সুকান্ত বসু, কলকাতা: উত্তর কলকাতার টালা বারোয়ারির পুজো মণ্ডপে এবার দেখা মিলবে মধুবনি লোকশিল্পের। প্রাকৃতিক রঙের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে ওই শিল্পসম্ভারকে। অন্যদিকে, টালাপল্লির সাধারণ দুর্গোৎসব সমিতির পুজোয় এবারের ভাবনা ‘তেজস্ক্রিয়’। পৃথিবী সৃষ্টির অন্যতম কারিগর সূর্য। আর তার তেজ পৃথিবীর শক্তি সঞ্চারের অন্যতম কারণ। মানব জীবনে তাকে যেভাবে প্রতিদিন কাজে লাগানো হয়েছে, সেই ভাবনাকেই নানা মডেল এবং বিভিন্ন সামগ্রী দিয়ে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে মণ্ডপে।
টালা বারোয়ারির পুজো এবার ১০৫তম বর্ষে পড়ল। উত্তর কলকাতার বনমালী চ্যাটার্জি স্ট্রিটে শিল্পী প্রশান্ত পালের ভাবনা ও উপস্থাপনায় এবারের থিম ‘মধু‑সদন’। পুজো প্যান্ডেলে প্রবেশ করলে মনে হবে, শহরের কোনও আর্ট গ্যালারি। সেখানে মণ্ডপের চারধারে লোহা, প্লাই, কাঠ, বাঁশ, পেনের নিব সহ নানা সামগ্রী দিয়ে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে মধুবনি শিল্পের নানা কথা ও কাহিনি। চোখ ফেরানোর উপায় নেই। মণ্ডপের পাশাপাশি দুর্গা প্রতিমাতেও তুলে ধরা হয়েছে ভারতীয় শিল্পকলার এই ঘরানা। ব্যবহার করা হয়েছে নানা প্রাকৃতিক রং। নানা নকশায় ফুটিয়ে তোলা হয়েছে পৌরাণিক এই শিল্প কাহিনিকে। মণ্ডপের নানা প্রান্তজুড়ে লৌকিক দেব‑দেবী, সূর্য, দুর্গাপুজোর মতো নানা সামাজিক উৎসবের ছবি তুলে ধরা হয়েছে। পুজো কমিটির অন্যতম দুই কর্তা ত্রম্বক বসু ও অভিষেক ভট্টাচার্য বলেন, এই প্রাচীন শিল্পটিকে মিথিলা চিত্রকলা বলা হয়ে থাকে। বিহারের মধুবনি জেলায় এই শিল্পের প্রচলন ব্যাপকভাবে দেখা যায়। ভারতীয় এই স্মরণীয় শিল্পকলাকে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দিতে এবং তার ইতিহাস তুলে ধরতেই এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। আমাদের আশা, দর্শকদের ভালো লাগবে পুজো মণ্ডপ।
অন্যদিকে, টালাপল্লি সাধারণ দুর্গোৎসব সমিতির পুজো এবার পড়ল ৭৮তম বর্ষে। প্রতিমা শিল্পী প্রদীপ রুদ্র পাল। মণ্ডপের প্রবেশ পথে প্লাইউড সহ নানা সামগ্রী দিয়ে তৈরি হয়েছে বিশাল একটি গোলাকৃতি সূর্য। মানবকল্যাণে সূ্র্য শক্তি থেকে আমরা কী কী উপকার পেয়ে থাকি, তার একটি পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে উত্তর কলকাতার এই মণ্ডপজুড়ে। সেখানে এই সূর্য শক্তিকে অপব্যবহার করার ফলে মানব জীবনে কি ক্ষতির সন্মুখীন হতে পারে, সেই বার্তাকেই আলো‑ধ্বনি ও মডেলের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে শিল্পী অনুভব দত্তের চিন্তন ও ভাবনায়। উদ্যোক্তাদের বক্তব্য, সকল শুভ শক্তিকে যেন আমরা সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারি, সেই বার্তাও এখানে ধ্বনিত হবে বিভিন্ন মাঙ্গলিক স্তোত্রের মাধ্যমে। মণ্ডপে ঢুকে দেখা গেল, সেখানে দিনরাত এক করে চলছে সাজিয়ে তোলার কাজ। পুজো কমিটির এক কর্তা বলেন, বিশ্বজুড়ে প্রতিনিয়ত চলছে প্রযুক্তির নানা উন্নয়ন। সেই উন্নয়নকে ভিত্তি করেই আমাদের এবারের ভাবনা ‘তেজস্ক্রিয়’।