নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আবর্জনার পাহাড়ের নীচে জমে থাকা বিষাক্ত মিথেন গ্যাসে মাঝেমধ্যেই আগুন। ছড়িয়ে পড়ছে ধোঁয়া। সঙ্গে পানীয় জলের অপ্রতুলতা। এর ফলে হাওড়ার বেলগাছিয়া ভাগাড় সংলগ্ন বস্তি অঞ্চলের বাসিন্দাদের মধ্যে দেখা দিয়েছে একাধিক রোগের উপসর্গ। অনেকেরই মাথা ঘোরার রোগ ধরা পড়েছে। অনেকের শরীরে চর্মরোগ। কারও কারও শুরু হয়েছে পেটের অসুখ। শিশুদের মধ্যে ডায়রিয়ার প্রকোপ বেশি লক্ষ্য করা গিয়েছে। মেডিক্যাল অফিসার সহ আশাকর্মীদের দু’টি দল বাড়ি বাড়ি পাঠিয়েছে হাওড়া পুরসভা। এর পাশাপাশি গত দু’দিনের মতো বৃহস্পতিবারও আবর্জনা মুক্ত হয়নি হাওড়া শহর। এদিন ১৬টি ওয়ার্ডের জঞ্জাল সংগ্রহকারী গাড়ি কলকাতা যাওয়ার জন্য রওনা দিতেই পারেনি।
স্থানীয় স্কুল এবং কোচিং সেন্টারে অস্থায়ীভাবে আশ্রয় নিলেও বেলগাছিয়া ভাগাড় সংলগ্ন বাসিন্দাদের অধিকাংশই থেকে গিয়েছেন বস্তিতে। বুধবার থেকেই আশাকর্মীদের দু’টি দল বাড়ি বাড়ি গিয়ে স্বাস্থ্য পরীক্ষা সংক্রান্ত কাজ শুরু করেছেন। প্রতিটি টিমে আছেন চারজন করে কর্মী। সঙ্গে থাকছেন মেডিক্যাল অফিসাররা। গর্ভবতী মহিলা ও শিশুদের উপর লাগাতার নজর দেওয়ার কাজ চলছে। স্বাস্থ্যকর্মীরা জানান, ‘বাচ্চারা পেটের সমস্যায় ভুগছে বেশি। জলবাহিত রোগ যাতে না ছড়ায় সে জন্য প্রতিটি পরিবারকে ওষুধ দেওয়া হচ্ছে। ভাগাড়ের আগুন থেকে ধোঁয়া ছড়াচ্ছে। শ্বাসকষ্ট এবং ত্বকের অসুখ বাড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।’
অন্যদিকে বুধবার জগাছার আরুপাড়ায় আবর্জনা ফেলতে গিয়ে স্থানীয়দের বিক্ষোভের মুখে পড়েছিল হাওড়া পুরসভার কর্মীরা। তারপর সরাসরি কলকাতার ধাপায় তা পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু এদিন সে কাজ করতে গিয়ে তৈরি হয় নয়া সমস্যা। ১৬টি ওয়ার্ডের আবর্জনা সংগ্রহের গাড়ির দশা বেহাল। প্রায় লজ্ঝড় দশা। আবর্জনা বোঝাই করে সেগুলি দ্বিতীয় হুগলি সেতু পার করা অসম্ভব বলে জানান গাড়ি চালকরা। ফলে গত দু’দিনের মতো এদিনও শহরের অধিকাংশ ভ্যাট পরিষ্কার করাই সম্ভব হয়নি। ফলে আস্তাকুঁড়ের চাইতেও খারাপ দশা অধিকাংশ ওয়ার্ডের। এদিন সমস্যা সমাধানে পুরভবনে দফায় দফায় বৈঠকে বসে পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তর। পুরসভার মুখ্য প্রশাসক ডাঃ সুজয় চক্রবর্তী ও পুর কমিশনার বন্দনা পোখরিওয়াল ছাড়াও ছিলেন কনজারভেন্সি দপ্তরের আধিকারিকরা।
বৈঠক সূত্রে জানা গিয়েছে, নতুন গাড়ি না আসা পর্যন্ত সচল গাড়িগুলি ওই ১৬টি ওয়ার্ডের আবর্জনা সংগ্রহ করবে। ডাবল ট্রিপ করে জঞ্জাল পৌঁছে দেবে ধাপায়। আর নতুন করে সিদ্ধান্ত হয়, আবর্জনা সংগ্রহের জন্য ৩৪টি টিপার ভ্যান কেনা হবে। পুরদপ্তর জানিয়েছে, হাওড়ার জন্য কেনা হবে কুড়িটি কম্প্যাক্টর মেশিন। বেলিলিয়াস রোড, ইস্ট ওয়েস্ট বাইপাস সহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার সংস্কারের কাজ করবে কেএমডিএ। কামারডাঙা-বেলেপোল, ১.৮ কিলোমিটার দীর্ঘ হাই ড্রেন তৈরির কাজও হবে।
প্রসঙ্গত, গত দু’দিনে হাওড়া থেকে প্রায় ৩১৪ টন জঞ্জাল এসেছে কলকাতার ধাপায়। বুধবার আসে ১৯টি গাড়ি। তাতে ছিল ১১৪ টন জঞ্জাল। বৃহস্পতিবার ১৯৯ টনেরও বেশি বর্জ্য নিয়ে এসেছে ৩১টি লরি।