নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পুজোর উৎসবের গোড়াতেই বঙ্গোপসাগরে যে গভীর নিম্নচাপটি তৈরি হয়েছিল সেটি পশ্চিমবঙ্গ উপকূলের অনেক দূরে দক্ষিণ ওড়িশার গোপালপুর লাগোয়া এলাকা দিয়ে শনিবার পঞ্চমীর ভোরবেলাতেই স্থলভূমিতে ঢুকে পড়েছিল। অনেক দূরে অবস্থানের জন্য রাজ্যের উপর সরাসরি এই নিম্নচাপটির কোনও প্রভাব পড়েনি। কিন্তু পুজোর শেষ পর্বে ১ অক্টোবর মহানবমীর দিন বঙ্গোপসাগরে যে নিম্নচাপটি তৈরি হচ্ছে সেটি পশ্চিমবঙ্গ উপকূলের আরও কাছে আসবে বলেই মনে করছেন আবহাওয়াবিদরা। এই কারণেই ২ অক্টোবর বৃহস্পতিবার বিজয়া দশমীর দিন কলকাতা, দুই ২৪ পরগনা, হাওড়া, হুগলি, নদীয়া ও দুই মেদিনীপুর জেলার কোথাও কোথাও ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর। দক্ষিণ ২৪ পরগনার কোনও কোনও জায়গায় অতিভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকায় সেখানে ‘কমলা’ সতর্কতা জারি করা হয়েছে ওইদিন। পরদিন শুক্রবারও পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলি ছাড়াও পূর্ব বর্ধমান, বীরভূম ও মুর্শিদাবাদ জেলার কোথাও কোথাও ভারী বৃষ্টি হতে পারে। ওইদিন ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির ‘কমলা’ সতর্কতা জারি করা হয়েছে উত্তর বঙ্গের হিমালয় লাগোয়া পাঁচটি জেলাতেই। উত্তরবঙ্গের ওই অংশে ভারী বৃষ্টি শনিবার চলতে পারে বলে মনে করছেন আবহাওয়াবিদরা।
আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবারই উত্তর আন্দামান সাগরে একটি ঘূর্ণাবর্ত তৈরি হবে। এর প্রভাবে বুধবার নবমীর দিন উত্তর ও লাগোয়া মধ্য বঙ্গোপসাগরের উপর একটি নিম্নচাপ তৈরি হবে। ওই নিম্নচাপটির পরবর্তী গতিপ্রকৃতির ব্যাপারে কোনওকিছু রবিবার পর্যন্ত জানায়নি আবহাওয়া দপ্তর। তবে দীর্ঘকালীন পূর্বাভাসে ইতিমধ্যেই বলা হয়েছে এটিও শক্তি বাড়িয়ে গভীর নিম্নচাপ হতে পারে। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাঞ্চলীয় অধিকর্তা হবিবুর রহমান বিশ্বাস জানিয়েছেন, এই নিম্নচাপটি ওড়িশা-পশ্চিমবঙ্গ উপকূলের দিকে আসতে পারে, এমন সম্ভাবনা আছে। তাই ওইসময়ে বেশি বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। নবমীর রাত থেকেই দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির মাত্রা বাড়তে পারে। কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দপ্তর পশ্চিমবঙ্গ ছাড়াও ওড়িশার জন্য ১-৩ অক্টোবর সময়ে ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করেছে।
দক্ষিণ ওড়িশা দিয়ে স্থলভূমিতে ঢোকা নিম্নচাপটি রবিবার দুর্বল হয়ে মহারাষ্ট্রের বিদর্ভ এলাকার উপর ছিল। এটি গুজরাতে আরব সাগর পর্যন্ত যাবে বলে আশা করছেন আবহাওয়াবিদরা। এই নিম্নচাপের পরোক্ষ প্রভাবে দক্ষিণবঙ্গে কিছুটা বেশি পরিমাণ জলীয় বাষ্প প্রবেশ করেছে। চড়া রোদ ওঠার জন্য রবিবার মহাষষ্ঠীর দিনও কলকাতাসহ বিভিন্ন জেলায় জলীয় বাষ্প ঘনীভূত হয়ে বিক্ষিপ্তভাবে বজ্রগর্ভ মেঘ থেকে বৃষ্টি হয়েছে। আজ সপ্তমী থেকে নবমী পর্যন্ত বজ্রগর্ভ মেঘ থেকে কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি হতে পারে।