সৌম্যজিৎ সাহা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের টাকা খরচ ও কাজের গুণমান বৃদ্ধির জন্য গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য পঞ্চায়েত দপ্তর। রাস্তাঘাট, পানীয় জলের ব্যবস্থা হোক বা নিকাশি পরিকাঠামো—পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের টাকায় গ্রামের যেকোনও কাজ করতে গেলে এবার থেকে তা ন্যূনতম দু’লক্ষ টাকার হতে হবে। এতদিন পঞ্চায়েতগুলি নিজেদের মতো করে অল্প টাকার অনেকগুলি প্রকল্প হাতে নিত। এর ফলে কাজের মান সন্তোষজনক হতো না। একই প্রকল্পের জন্য বারবার টাকা খরচ করতে হতো। তাই ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষ থেকে পঞ্চায়েতগুলিকে এমন প্রকল্প গ্রহণ করতে হবে, যার খরচ পড়বে ২ থেকে ৫ লক্ষ টাকা। দু’লক্ষ টাকার নীচে কোনও প্রকল্প নেওয়া যাবে না। ইতিমধ্যে মৌখিকভাবে রাজ্যের সব ব্লককে বিষয়টি জানিয়েছে দপ্তর। শীঘ্রই এই মর্মে নির্দেশিকা জারি হতে চলেছে বলে খবর। তবে কোনও কাজের ক্ষেত্রে কম টাকা লাগলে তা নির্দিষ্টভাবে খতিয়ে দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন এক আধিকারিক। প্রসঙ্গত, আগামী অর্থবর্ষে রাজ্য পঞ্চদশ অর্থ কমিশন থেকে প্রায় সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা পেতে চলেছে।
Advertisement
কেন এমন নিয়ম? জানা গিয়েছে, গ্রাম পঞ্চায়েতগুলি কী ধরনের কাজ করছে এবং কত টাকার প্রকল্প বাস্তবায়িত করছে, এসব নিয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করেন দপ্তরের আধিকারিকরা। তাতে দেখা যায়, কেউ ৫০ হাজার টাকায় যতটা রাস্তার কাজ করেছে। কেউ ২০ হাজার টাকায় করেছে সমপরিমাণ রাস্তার কাজ। ফলে দু’টি ক্ষেত্রে কাজের গুণমান একই না থাকাটাই স্বাভাবিক। কিছু পঞ্চায়েত নতুন রাস্তা বা পানীয় জলের ব্যবস্থা করতে গিয়ে এক লক্ষ টাকার প্রকল্পও হাতে নিয়েছে। এখানেই আপত্তি দপ্তরের। কারণ, তাদের পর্যবেক্ষণ, কম টাকায় কাজ করালে তা দীর্ঘমেয়াদি হচ্ছে না। কয়েকদিনের মধ্যেই রাস্তাঘাট ভেঙে যাচ্ছে। পানীয় জলের কল বিকল হয়ে পড়ছে। ফলে বারবার একই প্রকল্পের জন্য টাকা ব্যয় করতে হচ্ছে সংশ্লিষ্ট পঞ্চায়েতকে। শুধু তাই নয়, বছর শেষে যে পরিমাণ টাকা খরচ করার কথা, তাও হয়ে উঠছে না। তাই বড় অঙ্কের টাকার কাজ হাতে নেওয়ার জন্য পঞ্চায়েতগুলিকে কার্যত বাধ্য করা হবে। এর পাশাপাশি, পঞ্চায়েত সমিতিকে ন্যূনতম ৫ থেকে ২০ লক্ষ টাকার একেকটি কাজ নিতে হবে এবং জেলা পরিষদের ক্ষেত্রে সেটা নূন্যতম ২০ লক্ষ টাকা। পঞ্চদশ অর্থ কমিশনের ২০২৪-২৫ আর্থিক বছরের শেষ কিস্তির প্রায় ১৭০০ কোটি টাকা ইতিমধ্যে এসে গিয়েছে রাজ্যের কাছে। খুব শীঘ্রই তা বণ্টন করা হবে।



