Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বৃষ্টিতে বেহাল রাজপুর-সোনারপুর ও বারুইপুরের বহু ওয়ার্ড, দুর্ভোগ

বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত শহরতলী। রাস্তাঘাটে জল। বাদ নেই বাড়ি, অভিজাত আবাসন। সেখানেও একতলা ডুবে গিয়েছে। ঘরের মধ্যে ইট পেতে চলাচল করতে হচ্ছে।

বৃষ্টিতে বেহাল রাজপুর-সোনারপুর ও বারুইপুরের বহু ওয়ার্ড, দুর্ভোগ
  • ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, সংবাদদাতা, বারুইপুর ও বজবজ: বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত শহরতলী। রাস্তাঘাটে জল। বাদ নেই বাড়ি, অভিজাত আবাসন। সেখানেও একতলা ডুবে গিয়েছে। ঘরের মধ্যে ইট পেতে চলাচল করতে হচ্ছে। একাধিক পুজো মণ্ডপ জলমগ্ন। রাস্তাঘাটে বাস সীমিত। অটো ধরার লম্বা লাইন। সোমবার রাতভর বৃষ্টির পর মঙ্গলবার সকাল থেকে এমনই সব খণ্ডচিত্র  উঠে এল দক্ষিণ ২৪ পরগনায়। রাজপুর সোনারপুর, বারুইপুর এবং মহেশতলা পুরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ড জলের তলায়। জল কিছুটা নামলেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে সময় লাগবে বলেই কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। ট্রেন রুটে হয়রানির পাশাপাশি সড়কপথে যেতে গিয়েও চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে যাত্রীদের। গড়িয়া, রাজপুর, সোনারপুর, বারুইপুরে অটো স্ট্যান্ডে দীর্ঘ লাইন ছিল। বারুইপুর থেকে গড়িয়া পর্যন্ত নির্ধারিত ভাড়ার থেকে দ্বিগুণ টাকা নিয়েছেন অটো চালকরা। কেউ ৬০ তো কেউ ১০০ টাকা পর্যন্ত ভাড়া নিয়েছেন। বহু যাত্রীকেই রাস্তায় দুর্ভোগে পড়ে বাড়ি ফিরে যেতে দেখা গিয়েছে। সোনারপুর থেকে গড়িয়া ও রাজপুর যাওয়ার অটোর লাইন দুর্গাপুজোর ঠাকুর দেখার লাইনকেও টক্কর দিয়েছে। মূল রাস্তায় জল না থাকলেও গলিপথ ছিল জলে টইটম্বুর। ফলে অটোচালকরা ঘুরপথে গন্তব্যে গিয়েছেন।জল জমার কারণে পুজো উদ্যোক্তাদের মাথায় হাত। ব্যাসালিপাড়া হরিনাভি সর্বজনীন, বারুইপুর ভাইভাই সংঘ সহ বহু পুজোর প্যান্ডেল জলে ভাসছে। সময়ে কাজ শেষ করা নিয়ে চিন্তায় পুজো উদ্যোক্তারা। 

Advertisement

রাজপুর সোনারপুর পুরসভার সুভাষগ্রাম, রাজপুর, গড়িয়া পঞ্চাননতলা, বোড়ালের সর্বত্র জল থই থই অবস্থা। গড়িয়া স্টেশন রোড, বালিয়া অঞ্চলে কোমর সমান জল। শুধু বৃষ্টির জল নয়, আদিগঙ্গার জল ছাপিয়ে এদিন বহু লোকের ঘরে ঢুকে যায়। ঘরের মধ্যে খাটেই আশ্রয় নিয়েছেন বাসিন্দারা। বোড়ালের ৩২, ৩৩ ও ৩৪ নম্বর ওয়ার্ড সব থেকে খারাপ পরিস্থিতি ছিল। মিশনপল্লি এলাকা যেন ছোটোখাটো নদীতে পরিণত হয়েছে। যাতায়াতের ভরসা ছিল সাইকেল ভ্যান। চালকরা এই পরিস্থিতিতে ন্যূনতম ৫০ টাকা ও সর্বাধিক ২০০ টাকা করে ভাড়া নিয়েছেন। পুরসভার চেয়ারম্যান পল্লব দাস বলেন, যেখানে জল কখনও জমেনি, এই বৃষ্টিতে সেই জায়গাগুলিও ডুবে গিয়েছে। জল নামতে একটু সময় লাগবে। ফের কোনও দুর্যোগ না এলে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বেশিরভাগ এলাকা থেকে জল নেমে যাবে। এদিন বারুইপুরের উত্তরভাগ পাম্পিং স্টেশনে কেমন কাজ হচ্ছে তার খোঁজখবর নেন সোনারপুরের বাসিন্দা তথা বাসন্তীর বিধায়ক শ্যামল মণ্ডল। এদিকে, বারুইপুরের পুরসভার ২, ৩, ৪, ৬, ১০, ১১, ১৩, ১৪, ১৫, ১৭ নম্বর ওয়ার্ড জলমগ্ন। নাজেহাল অবস্থা বাসিন্দাদের। কাউন্সিলার সুভাষ রায়চৌধুরী বলেন, তিনটি পাম্প চলছে। আরও চালানো হবে। বারুইপুরের মদারাট পপুলার অ্যাকাডেমি স্কুলের সামনে জল জমে থাকায় পড়ুয়াদের স্কুলে ঢুকতে সমস্যা হয়। মহেশতলা পুরসভার প্রত্যেকটি ওয়ার্ডেই জল জমে রয়েছে। সাধারণ মানুষের ঘর বাড়ি একপ্রকার জলমগ্ন। রান্নাবান্না থেকে শুরু করে দৈনিক কাজকর্ম করতে পারেননি অনেকেই। এছাড়াও ঠাকুরপুকুর মহেশতলা ব্লকের একাধিক পঞ্চায়েত এলাকাও জল থই থই অবস্থা।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ