Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

৪০ লক্ষ গায়েব, ওড়িশা থেকে অভিযুক্ত ধৃত

৪০ লক্ষ গায়েব, ওড়িশা থেকে অভিযুক্ত ধৃত
  • ৩০ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: পুলিস আধিকারিকের ভুয়ো পরিচয় দিয়ে আর্থিক প্রতারণার অভিযোগ উঠল। পুলিসে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নাম করে সিউড়ির এক বাসিন্দার কাছ থেকে ৪০ লাখেরও বেশি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনায় সিউড়ি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়। এরপরই সিউড়ি থানার পুলিস ও সাইবার ক্রাইম একযোগে তদন্ত শুরু করে। অভিযুক্তকে ওড়িশা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। ধৃতের নাম কানাই পাত্র। সে ওড়িশার বাসিন্দা। বুধবার ধৃতকে আদালতে তোলা হয়। মামলাকারীর আইনজীবী অনিন্দ্য সিংহ বলেন, বিচারক অভিযুক্তকে জেল হেপাজতের নির্দেশ দেন। 
Advertisement
জানা গিয়েছে, বেসরকারি ইনসিওরেন্স কোম্পানিতে কর্মরত সিউড়ির এক বাসিন্দার সঙ্গে ফেসবুক মাধ্যমে ওই প্রতারকের পরিচয় হয়। শুরুতেই নিজেকে সিবি-সিআইডি (এডিজিপি) হিসেবে পরিচয় দেয় সে। ফেসবুক অ্যাকাউন্টে সে নিজের আসল নাম গোপন রেখে জি কে পাত্র হিসেবে পরিচয় তুলে ধরেছিল। আলাপ শুরু হতেই সিউড়ির বাসিন্দার ছেলেকে পুলিসে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়ে সে বলে, তার জন্য কিছু টাকা খরচ করতে হবে। প্রতারকের কথায় আশ্বস্ত হয়ে ছেলের চাকরির জন্য ১৫০ টাকা দিয়ে তার কাছ থেকে একটি ফর্ম সংগ্রহ করেন। অভিযোগ, এরপরই প্রথম ধাপে ৫০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। রেকমেন্ডেশনের জন্য প্রসেসিং ফি বাবদ তা চাওয়া হয়েছিল। ছেলের ভবিষ্যতের কথা ভেবে সেই টাকা পাঠানো হয়। এরপরই নানা অজুহাতে বিভিন্ন সময় টাকা আদায় করা হয়। সর্বোচ্চ ৯৬ হাজার ৫০০ টাকা একযোগে আদায় করার অভিযোগও রয়েছে। সব মিলিয়ে মোট টাকার পরিমাণ ৪০ লাখেরও বেশি। ঘটনায় সন্দেহ দানা বাঁধতেই প্রতারককে একাধিক প্রশ্ন করা হলে পাল্টা হুমকি দেওয়া হয়। এমনকী বিষয়টি নিয়ে পুলিস মহলের সঙ্গে যোগাযোগ না করার কথাও জানানো হয়েছিল। যদিও শেষ পর্যন্ত সিউড়ি থানায় লিখিতভাবে অভিযোগ দায়ের হয়। 
ছেলের ভবিষ্যত গড়তে গিয়ে প্রতারকের খপ্পরে পড়ে ওই বাসিন্দা দিশাহারা হয়ে পড়েছেন। তিনি বলেন, ফেসবুক প্রোফাইল দেখে প্রতারক কি না, তা বোঝার উপায় ছিল না। প্রাথমিকভাবে বড় মাপের পুলিস কর্তা বলেই মনে হয়েছিল। ওই ব্যক্তি নিজেই আমার ছেলেকে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দেয়। চাকরি পাইয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে রেকমেন্ডেশন করার বিষয় জানিয়েছিল। আবেদনকারী যুবক বলেন, আমাদের সন্দেহ হওয়ায় প্রশ্ন করি। সেসময় জানানো হয়েছিল বিষয়টি কাউকে জানানো হলে মানহানি মামলা করা হবে। 
জেলা পুলিস সুপার আমনদীপ বলেন, এই ঘটনায় আর কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সেইসঙ্গে টাকা উদ্ধারের চেষ্টাও চলছে।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ