Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

প্রেমের টানে বাড়ি ছাড়ছে বহু নাবালিকা, বাড়ছে কমবয়সি মা, সচেতন করার পরামর্শ শিশু সুরক্ষা কমিশনের

প্রেমের টানে ১৮-র আগেই বাড়ি ছাড়ছে নাবালিকারা। অনেকেই পরিবার পরিজনের অমতে ভালোবাসার মানুষের সঙ্গে সংসার গড়ছে। অনেক ক্ষেত্রে আবার বাড়ি থেকেই নাবালিকাদের বিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

প্রেমের টানে বাড়ি ছাড়ছে বহু নাবালিকা, বাড়ছে কমবয়সি মা, সচেতন করার পরামর্শ শিশু সুরক্ষা কমিশনের
  • ১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: প্রেমের টানে ১৮-র আগেই বাড়ি ছাড়ছে নাবালিকারা। অনেকেই পরিবার পরিজনের অমতে ভালোবাসার মানুষের সঙ্গে সংসার গড়ছে। অনেক ক্ষেত্রে আবার বাড়ি থেকেই নাবালিকাদের বিয়ে দেওয়া হচ্ছে। প্রশাসনের তরফে সচেতনতা প্রচার চালানো ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পর বাড়ি থেকে বিয়ে দেওয়ার সংখ্যা তুলনামূলক কমছে। কিন্তু আটকে রাখা যাচ্ছে না নাবালিকাদের। প্রেমিকার হাত ধরে নাবালিকাদের বাড়ি ছাড়ার ঘটনা ক্রমশ বেড়ে চলেছে। সেই পরিসংখ্যানে উদ্বিগ্ন রাজ্য শিশু সুরক্ষা কমিশন।

Advertisement

কমিশনের উপদেষ্টা অনন্যা চক্রবর্তী বলেন, বর্তমানে প্রায় ৬০ শতাংশ বাল্যবিবাহ প্রেমের সম্পর্ক থেকে পরিণতি পাচ্ছে। বাকি ৪০ শতাংশ ক্ষেত্রে পরিবারের যোগ উঠে আসছে। বাল্যবিবাহ অবশ্যই চিন্তার বিষয়। বাল্যবিবাহের জেরে নাবালিকা প্রসূতির সংখ্যা বাড়ছে। এক্ষেত্রে সচেতনতা বৃদ্ধির কাজ জারি রয়েছে। তবে, বর্তমান সময়ে অনেকেই বাল্য বয়সে বাড়ি ছেড়ে ভালোবাসার মানুষের সঙ্গে বিয়ে করে সংসার পাতছে। এটা খুবই উদ্বেগের বিষয়। এক্ষেত্রে এবার স্কুলভিত্তিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে আরও বেশি করে জোর দেওয়া হচ্ছে। 
মঙ্গলবার বোলপুরে পৌঁছন রাজ্য শিশু সুরক্ষা কমিশনের উপদেষ্টা অনন্যা চক্রবর্তী। বুধবার জেলা শিশু সুরক্ষা আধিকারিক অনুপম সিনহাকে সঙ্গে নিয়ে তিনি শান্তিনিকেতন থানার চাইল্ড ফ্রেন্ডলি কর্নার ঘুরে দেখেন। তাঁর দাবি, এখানকার পরিবেশ যথেষ্টই ভালো রয়েছে। এদিন পরিদর্শন পর্বে তিনি থানার আধিকারিক সহ মহকুমা পুলিস প্রশাসনের কর্তাদের সঙ্গেও একপ্রস্থ আলোচনা সারেন। বাল্যবিবাহ রোধের ক্ষেত্রে পুলিশের কী কী ভূমিকা রয়েছে তা নিয়েও বিস্তর আলোচনা হয়েছে। তাঁর পরামর্শ, বাল্যবিবাহের ঘটনা নজরে এলেই অভিযোগ দায়ের করতে হবে। আজ, বৃহস্পতিবার তিনি আরও একাধিক থানার চাইল্ড ফ্রেন্ডলি কর্নার পরিদর্শন করবেন। যেতে পারেন মল্লারপুরেও। 
 বাল্য বিবাহ ইস্যুতে বীরভূম জেলা প্রশাসন যথেষ্টই চিন্তিত। অভিযোগ, বহু ক্ষেত্রেই নাবালিকাদের বিয়ে হলেও প্রশাসনের কাছে সঠিক সময়ে সেই খবর পৌঁছচ্ছে না। ফলত নাবালিকা প্রসূতির সংখ্যা পাল্লা দিয়ে বেড়ে চলেছে। এই পরিস্থিতিতে বাল্যবিবাহের ধারাবাহিকতায় রাশ টানতে জেলা প্রশাসন একাধিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। তবে, তাতে খুব একটা লাভ হয়েছে বলে দাবি করতে পারছেন না জেলা প্রশাসনের আধিকারিকরা। এই পরিস্থিতিতে নিরন্তর সচেতনতা বৃদ্ধি সহ বাল্যবিবাহের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট থানাগুলিতে অভিযোগ দায়ের করার ক্ষেত্রে আরও সচেষ্ট হওয়ার পরামর্শ দিলেন রাজ্য শিশু সুরক্ষা কমিশনের উপদেষ্টা।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ