নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বিধানসভা ভোটের আগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ‘হিন্দু মসিহা’ হিসেবে প্রতিপন্ন করতে এবার মরিয়া বঙ্গ বিজেপি। ১ সেপ্টেম্বর কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের জারি করা অভিবাসন বিধির বিজ্ঞপ্তিকে হাতিয়ার করে এবার মাঠে নামছে গেরুয়া পার্টি। যেখানে সাফ বলা হয়েছে, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, আফগানিস্তান থেকে ধর্মীয় অত্যাচারে ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ভারতে আসা হিন্দু সহ পাঁচটি ধর্মাবলম্বীদের ‘পুশ ব্যাক’ করা হবে না। এ প্রসঙ্গে রাজ্য বিজেপির এক নেতা বলেন, মোদিজির এই সিদ্ধান্তে বাংলাদেশ থেকে আসা হিন্দু উদ্বাস্তুদের আর কোনও উদ্বেগ রইল না। জীবন-জীবিকার টানে ওপার বাংলা থেকে সবচেয়ে বেশি মানুষ এ রাজ্যে এসেছেন। তৃণমূল সিএএ নিয়ে রাজ্যবাসীকে ভুল বোঝাচ্ছে। শাসকদলের এই বিভ্রান্তিকর প্রচারে একাংশের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। অভিবাসন বিধি নিয়ে কেন্দ্র সরকারের নয়া সিদ্ধান্তে, হিন্দুদের মধ্যে তৈরি হওয়া সংশয় কেটে যাবে বলে আশাবাদী পদ্মপার্টির ওই নেতা।
তবে বিজেপি যে একেবারে রাজনৈতিক কারণেই অভিবাসন বিধিতে এই বদল এনেছে, বিধানসভায় তা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর কথায়, ভোট আসলেই নাগরিকত্বের টোপ দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করে গেরুয়া শিবির। সেই সঙ্গে তিনি একটি ব্যাখ্যাও দাবি করেছেন। মুখ্যমন্ত্রী জানতে চেয়েছেন, ‘কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তের ফলে আদৌ কি এই সমস্ত মানুষ রেশন কার্ড পাবেন? তাঁরা কি নাগরিকত্ব আর ভোটাধিকার পাবেন?’ রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যেহেতু অভিবাসন বিধিতে বদল এই সমস্ত মৌলিক বিষয়গুলি নিশ্চিত করছে না, বিষয়টি যে শুধুমাত্র রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত, তা বোঝাতেই এই প্রশ্ন তুলেছেন মমতা। উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটে হিন্দু ভোট একত্রীকরণের লক্ষ্যে ইতিমধ্যেই কাজ শুরু করেছে বঙ্গ বিজেপি। অহিন্দু বুথে পার্টি সংগঠন বৃদ্ধিতে আগ্রহ দেখাচ্ছে না পদ্ম শিবির। তার থেকে হিন্দু অধ্যুষিত এলাকায় নিজেদের উপস্থিতি পোক্ত করতে চাইছে তারা। জানা গিয়েছে, হিন্দুদের পুশ ব্যাক না করে এদেশের থাকার ছাড়পত্র দেওয়ার নয়া সরকারি সিদ্ধান্ত, গোটা রাজ্যে প্রচার করবে কেন্দ্রীয় শাসকদলের বাংলা ইউনিট। পাশাপাশি সংখ্যালঘুদের নিয়ে রাজ্য সরকারের তুষ্টিকরণ রাজনীতির কুফল সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করার পরিকল্পনাও করা হয়েছে। মমতা সরকারের সংরক্ষণ নীতির অভিশাপে সংখ্যাগরিষ্ঠ ছেলে-মেয়েরা কীভাবে চাকরি-শিক্ষায় বঞ্চিত হচ্ছে, তার যুক্তিযুক্ত তথ্য পরিবেশন করা হবে বলেও জানা গিয়েছে। যদিও পার্টির আরেক নেতার আশঙ্কা, অমিত শাহের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক রাজ্যগুলিকে ডিটেনশন ক্যাম্প তৈরির নয়া ফরমানে সিঁদুরে মেঘ ঘনাচ্ছে। পুশ ব্যাক না হলেও, হিন্দুদের ঠাঁই কী হবে ওই ভয়াবহ শিবিরে, বাড়ছে শঙ্কা-উদ্বেগ।