেখানে পরস্পরের গায়ে শ্মশানের ছাই মাখিয়ে হোলি খেলায় মেতে ওঠেন মানুষ। শুনতে অবাক লাগলেও এটাই হল সত্যি। বারাণসীর মণিকর্ণিকা ঘাটে চিতা থেকে ছাই তুলে এনে তাই দিয়েই হোলি খেলার চল রয়েছে। আর এই প্রথা মাসান হোলি নামে পরিচিত। ‘মাসান হোলি’ সাধু-সন্ন্যাসী, মূলত অঘোরীদের উৎসব। তাই কৃত্রিম কিংবা আয়ুর্বেদিক রং-আবির নয়, বরং ছাইভস্ম দিয়েই হোলি খেলেন তাঁরা। একদিকে যেমন এদিন বারাণসীর আকাশে উড়তে থাকে ধূসর ছাই-এর ধুলো, তেমনই গোটা এলাকা গম গম করতে থাকে শিবভক্ত অঘোরীদের ‘ব্যোম ভোলে’-রব, ডমরু-ধ্বনি, মহাদেবের জয়ধ্বনিতে। গঞ্জিকার গন্ধে ম’-ম’ করে আকাশ-বাতাস। ছোটে ভাঙের ফোয়ারা। যুগের পর যুগ ধরে এই রীতি চলে আসছে মণিকর্ণিকা ঘাটে। কিন্তু এমন আশ্চর্য হোলি উদ্যাপনের কারণ কী?

Advertisement

এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে ফিরে যেতে হবে শাস্ত্রে। পুরাণ বলছে, শিবরাত্রির দিন পার্বতীকে বিবাহ করেছিলেন শিব। এরপর সপ্তাহ দুয়েক শ্বশুরবাড়িতে কাটানোর পর, রংভরি একাদশীতে কাশীতে পা রাখেন শিব-পার্বতী। দেবাদিদেবের সস্ত্রীক কাশী আগমনকে কেন্দ্র করেই সেদিন উৎসবে মেতেছিলেন বেনারসের শিবভক্তরা। পরদিন মণিকর্ণিকার ঘাটে চিতাভস্ম গায়ে মেখে হয়েছিল উৎসবের উদ্যাপন। হাজির হয়েছিলেন স্বয়ং দেবাদিদেবও। কাজেই দিনটি শ্মশানবাসী, শিবভক্ত অঘোরীদের কাছে বিশেষ পবিত্র দিন। তাই বছর বছর ছাই মেখে ‘মাসান’ পালন করেন তাঁরা। একটা সময় কেবলমাত্র অঘোরী ও সাধু-সন্ন্যাসীরাই অংশ নিতেন এই উৎসবে। তবে ধীরে ধীরে এই উৎসব সার্বজনীন হয়ে উঠেছে বেনারসে। আজ সেখানে অংশ নেন সাধারণ মানুষও। সাধুসন্তদের জন্য আয়োজন করা হয় পানীয়ের। এই ভয়াল হোলি-খেলা দেখতে হাজির হন দেশ-বিদেশের পর্যটকরাও। ‘মাসান’ উদ্যাপন দেখতে হাজার হাজার মানুষ ভিড় করেন বারাণসীতে। এমন বিচিত্র হোলি উৎসব আর অন্য কোথাও দেখা যায় না সম্ভবত।

সম্পর্কিত সংবাদ