


শ্যমেলেন্দু গোস্বামী, বারাসত: গদ্দার ইস্যুতে আমডাঙা ও দেগঙ্গায় সুর চড়ালেন তৃণমূল সুপ্রিম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দলের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। দুই সভাতেই গদ্দারদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে দিয়েছেন তাঁরা। বুধবার আমডাঙার সাধনপুর মাঠে জনসভা করেন জননেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দলীয় প্রার্থী কাসেম সিদ্দিকির সমর্থনে এদিন মানুষের ভিড় ছিল উপচে পড়া। প্রথম থেকেই রণং দেহি ছিলেন মমতা। নির্ধারিত সময়ের কিছুটা পরে সভা শুরু হলেও কেউ অবশ্য মাঠ ছাড়েননি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আসতেই চিৎকার করে তাঁকে অভিবাদন জানায় ‘তৃণমূলের সম্পদ’ জনতা। মঞ্চে নেত্রী বলেন, কিছু লোক বিজেপি থেকে টাকা নিয়ে গদ্দারি করছে। সাম্প্রদায়িক সুড়সুড়ি দিচ্ছে। মানুষকে অযথা বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে তারা। এমনকি আমাদের দলের প্রার্থীদের নামে অপপ্রচার করছে। এটা তাঁদের নজরে রয়েছে বলেও জানিয়ে দিয়েছেন বাংলার অগ্নিকন্যা।
অন্যদিকে, দেগঙ্গার বেনাপুর মাঠে গদ্দারদের সম্পর্কে কঠোর অবস্থানের কথা ফের একবার স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন মমতার সেনাপতি। এবার দেগঙ্গা বিধানসভা কেন্দ্রে জোড়াফুল টিকিটের অন্যতম দাবিদার ছিলেন প্রাক্তন তৃণমূল নেতা মফিদুল হক সাহাজি ওরফে মিন্টু। কিন্তু দল তাঁকে টিকিট দেয়নি। সেখানে প্রার্থী হয়েছেন তরুণ নেতা আনিসুর রহমান ওরফে বিদেশ। আর মিন্টু আইএসএফে ভিড়ে দেগঙ্গা থেকেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
এদিন বিদেশের উপর পুরানো আস্থার কথা মঞ্চে তুলে ধরেন অভিষেক। তিনি বলেছেন, সাংগঠনিক দিক থেকে বিদেশ অত্যন্ত দক্ষ। প্রার্থী করার জন্য তাঁর কথা দলনেত্রীকে আমি বলেছিলাম। কিন্তু এখান থেকে দু-একজন নেতা গদ্দারের নাম পাঠিয়েছিল। তাতে আমার সন্দেহ হওয়াতেই বিদেশকে টিকিট দিয়েছি। বাদ দেওয়া হয়েছে ওঁর নাম। যাঁর রাজনৈতিক আদর্শ এমন হয় দল তাঁকে গুরুত্বই দেয় না।
কর্মীদের উদ্দেশে অভিষেকের বার্তা, যাঁরা নিজের স্বার্থে দল করেন মানুষ তাঁদের মেনে নেয় না। দেগঙ্গার মাটি এমন রাজনৈতিক আদর্শহীন মানুষকে ক্ষমা করবে না। তাই লোকসভা ভোটের থেকে এক ভোটে বেশি হলেও বিদেশকে জেতাতে হবে। এখানেই থেমে থাকেননি অভিষেক। দলবদলু মিন্টুকে এদিন স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন তিনি। কর্মীদের আস্থা ফেরাতে অভিষেকের বার্তা, এই বেইমান আর গদ্দারকে কোনোদিন তৃণমূলে নেওয়া হবে না। মানুষের আবেগ বা ভরসা নিয়ে তৃণমূল ছেলেখেলা করে না। মানুষের বিশ্বাস ভাঙবে না তৃণমূল। ওঁর জন্য তৃণমূলের দরজা এদিন থেকেই বন্ধ করে দিলাম। একইসঙ্গে ভোট প্রচারে বেরিয়ে গদ্দার বলছেন, আমাকে জেতাও। পরে আমি তৃণমূলে যাব। কিন্তু গদ্দার জেনে রেখে দিন, সেই দরজা আপনার জন্য চিরতরে বন্ধ।