নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বুধবার বিকেল পাঁচটা। যুবভারতীর প্র্যাকটিস গ্রাউন্ডে আইএসএল ফাইনালের প্রস্তুতিতে নেমে পড়ল মোহন বাগান। অনুশীলনের শুরুতেই সেন্টার সার্কেলে দাঁড়িয়ে বাঁশি বাজালেন কোচ হোসে মোলিনা। মাঠের মধ্যে ছড়িয়ে থাকা ফুটবলাররা কালবিলম্ব না করেই কোচকে ঘিরে ধরলেন। এরপর সকলকে ফাইনালে ওঠার শুভেচ্ছা জানিয়ে মিনিট পাঁচেকের ছোট্ট মিটিং। পেপটক বলাই ভালো। আর তাতেই বদলে গেল লিস্টন, শুভাশিসদের বডি ল্যাঙ্গুয়েজ। মোলিনা ভালোই জানেন, বেঙ্গালুরুর বিরুদ্ধে এই ম্যাচ আদতে স্নায়ুর লড়াই। মাথা ঠান্ডা রেখে পরিকল্পনামাফিক খেললে জয় নিশ্চিত। কারণ, তাঁর হাতে রয়েছে একাধিক ম্যাচ উইনার। তাই মনবীরদের উজ্জীবিত রাখাই এখন সবচেয়ে বড় কাজ মোলিনার।
অতীতে বেঙ্গালুরুর বিরুদ্ধে খেতাবি লড়াইয়ে মোহন বাগানের সাফল্যের রেকর্ড বেশ ঈর্ষণীয়। ২০১৫ সালে ক্লান্তিরাভা স্টেডিয়ামে বেলো রজ্জাকের হেডে বেঙ্গালুরুর বিরুদ্ধে ড্র করে আই লিগ জিতেছিল সবুজ-মেরুন। দু’বছর আগে গোয়ার ফাতোরদা স্টেডিয়ামে সুনীলদের টাই-ব্রেকারে হারিয়েই আইএসএল চ্যাম্পিয়ন হয় হুয়ান ফেরান্দো-ব্রিগেড। ২০১৭ সালে অবশ্য ফেডারেশন কাপের ফাইনালে বেঙ্গালুরুর কাছে হারের স্বাদ পায় মোহন বাগান। কিন্তু সেই পরিসংখ্যান ভুলে সাফল্যের ধারাবাহিকতা আরও মজবুত করতে মরিয়া হোসে মোলিনা ব্রিগেড।
চলতি মরশুমে গ্রুপ লিগের প্রথম ম্যাচে কান্তিরাভায় তিন গোল হজম করেন দিমিত্রি পেত্রাতোসরা। ফিরতি লেগে অবশ্য লিস্টনের দুরন্ত গোলে জয় ছিনিয়ে নেয় মোহন বাগান। তবে শনিবার ফাইনালের আগে সুনীলদের হাল্কাভাবে নিতে নারাজ লিস্টনরা। বুধবার অনুশীলন শেষে গোয়ানিজ উইঙ্গার বলেন, ‘বেঙ্গালুরু কঠিন প্রতিপক্ষ। তাই শুধু সুনীলকে নিয়ে ভাবলে চলবে না। গোটা দলটাকে নিয়েই পরিকল্পনা করছেন কোচ। ফাইনালে আমি গোল না পেলেও চলবে। তবে দলের চ্যাম্পিয়ন হওয়া জরুরি।’
বুধবার মূলত ফুটবলারদের রিকভারির দিকেই নজর দেন কোচ মোলিনা। জামশেদপুরের বিরুদ্ধে খেলা প্রথম একাদশের ফুটবলাররা স্রেফ দৌড় ও স্ট্রেচিংয়েই প্রস্তুতি সারলেন। বাকিদের নিয়ে দীর্ঘক্ষণ ছোট জায়গার মধ্যে চলে ম্যাচ সিচুয়েশন অনুশীলন। সেই দলে ছিলেন মনবীর। জামশেদপুরের বিরুদ্ধে শেষ দিকে পরিবর্ত হিসেবে মাঠে নেমেছিলেন তিনি। এদিনও প্রায় আধঘণ্টা গা ঘামালেন পাঞ্জাবি উইঙ্গার। এদিন অনুশীলনে এসেছিলেন আশিক কুরুনিয়ান। বিন্দুমাত্র জড়তা ছিল না তাঁর মধ্যে। তবে হাল্কা অনুশীলনেই এদিন নিজেকে গুটিয়ে রাখেন তিনি। টিম ম্যানেজমেন্টের বিশ্বাস, ফাইনালে দুই ফুটবলারকেই পাওয়া যাবে। সেক্ষেত্রে মনবীর-লিস্টন জুটিতেই আস্থা রখবেন মোলিনা।