নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: দোল পূর্ণিমার কয়েকদিন পর ফের আবিরে রঙিন হয়ে উঠল হাওড়ার ডোমজুড়ের মাকড়দহ। প্রায় দুই শতকের রীতি মেনে রবিবার সকালে মাকড়চণ্ডী মন্দিরে পালিত হল দেবদোল বা পঞ্চমদোল উৎসব। সূর্যোদয়ের পর থেকেই মন্দির চত্বরে ভিড় জমাতে শুরু করেন এলাকার বাসিন্দারা। মায়ের চরণে আবির নিবেদন করে সেই আবির মেখেই দেবদোলে অংশ নেন ভক্তরা। শতাধিক মানুষের উপস্থিতিতে উৎসব মুখর হয়ে ওঠে গোটা এলাকা।
মন্দির পরিচালন সমিতির সম্পাদক সমীর চট্টোপাধ্যায় জানান, দোল পূর্ণিমার পঞ্চমীর রাতে মন্দিরে ‘চাঁচড়’ জ্বালানোর মধ্যে দিয়ে শুরু হয় উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা। রীতি অনুযায়ী ঢাক-ঢোল বাজিয়ে সাজানো চাঁচড় নিয়ে যাওয়া হয় মন্দিরের পিছনে সরস্বতী নদীর পাড়ে। সেখানে ‘ন্যাড়াপোড়া’ সম্পন্ন হওয়ার পর রাত প্রায় ১১টা থেকে শুরু হয় আতসবাজির প্রদর্শনী, যা গভীর রাত পর্যন্ত চলে। আগে এই বাজি পোড়ানো সারারাত চললেও বর্তমানে রাত তিনটের মধ্যেই তা শেষ করা হয়। রবিবার ভোর থেকেই দেবদোল উপলক্ষ্যে মন্দির প্রাঙ্গণে জমে ওঠে উৎসবের আবহ। ভক্তরা মায়ের পায়ে আবির নিবেদন করে সেই আবির মেখেই দোল খেলায় মেতে ওঠেন। স্থানীয়দের কাছে এই আচার ‘পঞ্চমদোল’ নামেই পরিচিত।
উৎসবকে ঘিরে মন্দির প্রাঙ্গণে বসেছে প্রায় পনেরো দিনের মেলা। আলোকসজ্জায় সেজে উঠেছে গোটা এলাকা। প্রতি বছরের মতো এবারও দূর-দূরান্ত থেকে বহু মানুষ মেলা ও দেবদোল দেখতে মাকড়দহে ভিড় জমিয়েছেন। ইতিহাস বলছে, একসময় মার্টিন রেল চালু থাকাকালীন সেই ট্রেনে চেপেই বহু মানুষ এই উৎসবে অংশ নিতে এখানে আসতেন।
মন্দির সূত্রে জানা গিয়েছে, ১২২৮ বঙ্গাব্দে মহিয়াড়ির কুণ্ডু চৌধুরী বংশের জমিদাররা মন্দিরটি সংস্কার করেন। সেই সময় থেকেই মায়ের পায়ে আবির নিবেদন করে পঞ্চমদোল উৎসব পালন করা হচ্ছে। আজও এই প্রথা অব্যাহত রয়েছে। নিজস্ব চিত্র