আজকের দিনেই চন্দ্রপৃষ্ঠে পা রাখেন আর্মস্ট্রং ও অলড্রিন। কেন শুরু হল চন্দ্র দিবস পালন, জানালেন অনির্বাণ রক্ষিত
আজকের দিনেই চন্দ্রপৃষ্ঠে পা রাখেন আর্মস্ট্রং ও অলড্রিন। কেন শুরু হল চন্দ্র দিবস পালন, জানালেন অনির্বাণ রক্ষিত
ছোটবেলা থেকেই চাঁদের সঙ্গে আমাদের নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। শিশুমনে যতই দুঃখ থাকুক না কেন চাঁদের মিষ্টি মুখের দিকে তাকালে এক নিমেষেই যেন সব দুঃখ ঘুচে যায়। এছাড়াও চাঁদের বুড়ির চরকা কাটার মতো নানা কাহিনি আজও বাচ্চা ঠাকুরমা-দিদিমার কাছে শোনে। ‘আয় আয় চাঁদ মামা টি দিয়ে যা’ কিংবা ‘চাঁদ উঠেছে ফুল ফুটেছে’-এর মতো অসংখ্যা ছড়া ও কবিতায় বাঙালি চাঁদকে ছন্দ দিয়ে সাজিয়েছেন। আর আজ, অর্থাৎ ২০ জুলাই এই চাঁদেরই দিন। কারণ চাঁদ, এখন আর কবিতায়, গানে কিংবা ছন্দেই শুধু সীমাবদ্ধ নেই, তার আলোয় বিজ্ঞানকেও আলোকিত করে ফেলেছে। মানুষের মনে এবার সত্যিই সত্যিই চাঁদে বাড়ি বানানোর বাসনা জাগছে।
কেন পালিত হয় চন্দ্র দিবস?
১৯৬৯ সালের ২০ জুলাই দুই মার্কিন নভশ্চর নীল আর্মস্ট্রং ও এডুইন অলড্রিন চাঁদের মাটিতে পা রেখে ইতিহাস তৈরি করেন। প্রথম মানুষের চন্দ্র বিজয়। মানব সভ্যতার কাছে এটি একটি ঐতিহাসিক দিন। তাই দিনটিকে স্মরণে রাখতে ২০২১ সাল থেকে রাষ্ট্রসঙ্ঘ আন্তর্জাতিক চন্দ্র দিবস পালন করে আসছে। এই দিনে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার অ্যাপোলো-১১ মহাকাশযান চাঁদে পৌঁছেছিল। আর্মস্ট্রং ও অলড্রিন যেখানে অবতরণ করেন সেই স্থানটির নামকরণ করা হয় ট্রানকুইলিটি বেস। তারপর কেটে গিয়েছে বহু বছর। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ তাদের নিজস্ব প্রযুক্তি দিয়ে গবেষণা করেছে চাঁদের বুকে। চাঁদের পরিবেশ, আবহাওয়া এবং অন্যান্য বৈশিষ্ট্য এখন অনেকটাই স্পষ্ট হয়েছে বিশ্ববাসীর কাছে।
চাঁদের মাটিতে ভারতের অবদান
চাঁদ সংক্রান্ত গবেষণায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে ভারত। ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা (ইসরো) চন্দ্রযান মিশনের মাধ্যমে ইতিহাস তৈরি করেছে। চন্দ্রযান-১ ছিল চাঁদে ভারতের প্রথম অভিযান। ২০০৮ সালের ২২ অক্টোবর শুরু হয়েছিল এই মিশন। পিএসএলভি রকেটের সাহায্যে চন্দ্রযান উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল। ৮ নভেম্বর চাঁদের কক্ষপথে সফলভাবে প্রবেশ করে চন্দ্রযান-১। ২০০৯ সালের ২৯ আগস্ট চন্দ্রযান-১-এর অরবিটারের সঙ্গে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয় ইসরোর। তবে মিশনের প্রাথমিক শর্ত পূর্ণ করেছিল চন্দ্রযান-১। এই মিশনের মাধ্যমেই প্রথম চাঁদে জলের উপস্থিতি টের পাওয়া গিয়েছিল।
এরপর ২০১৯ সালের ২২ জুলাই চাঁদের দিকে উড়ে গিয়েছিল চন্দ্রযান-২। সূচনা হয়েছিল ইতিহাসের এক নতুন অধ্যায়ের। চাঁদ নিয়ে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার উদ্দেশ্য ছিল এই মিশনের। বিশেষত চাঁদের খনিজ শনাক্তকরণ, চন্দ্রপৃষ্ঠের রাসায়নিক গঠন এবং উপরের অংশের থার্মো-ফিজিক্যাল বৈশিষ্ট্যের তথ্য অন্বেষণের মাধ্যমে চাঁদ সম্পর্কিত আমাদের জ্ঞানকে আরও প্রসারিত করাই ছিল লক্ষ্য। বহুদিন ধরেই বিজ্ঞানীরা এই মিশনের জন্য প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। অধ্যয়ন করা হয়েছিল খুঁটিনাটি বিষয়গুলিও। কিন্তু শেষ মুহূর্তে ঘটে অঘটন। হাজার পরিশ্রমের পরেও ব্যর্থ হয় চন্দ্রযান-২ মিশন।
অবশেষে, চন্দ্রযান-৩ সফল হয়। এই সাফল্যের সঙ্গে সঙ্গে দু’টি ইতিহাস ছুঁয়েছে ভারত। এক, চতুর্থ দেশ হিসেবে চাঁদে মহাকাশযান নামিয়েছে। এর আগে কেবল রাশিয়া, আমেরিকা ও চীন এই কাজটি সফলভাবে করতে পেরেছিল। তিন বারের প্রচেষ্টায় চাঁদের মাটি ছুঁতে পারল ভারত। দুই, ভারতই প্রথম দেশ, যে চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে পা রাখল। এর আগে কোনও দেশ এই কৃতিত্ব অর্জন করতে পারেনি। চাঁদের দক্ষিণ মেরুটি এত দিন অনাবিষ্কৃত ছিল।