


সঞ্জয় গঙ্গোপাধ্যায়, বারাকপুর: শ্যুটআউটের ঘটনা লেগেই রয়েছে বারাকপুর শিল্পাঞ্চলে। কখনো ভাটপাড়া, কখনো নৈহাটি, কখনো টিটাগড়, কখনো বা বেলঘড়িয়া। নৈহাটিতে তৃণমূল কর্মী খুনের ঘটনার পর বারাকপুরের পুলিস কমিশনারকে বদলি হতে হয়েছে। গত শনিবার বেলঘড়িয়া শ্যুটআউটের পর রীতিমতো নাড়াচাড়া পড়ে গিয়েছে। গত বাইশে জানুয়ারি বারাকপুর আদালতের অদূরেই ভরদুপুরে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন এক যুবক। ওই ঘটনায় অপরাধীরা গ্রেপ্তার হয়েছে। বারাকপুর শিল্পাঞ্চলে গত কয়েক বছর ধরে যারা অপরাধের সঙ্গে যুক্ত তাদের লম্বা তালিকা করা হয়েছে। যা প্রায় শ তিনেকের বেশি। সব অপরাধীদের জেলের ভেতরে ঢোকানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে শাহজাদার মতো ড্রাগ মাফিয়া পুলিসের কবজায় রয়েছে। যার বিরুদ্ধে একাধিক খুন, তোলাবাজি, মাদক কারবারের অভিযোগ রয়েছে। তার সঙ্গীদেরও খোঁজ শুরু করেছে পুলিস।
বর্তমান পুলিস কমিশনের অজয় ঠাকুর প্রত্যেকটি থানাকে কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন, অপরাধের সঙ্গে যুক্ত কাউকে ছাড়া হবে না। সে যে রাজনৈতিক দলের হোক না কেন। এমনকি অপরাধের সমস্ত রিপোর্ট রাজ্য পুলিসের ডিজি রাজীব কুমারকেও পাঠাতে হবে বলে দেওয়া হয়েছে।
বিহারের গ্যাংস্টার সুবোধ সিং বর্তমানে প্রেসিডেন্সি জেলে বন্দি। তার হয়ে যারা তোলাবাজির কাজে যুক্ত তাদের গ্রেফতার করার জন্য বারাকপুর পুলিস কমিশনারেটের গোয়েন্দারা সক্রিয় রয়েছেন। ইতিমধ্যে টিটাগড় এলাকা থেকে দুজনকে তুলে নিয়েছেন গোয়েন্দারা। বাকিদেরও তালিকা তৈরি হয়ে গিয়েছে বলে পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে।
সব থানা মিলিয়ে তিনশোর বেশি অপরাধী বিভিন্ন ধরনের অপরাধের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে। তাদের তালিকা করে নিয়মিত থানায় হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বারাকপুর শিল্পাঞ্চল জুড়ে "ভাইয়ারাজ" বন্ধ করতে ইতিমধ্যে কোথাও হেঁটে কোথাও বা বৈঠক করে মানুষের মনোবল বৃদ্ধির ব্যাপারে উদ্যোগী হয়েছেন বারাকপুরের পুলিস কমিশনার অজয় ঠাকুর। হোলি এবং ঈদ উৎসব যাতে নির্বিঘ্নে হয় তার জন্য প্রতিটি থানাকে তিনি বিশেষ নির্দেশ দিয়েছেন। মোটর বাইকে করে পুলিস অফিসাররা বিভিন্ন এলাকায় টহলদারি শুরু করেছেন। ক্রাইম কন্ট্রোলের জন্য সাদা পোশাকের পুলিশের বিশেষ টিম (পুলিসের পরিভাষায় যাদের পি সি পার্টি বলা হয়) তাদের আরো সক্রিয় হতে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। গোটা বারাকপুর শিল্পাঞ্চল জুড়ে পর পর শ্যুট আউটে ত্রস্ত সাধারণ মানুষ। চায়ের দোকানে চা খেতে গিয়ে গুলি খেতে হয়েছে বেলঘরিয়ায়। স্বাভাবিকভাবে উদ্বিগ্ন বারাকপুরবাসি। তাই সব স্তরের অপরাধীকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিয়েছেন পুলিস কমিশনার। এখন দেখার অশান্ত বারাকপুর শিল্পাঞ্চল শান্ত হয় কিনা।