নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ছাব্বিশের ভোটযুদ্ধে উন্নয়নই পাখির চোখ তৃণমূলের। যার সূত্র ধরেই বিরোধীদের যাবতীয় কুৎসা, অপপ্রচারের জবাব দিতে শহর থেকে গ্রামবাংলাজুড়ে একমাসব্যাপী প্রচারে নামছে রাজ্যের শাসক দল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের উন্নয়নের ব্রত কথা তুলে ধরে দুয়ারে দুয়ারে চলবে প্রচার। পাড়া বৈঠক, পথসভা, চায়ের ঠেকে গল্প, লিফলেট বিলিসহ ঠাসা কর্মসূচি। ঘটনাচক্রে ১৬ ডিসেম্বর, যেদিন নির্বাচন কমিশনের তরফে খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশিত হবে, সেদিন থেকেই মমতার সরকারের উন্নয়নের রথ ছুটবে শহর, শহরতলি থেকে জেলার প্রত্যন্ত প্রান্তে।
এসআইআর প্রক্রিয়ায় ইনিউমারেশন ফর্ম বিলি শুরু হয় ৪ নভেম্বর। সেদিন কলকাতার রাজপথে মিছিল করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ১১ ডিসেম্বর যেদিন ফর্ম জমা দেওয়ার শেষদিন, সেদিনও নদীয়ায় জনসভা করেন তৃণমূল সুপ্রিমো। আর এবার ১৬ ডিসেম্বর খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের দিনে দক্ষিণ কলকাতার নজরুল মঞ্চে মেগা কর্মসূচি করতে চলেছে তৃণমূল। সেদিন থেকে উন্নয়নের বার্তা ঘরে ঘরে পৌঁছোতে শুরু হচ্ছে তৃণমূলের ব্রত কথা। গত ২ ডিসেম্বর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রকাশ করেন ‘উন্নয়নের পাঁচালি’ নামাঙ্কিত রিপোর্ট কার্ড। এবার সেটা তুলে ধরেই রাজ্যব্যাপী ১৬ তারিখ থেকে একমাসব্যাপী কর্মসূচি শুরু করছে তৃণমূল। ওইদিন নজরুল মঞ্চে রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে তৃণমূলের মহিলা শাখার কর্মীরা আসবেন। ছাব্বিশের ভোটযুদ্ধে মহিলাদের ভোট পুরোমাত্রায় নিজেদের অনুকূলে আনতে একমাসব্যাপী প্রচার করবে তৃণমূলের মহিলা ব্রিগেড।
দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, তৃণমূলের সর্বস্তরের জনপ্রতিনিধদের প্রচার কর্মসূচিতে নামার জন্য একটি নির্দিষ্ট ফরম্যাট তৈরি করে দেওয়া হচ্ছে। সেখানে উন্নয়নের রথ ঘুরবে পাড়ায় পাড়ায়। একটি টোটো কিংবা অটোকে মমতার সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের ফ্লেক্স, প্ল্যাকার্ড দিয়ে সাজানো হবে। যেহেতু অটো বা টোটো অলিগলিতে ঢুকে পড়তে পারে, তাই এমন চিন্তাভাবনা। সেখানে বাজানো হবে উন্নয়নের পাঁচালি শীর্ষক শিল্পী ইমন চক্রবর্তীর গাওয়া গান। লিফলেট থাকবে মমতার সরকারের সাড়ে ১৪ বছরের উন্নয়নের কর্মকাণ্ড।
তৃণমূলের পরামর্শদাতা সংস্থা সূত্রে জানা গিয়েছে, কর্মসূচির মধ্যে থাকবে দিনভর কর্মকাণ্ড। সকালে ধর্মীয় স্থান পরিদর্শন করবেন তৃণমূল নেতৃত্ব। তারপর ব্লক, অঞ্চল, বুথস্তরে পথসভা। কোনও কর্মীর বাড়িতে সকলে মিলে দুপুরের খাওয়াদাওয়ার পর্ব। বিকেলে আবার পথসভা। এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তি ও গুণীজন সাক্ষাৎ। পাড়া বৈঠক, চা-চক্র থাকছে কর্মসূচির অঙ্গ হিসেবে। কোনও জায়ান্ট স্ক্রিন বা বড়ো পর্দায় পাড়া বৈঠকে মমতার উন্নয়নের পর্ব দেখানো হবে। রাতে কোনও কর্মীর বাড়িতে খাওয়াদাওয়া। সব মিলিয়ে দিনভর জনসংযোগ কর্মসূচি। বিধায়ক, কাউন্সিলার, পঞ্চায়েত সদস্য, দলীয় পদাধিকারীদের শামিল হতে হবে এই কর্মসূচিতে। এর আগে দিদিকে বলো, দিদির দূত, দিদির সুরক্ষা কবচ-এ যে ধরনের কর্মসূচি হয়েছিল, সেইরকমই হতে চলেছে।