নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: নরেন্দ্র মোদি মুখে বিগত ১১ বছরে বারংবার বলেছেন, তাঁর সরকার ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ করবে। যাতে বেশি করে সরকারের প্রকল্প ও পরিষেবা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে যায়। কিন্তু ২০১৪ সাল থেকেই দেখা গিয়েছে যে, ঠিক বিপরীত পথ অর্থাৎ ক্ষমতা কুক্ষিগত করে পথে হাঁটছেন তিনি। মোদি মন্ত্রিসভায় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রকের দায়িত্ব একই মন্ত্রীর হাতে। দু’টি তো বটেই, একসঙ্গে তিনটি মন্ত্রকের দায়িত্বও সামলাচ্ছেন, এরকম মন্ত্রীও একাধিক। নরেন্দ্র মোদি তিনবার সরকার গঠন করেছেন। তিনবারই এই একই প্রবণতা। একাধিকবারই মন্ত্রিসভার রদবদল হয়েছে। কিন্তু খুব বড় কিছু পরিবর্তন হয়নি। এবার ফের মন্ত্রিসভার রদবদল হবে বলে শোনা যাচ্ছে। জুলাই মাসেই সেই রদবদল হবে বলেও কমবেশি নিশ্চিত। সূত্রের খবর, তার অনেক আগেই রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সঙ্ঘের নির্দেশিকা এসেছে বিজেপি নেতৃত্বের কাছে। সেটি হল, এবার এই প্রবণতা থেকে সরে গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রকের দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া হোক। এবারও মোদি মন্ত্রিসভায় দেখা যাচ্ছে, প্রথম থেকেই একঝাঁক মন্ত্রী একাধিক মন্ত্রকের দায়িত্ব নিয়ে বসে আছেন। এবার তাই সঙ্ঘের বার্তা, দুই থেকে তিনটি মন্ত্রকের দায়িত্বে থাকলে, একজন মন্ত্রীর পক্ষে সব মন্ত্রকে সমান গুরুত্ব আরোপ করা সম্ভব নয়। আসন্ন রদবদলে তাই সম্ভবত বেশ কিছু মন্ত্রকে আসবেন নতুন মন্ত্রী। সংখ্যালঘু মন্ত্রক এবং সংসদীয় মন্ত্রক— দু’টিই কিরণ রিজিজুর হাতে। তাঁকে একটি মন্ত্রক থেকে অব্যাহতি দেওয়া হতে পারে। অশ্বিনী বৈষ্ণব একইসঙ্গে রেল, তথ্য প্রযুক্তি, তথ্য সম্প্রচার—তিন মন্ত্রকের কার্যভার সামলাচ্ছেন। অথচ তিনটি মন্ত্রকই একজন করে পূর্ণমন্ত্রী পাওয়ার মতো। অতীতে তাই ছিল। মনোহর দাস খট্টরের কাছে একইসঙ্গে আবাসন ও নগরোন্নয়ন এবং বিদ্যুৎ মন্ত্রকের দায়িত্ব। অথচ প্রহ্লাদ যোশির হাতে নিউ অ্যান্ড রিনিউয়েবল এনার্জি মন্ত্রক। শ্রমমন্ত্রক এবং যুবকল্যাণ দুটিই মনসুখ মাণ্ডব্যের হাতে। একইভাবে জিতেন্দ্র সিংয়ের হাতেও একাধিক দায়িত্ব। আসন্ন রদবদলে নতুন মুখ আনার পাশাপাশি এই মন্ত্রকগুলিও ভাগাভাগি করে দেওয়া হবে মন্ত্রীদের মধ্যে।



