কিয়েভ: ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে চলতি সংঘর্ষে ইতি টানতে উদ্যোগী মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দুদিন আগেই আলাস্কায় রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। যদিও সেই হাইভোল্টেজ বৈঠকে মেলেনি সমাধানসূত্র। এই আবহে আজ সোমবার ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনায় বসবেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভোলোদামির জেলেনস্কি। ফেব্রুয়ারির পর এই প্রথমবার ওয়াশিংটন সফরে যাচ্ছেন জেলেনস্কি। তবে এবার তিনি একা নন। সঙ্গে থাকবেন ইউরোপের নেতারা। রবিবার একথা জানিয়েছেন ইউরোপিয়ান কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেয়েন। এক্স হ্যান্ডলে তিনি লেখেন, ‘প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির অনুরোধে কাল হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে উপস্থিত থাকব। সঙ্গে থাকবেন ইউরোপের অন্য কয়েকজন নেতাও।’এরইমধ্যে এই বৈঠকের আগে ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্পের একটি বার্তা ঘিরে জল্পনা তৈরি হয়েছে। ওই পোস্টে তিনি লিখেছেন, রাশিয়া নিয়ে বড়সড় অগ্রগতি হয়েছে। এব্যাপারে অবশ্য বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।
এরইমধ্যে ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকোফ আলাস্কা বৈঠক সম্পর্কে বিস্তারিত জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ওই বৈঠকে ইউক্রেনকে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তার ব্যাপারে নিশ্চয়তা দেওয়ার ব্যাপারে সহমত হয়েছেন ট্রাম্প ও পুতিন। এই বিষয়টিকে পরিস্থিতির মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার মতো বলে দাবি করেছেন তিনি।
দীর্ঘদিন ধরে যুদ্ধবিরতির শর্ত হিসেবে দোনেৎস্ক অঞ্চল রাশিয়াকে ছেড়ে দেওয়ার কথা বলে আসছেন পুতিন। যদিও সেই প্রস্তাব উড়িয়ে দিয়েছেন জেলেনস্কি। পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের পর ট্রাম্প জেলেনস্কির উদ্দেশে বার্তা দিয়েছিলেন, ইউরোপীয় নেতাদের নিয়ে রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ থামানোর চুক্তি করে ফেলুন। তারপরেই আমেরিকা সফরের ঘোষণা করেন জেলেনস্কি। এর আগে গত ফ্রেব্রুয়ারিতে ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে রীতিমতো চাপের মুখে পড়েন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট। ইউরোপীয় নেতাদের অনুমান, এবারও জেলেনস্কির উপর চাপ তৈরি করতে পারেন ট্রাম্প। ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা, অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতেই জেলেনস্কির পাশে থাকবেন ইউরোপীয় নেতারা।